ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ 400 খাওয়ার নিয়ম
আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক বন্ধুরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী ই ক্যাপ ক্যাপসুল এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। ভিটামিন-ই শরীরে কোষগুলিকে সতেজ রাখতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে। এছাড়াও ই ক্যাপ ক্যাপসুল মূলত ভিটামিন ই মুখে খাওয়া হয় এবং প্রয়োজনে বাহ্যিক ভাবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই আজকে আমরা ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ খাওয়ার নিয়ম বিষয়ে জানব।
![]() |
ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ খাওয়ার নিয়ম |
ই ক্যাপ এর উপকারিতাঃ
ই ক্যাপ আমাদের শরীরকে সতেজ রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমাদের আজকের আর্টিকেলের এই পর্বে আমরা আপনাদের জানাবো ই ক্যাপ এর উপকারিতা সম্পর্কে। চলুন নিম্নে জেনে নেওয়া যাক ই ক্যাপ উপকারিতা গুলো-
চুলের যত্নেঃ
ভিটামিন ই চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। যারা চুল পড়া সমস্যা ভুগে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এটি জাদুর মত কাজ করে। এটা আপনি যদি চুলে ব্যবহার করেন তবে আপনাকে মুখে খাওয়ার পাশাপাশি আপনার মাথার ব্যবহার্য তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে হবে। চলে ব্যবহার করা দুই থেকে তিন ঘন্টা পর মাথা শ্যাম্পু করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এভাবে সপ্তাহে দুই দিন করে একমাস ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিঃ
ই ক্যাপ আমাদের শরীরকে সতেজ রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এতে এমন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের ত্বক এবং মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে ই ক্যাপ মুখে খাওয়া যেতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিক ভাবে ব্যবহার করা হয়।
আরো পড়ুন:
ক্রিম হিসেবেঃ
আপনারা যারা নাইট ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন তাদের জন্য ভিটামিন-ই মশ্চারাইজিং হিসেবে বেশ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যবহৃত ক্রিম কিংবা লোশনের সাথে কয়েক ফোটা ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তরল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
রোদের ক্রিমঃ
আপনাদের যাদের বাইরের রোদে কাজ করে ত্বক কালো হয়ে গেছে, তাদের জন্য সেরা মশ্চারাইজিং হলো ভিটামিন ই। কুলিং ক্রিমের সাথে কয়েক ফোটা ভিটামিন ই ব্যবহার করলে খুব সহজেই রোদে পুড়ে কালো হওয়া থেকে দূরে থাকা যায়।
নখের যত্নেঃ
আপনার কি সারাদিন বাইরে কিংবা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সাংসারিক কাজ করার কারণে নখের ভঙ্গুরতা দেখা দিয়েছে? তবে আপনার জন্য একমাত্র ওষুধ হলো ভিটামিন ই ক্যাপ ক্যাপসুল। আপনি যদি নিয়মিত ক্যাপসুল এর তেল ভেঙে যাওয়া নখে মালিশ করেন, তবে আপনার নখ খুব তাড়াতাড়ি সতেজ হয়ে উঠবে।
বয়সের ছাপ দূর করতেঃ
প্রতিটা মানুষেরই বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বালিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ই ক্যাপ ক্যাপসুল এন্টি এজিং ক্রিম হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত যদি ঝুলে যাওয়া এবং কুঁচকে যাওয়া ত্বকে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল মালিশ করা হয় তাহলে উজ্জ্বলতা বাড়ার পাশাপাশি সব ধরনের বলিরেখা দূর হয়ে যাবে আপনার ত্বক থেকে।
ক্ষত সারাতেঃ
আপনার শরীরের ক্ষত নিরাময় করতেও ভিটামিন ই ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি নিয়মিত ই ক্যাপসুল সেবন করেন, তবে আপনার যে কোন ক্ষতস্থান খুব দ্রুত সরে উঠবে।
ভিটামিন ই এর অভাবঃ
ক্যাপসুল শরীরে ভিটামিন ই এর অভাবজনিত সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ করতে ক্যাপসুল ই যদি খেতে পারেন তবে আপনার শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ হবে।
ই ক্যাপ এর অপকারিতাঃ
সাধারণত ই ক্যাপ ক্যাপসুলে তেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং অপরিকারীতা দেখা যায় না। তবে অত্যধিক পরিমাণে ই ক্যাপ সেবন করলে আমাশয়সহ এলার্জিজনিত নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আমাদের আর্টিকেলের এই পর্বে আমরা আপনাদের জানাবো ই ক্যাপ এর অপকারিতা গুলো-
মাথাব্যথাঃ
কিছু ক্ষেত্রে ই ক্যাপ মাথা ব্যথা ও মাথা ঘুরার কারণ হতে পারে।
রক্ত পাতলা হওয়াঃ
রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে বিক্রিয়া করাতে পারে। তাই যারা রক্তপাতলা করার ঔষধ খান তাদের ই ক্যাপ খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য ঝুঁকিঃ
গর্ভবতী ও স্তন্যদান কারী মায়েদের ই ক্যাপ খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তারপর খাওয়া উচিত।
পেট খারাপঃ
ই ক্যাপ এর অতিরিক্ত ব্যবহারে পেট খারাপ, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্লান্তিঃ
ই ক্যাপ এর অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
এলার্জির প্রতিক্রিয়াঃ
কিছু ক্ষেত্রে ই ক্যাপ এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যেমন - ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি ও শ্বাসকষ্ট।
ই ক্যাপ 400 খাওয়ার নিয়ম:
ভিটামিন ই ( Vitamin E) হল আলফা টোকোফেরোল এসিটেট, যা আমরা ভিটামিন ই ক্যাপ নামে জানি।
ডোজেস ফর্ম: ক্যাপসুল।
ডোজেস স্ট্রেন্থ: ২০০ IU, ৪০০ IU এবং ৬০০ IU আই ইউ ।
ওষুধের মাত্রা ও সেবন বিধি: ই ক্যাপ 400 খাওয়ার নিয়ম
- হৃদরোগ রোগীদের জন্য নাইট্রেটের কার্যকারিতা উন্নত করতে: ভিটামিন ই ২০০ IU (আই ইউ) দৈনিক।
- বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের জন্য: ভিটামিন ই ৪০০ থেকে ৬০০ IU (আই ইউ) দৈনিক
- ডিমেনশিয়া রোগের জন্য বা অ্যালঝাইমার রোগের জন্য: ৮০০ থেকে ২০০০ IU (আই ইউ) দিনে এক বা দুইবার।
- পুরুষের বন্ধ্যাত্বের উন্নতির জন্য: ভিটামিন ই ২০০ থেকে ৬০০ IU (আই ইউ) দৈনিক।
- মাসিক সেন্ট্রোম এর জন্য: ভিটামিন ই ৪০০ আই ইউ দৈনিক রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ব্যথার জন্য ভিটামিন এ ৬০০ IU (আই ইউ) দৈনিক।
- ব্যথাদায়ক মাসিক সময়কালের জন্য: ভিটামিন ই ২০০ IU (আই ইউ) দৈনিক।
- চুল ও ত্বকের জন্য: ভিটামিন ই ২০০ থেকে ৪০০ IU ( আই ইউ) প্রতিদিন।
- থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য: ভিটামিন ই ৮০০ IU (আই ইউ) প্রতিদিন।
- বয়স্কদের ঠান্ডা জনিত সমস্যার জন্য: ভিটামিন ই ২০০ IU ( আই ইউ) প্রতিদিন।
- শিশুদের ভিটামিন ই এর অভাবের জন্য: ভিটামিন ই ২০০ IU (আই ইউ) প্রতিদিন
* বিশেষ দ্রষ্টব্য: শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন।
সর্বশেষ কথা: ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার নিয়ম
ই ক্যাপ হল ভিটামিন ই যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি সাধারণত বাদাম, সবুজ শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ থেকে পাওয়া যায়। ই ক্যাপ একটি ফ্যাট সলিউবল ভিটামিন, যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। ই ক্যাপ মানব দেহের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য একটি উপাদান যা আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমকে সতেজ রাখে এবং দেহ সুস্থ ও সবল থাকে।
প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনারা ই ক্যাপের উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ 400 খাওয়ার নিয়ম বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আজকের লেখাটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করে জানিয়ে দিতে পারেন। আর এরকম তথ্যবহুল লেখা আরো পেতে হলে সাথেই থাকুন। ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা - ই ক্যাপ 400 খাওয়ার নিয়ম লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url