ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় Fatty Liver

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায়আজকাল আপনারা অনেকেই ফ্যাটি লিভার হলে কি সমস্যা হয়-ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায় এ বিষয়ে জানতে চান। যারা ফ্যাটি লিভার দূর করার উপায়- বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি।
ফ্যাটি-লিভার-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়
ফ্যাটি-লিভার-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়। ছবি-এআই 
বর্তমান আধুনিক বিশ্বে রিচ ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রম বিহীন জীবন যাপন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। যার ফলে অন্যান্য জটিল রোগের পাশাপাশি ফ্যাটি লিভার রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ইদানিং ফ্যাটি লিভার একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সঠিক সময়ে চিহ্নিত করা না গেলে এই রোগ গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই আজকে আমরা এই ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে কিছু টিপস আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি।

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায়

সাধারণত আমাদের লিভারের কোষে খারাপ চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলে। এই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাবারের তালিকা এবং জীবন যাপনের ধরণের পরিবর্তন অবশ্যই আনতে হবে। তাহলেই হয়তো ফ্যাটি লিভার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তো চলুন বন্ধুরা ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো জেনে নিই।

১। আদা, পুদিনা পাতা এবং লেমন গ্রাসের পানীয়
২। ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো খাবার
৩। ফ্যাটি লিভারের জন্য মন্দ খাবার ও অভ্যাস।
চলুন এবার আমরা ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

১। আদা, পুদিনা পাতা এবং লেমন গ্রাসের পানীয়

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হল পুদিনা, লেমন গ্রাস এবং আদা থেকে তৈরি সংমিশ্রণ। প্রাকৃতিক এই উপাদানগুলো হজমে সাহায্য করে এবং লিভার প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য বহন করে। এগুলো ফ্যাটি লিভার রোগ দূর করার বেস্ট কার্যকরী উপাদান।

আদার স্বাস্থ্য গুণ

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে আদার কোন জুড়ি নেই। আদা অত্যন্ত সহজলভ্য এবং সারা বছর সবখানেই পাওয়া যায়। ফ্যাটি লিভার ওষুধের দামের চেয়ে তুলনামূলকভাবে আদার দাম অনেকটাই কম। আদার এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টি ইনফ্লামেন্টারি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা লিভার কে ফ্যাটি লিভার রোগ এর কারণে সৃষ্ট ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকর এবং রক্তে লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে ফলে আদা লিভারের স্বাস্থ্য কে ভালো রাখে। সুতরাং আদাকে ফ্যাটি লিভার দূর করার একটি ঘরোয়া উপায় মনে করতে পারেন।

পুদিনা পাতার স্বাস্থ্য গুণ

ফ্যাটি লিভার দূর করার উপায় হিসেবে পুদিনা ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনার পাতা প্রাকৃতিক ভাবে আমাদের আশেপাশে সবখানেই দেখা যায়। পুদিনা পাতা অত্যন্ত সহজলভ্য কিন্তু এর প্রাকৃতিক গুণ ফ্যাটি লিভারের জন্য বেশ কার্যকরী। কেননা পুদিনায় রয়েছে মেন্থল। এটি লিভারে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে দিতে পারে। যা তাতে থাকা লিভার প্রতিরক্ষা মূলক বৈশিষ্ট্যকে সাহায্য করে। পুদিনায় আদার মতো হজম শক্তি গুণ রয়েছে এবং ফ্যাটি লিভার রোগের লক্ষণ উপশম করতে পারে।

লেমন গ্লাসের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে আপনি লেমন গ্রাসের সাহায্য নিতে পারেন। কেননা লেমনগ্রাসে সিট্রাল এর মত যৌগ উপাদান রয়েছে, যা যকৃতের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে পারে। সেই সঙ্গে লেমন গ্রাস লিপিড বিপাক উন্নত করতে সাহায্য করে। যা ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুবই উপকারী এবং কার্যকরী। যেকোনো ধরনের কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, মদ্যপান অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

২। ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো খাবার

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে আপনি ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো খাবার যেমন, ফলমূল, শাকসবজি, শস্যদানা এবং চর্বি বিহীন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার মাছ বেছে নিতে পারেন। কেননা ফ্যাটি লিভার রোগ পরিচালনায় ডায়েট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই ভালো খাবার গুলো আপনার লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার

গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলমূল শাকসবজি এবং খাবারে অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টারি গুণ রয়েছে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি, গ্রিন টি এবং বাদাম ইত্যাদি লিভারের প্রদাহ কমাতে সক্ষম। আর এসব খাবারে বিদ্যমান অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

৩। ফ্যাটি লিভারের জন্য মন্দ খাবার ও অভ্যাস

ফ্যাটি লিভার দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হল ফ্যাটি লিভারের জন্য মন্দ খাবার ও খারাপ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করা। কেননা বিশেষজ্ঞ গন লিভার ঠিক করার প্রসঙ্গ এলে তারা জীবন যাপনের পরিবর্তনকে গুরুত্বারোপ করে থাকেন। অর্থাৎ এর জন্য তারা মন্দ খাবার ও খারাপ অভ্যাসগুলোকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। চিনিযুক্ত এবং চর্বিযুক্ত খাবারের ব্যবহার কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মত অভ্যাস লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

খাবারে ক্যালরির পরিমাণ কমাতে হবে। যেমন শর্করা, স্নেহ জাতীয় খাবার, গরু-খাসির মাংস কমিয়ে দিতে হবে। আবার কারো মদ, অ্যালকোহল গ্রহণের মত খারাপ অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই পরিহার করতে হবে এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এলকোহল সেবনের অভ্যাস ফ্যাটি লিভার রোগকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

পরিশ্রম ও ব্যায়াম

ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করা যেমন- নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা ইত্যাদি প্রয়োজন। সাথে সর্বদা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ফ্যাটি লিভার রোগ হলে কি কি সমস্যা হতে পারে, এবার আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেব।

ফ্যাটি লিভার হলে কি সমস্যা হয় - ৭ টি সমস্যা

আমরা প্রথমেই জেনে নেব ফ্যাটি লিভার হলে কি সমস্যা হয়। একজন ব্যক্তির ফ্যাটি লিভার হলে যে যে সমস্যাগুলো হতে পারে –

১। খাবারে অরুচি হতে পারে এবং হজম শক্তি কমে যেতে পারে।
২। খাওয়ার সময় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
৩। জ্বর হতে পারে , চোখ ও ত্বক হলুদ হতে পারে বা জন্ডিস রোগ হতে পারে।
৪। অনেক সময় পেট ব্যথা ও পেট ফুলে যেতে পারে।

৫। দেহের অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ যেমন - হাত , পা, মুখ ফুলে যেতে পারে।
৬। হঠাৎ করে দেহের ওজন বেশি কমে যেতে পারে।
৭। ফ্যাটি লিভার মারাত্মক পর্যায়ে গেলে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার হয়ে রোগীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

ফ্যাটি লিভার কি - Fatty Liver

যকৃত বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট জমা হলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলে। এটি “হেপাটিক স্টেটোসিস“ নামেও পরিচিত। লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে তা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করে। এটি বর্তমান বিশ্বের মারাত্মক রোগ ও একটি বড় সমস্যা। তাই ফ্যাটি লিভার হলে কি কি সমস্যা হয় - ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায় জেনে নিন।

ফ্যাটি লিভার শনাক্তকরণ

ফ্যাটি লিভার শনাক্তকরণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি, কিছু রক্ত পরীক্ষা (এসজিপিটি,) লিভারের ফাইব্রোস্ক্যান ও ক্যাপ এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে লিভার বা যকৃতের বায়োপসি করার প্রয়োজন পড়ে।
ফ্যাটি-লিভার-থেকে-মুক্তির-উপায়
ফ্যাটি-লিভার-থেকে-মুক্তির-উপায়। ছবি-এআই 

ফ্যাটি লিভার কত প্রকার ও কি কি

ফ্যাটি লিভার সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে-
১। এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার ও
২। নন-এলকোহলিক ফ্যাটিলিভার।

১। এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার

যাদের নিয়মিত এলকোহল বা মদ জাতীয় পানীয় পান করার অভ্যাস আছে, সাধারণত তাদের এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে।

২। নন-এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার 

যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করে , অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস আছে , প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, প্রসেসড ফুড, কার্বোহাইড্রেট, মুখ রোচক জাংক ফুড ও অতিরিক্ত মশলা যুক্ত খাবার গ্রহণ করে তাদের নন-এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হয়ে থাকে।

এছাড়াও স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ গ্রহণ, ডায়াবেটিস রোগ , রক্তে কোলেস্টরেল বা নির্দিষ্ট বয়স পার হলে এমনকি বংশগত কারণেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। আবার যাদের উপরে উল্লেখিত কোন কারণ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার হয়, তাদের পিওর ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হয়েছে বলে ধরা হয়।

ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১, গ্রেড ২ এবং গ্রেড ৩ মানে কি

ফ্যাটি লিভার এর বিভিন্ন পর্যায়কে ক্যাটাগরিতে ভাগ করাই হল গ্রেড ১, গ্রেড ২ ও গ্রেড ৩। সনোলজিক্যালি আলট্রাসনোগ্রাম এর মাধ্যমে যখন ফ্যাটি লিভার পরীক্ষা করা হয়, তখন ফাইব্রোস্ক্যানের মাধ্যমে লিভারের সেল বা ইকোটেক্সচারের কালার দেখে গ্রেড ১, গ্রেড ২ ও গ্রেড ৩ নির্ণয় করা হয়, যা ফ্যাটি লিভার রোগের বিভিন্ন পর্যায় ধরা হয়ে থাকে।

ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১

আল্ট্রাসনোগ্রাম করার সময় লিভারের সেলগুলো কিডনির কালারের সাথে তুলনা করলে যখন কিডনি থেকে একটু বেশি সাদা হয়, তখন এটিকে ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১ ধরা হয়। ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১ কে সাধারণ পর্যায় মনে করা হয় এবং এটি নিরাময়যোগ্য । চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ডায়েট চার্ট বানিয়ে জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করলেই ৩ মাসের মধ্যে ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১ নিরাময় করা সম্ভব।

ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ , গ্রেড ৩

আলট্রাসনোগ্রাম করার সময় যদি ফ্যাটি লিভার গ্রেড ১ এর কালার থেকে একটু বেশি সাদা হয়, তখন এটিকে ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ বলা হয়। অনুরূপভাবে, ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ এর কালার থেকে আরও একটু বেশি সাদা হয়, তখন এটিকে ফ্যাটি লিভার গ্রেড ৩ বলে। সাধারণত ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ ও ফ্যাটি লিভার গ্রেড ৩ কে মারাত্মক পর্যায় ধরা হয়। তাই ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ ও গ্রেড ৩ রোগীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে।

ফ্যাটি লিভার কি ভাল হয়?

হ্যাঁ, ফ্যাটি লিভার ভাল হয়। শুরুতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শে খাদ্যাভ্যাস ও জীবন মান পরিবর্তন করলে এই ডিজিজ ভাল হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার ঝুঁকিতে আছেন যারা

১। টাইপ – ২ ডায়াবেটিস আছে যাদের।
২। মেনোপজ শুরু হয়েছে যেসব নারীদের।
৩। যারা স্থুল বা প্রয়োজনের চেয়ে মোটা দেহের অধিকারী।

৪। যাদের কলেস্টরেলের মাত্রা বেশি বা যাদের পেটে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি আছে।
৫। যারা দির্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভুগছেন।
৬। যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস , ধূমপান ও এলকোহল , মদ জাতীয় পানীয় পান করেন – এমন নারী-পুরুষ সবচেয়ে ফ্যাটি লিভার ঝুঁকিতে আছেন।
আরো পড়ুন:
রিলেটেড সার্চ: ফ্যাটি লিভার হলে কি সমস্যা হয় | ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায় | ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ এর লক্ষণ | ফ্যাটি লিভার গ্রেড ২ এর চিকিৎসা | ফ্যাটি লিভার হলে কি ভালো হয় | ফ্যাটি লিভার হলে কি খাওয়া উচিত | Fatty Liver

ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায়

ফ্যাটি লিভার থেকে সহজেই মুক্তির উপায় হল যেগুলো খাবার ফ্যাটি লিভার কমায় সেগুলো খেতে হবে এবং যেগুলো ফ্যাটি লিভার বাড়ায় সেগুলো বর্জন করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস ই পারে এই ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি দিতে। কারণ এই রোগের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই বললেই চলে।

ফ্যাটি লিভার হলে কি কি খাবেন

ফ্যাটি লিভার হলে যা কিছু খাওয়া যাবে তা নিচে দেওয়া হল –
১। সবুজ শাক সবজি, সবুজ শাক, লেটুস পাতা।
২। ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার ছোলা, মটরশুঁটি , সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি বিশেষ উপকারী।

৩। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা , স্যামন ফিস, সারডিন ফিস – এই গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে, যা ফ্যাটি লিভার রোগীর জন্য খুবই উপকারী। বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে তিনদিন মাছ খেতে বলেন।
৪। ওটমিল, লাল আটা বা যবের রুটি খেতে হবে।

৫। বাদাম, কাজু বাদাম উপকারী।
৬। কাঁচা হলুদ ও কাঁচা রসুন পরিমাণ মত খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৭। দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করুন ।

ফ্যাটি লিভার হলে কি কি খাবেন না

ফ্যাটি লিভার হলে যা যা খাওয়া যাবে না তা নিচে দেওয়া হল –
১। ফ্যাটি লিভার এর সবচেয়ে বড় শত্রু সাদা চিনি,
২। যেকোনো বোতল জাত জুস, পানীয় ও ডেজার্ট খাওয়া যাবেনা।
৩। ভাজা পোড়া, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও যেকোনো ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।

৪। অতিরিক্ত লবণ বা লবণ যুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিষেধ।
৫। শর্করাযুক্ত সাদা ভাত, নান, পরোটা , নুডলস ও পাস্তা খাওয়া যাবেনা।
৬। রেড মিট বিশেষ করে গরুর মাংস ও খাসির মাংস নিষেধ।
৭। এলকোহল, মদ ও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষেধ।

সর্বশেষ কথা - ফ্যাটি লিভার দূর করার ঘরোয়া উপায়

ফ্যাটি লিভার বিশ্বব্যাপী একটি মারাত্মক রোগ ও একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুরাও ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। আমাদের দেশে সাধারণত নন এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ,খাদ্যাভ্যাস , ব্যায়াম ও সচেতনতা থাকলে ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আশা করি , আমার এই লেখাটি ভাল লেগেছে। প্রিয় বন্ধুরা, এ বিষয়ে আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন । এইরকম তথ্যবহুল লেখা পড়তে হলে আমাদের সাথেই থাকুন এবং বন্ধুদেরকে শেয়ার করে জানিয়ে দিতে পারেন। লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url