৫০ হাজার টাকা লোন - 50 Thousand Taka Loan
৫০ হাজার টাকা লোনঅনলাইনে মোবাইল লোন - অনলাইন লোন অ্যাপস বাংলাদেশ ৫০ হাজার টাকা লোন নিতে চান? কোন চিন্তা নেই, আমি আজকে আপনাকে চারটি উপায় বলে দেব যা আপনার সকল আর্থিক সমস্যার সমাধান করে দেবে। শুধু আজকে আপনি আমার এই লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
![]() |
৫০-হাজার-টাকা-লোন। ছবি-এআই |
অনেকের নতুন ল্যাপটপ কেনার জন্য, অবসরে ছুটি কাটানো উপভোগ করার জন্য, সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্য, সন্তানের উচ্চ শিক্ষায় আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজনে, বাসার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য, বিবাহের খরচ মিটানোর জন্য এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য ইত্যাদি কারণে স্বল্প পরিমাণ ঋণের বা লোনের প্রয়োজন পড়ে। কিভাবে এই লোনের সমাধান করা যায় তা এখানে আলোচনা করব।
৫০ হাজার টাকা লোন
৫০ হাজার টাকা লোন এর জন্য অনেকেই ব্যাংক ঋণ পায়না, আবার চড়া সুদে সমবায় থেকেও ঋণ নেয় না। সমাজের নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক এবং প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি আরো জটিল ব্যাপার। আর এসব শ্রেণী, পেশাজীবী মানুষের কথা চিন্তা করে বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক এর সমাধানের ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে। আমি এমনই চারটি ব্যাংকের তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব। আশা করি এখান থেকে আপনি ৫০,০০০ টাকা লোন খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। ব্যাংক চারটি এর নাম নিচে উল্লেখ করা হলো -
১। বাংলাদেশ ব্যাংক - Bangladesh Bank
২। মিউচিয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি - MTB PLC
৩। আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - IFIC Bank PLC
৪। এ বি ব্যাংক পিএলসি - AB Bank PLC
এবার উপরে উল্লেখিত ব্যাংক চাকরির সকল তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো এতে আপনার ৫০,০০০ টাকা লোন পেতে সুবিধা হবে।
১। বাংলাদেশ ব্যাংক - Bangladesh Bank
৫০ হাজার টাকা লোন বা ক্ষুদ্র ঋণ মিলবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পদ্ধতিতে। কেননা, বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০০ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই স্কীমের আওতায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগের নাম দিয়েছে 'ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ' । ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী সব তফসিলী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ই- ওয়ালেটের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ স্কিম থেকে প্রথমে ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের বিতরণ করা ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৫০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ অর্থায়ন করা হবে।
ঋণের পরিমাণ: ৫ ০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা।
সুদের হার: গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে ৯%।
পরিশোধ যোগ্য মেয়াদ: ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
![]() |
৫০-হাজার-টাকা-লোন। ছবি-এআই |
২। মিউচিয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি - MTB PLC
৫০ হাজার টাকা লোন পাবেন মিউচিয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি - MTB PLC এর পার্সোনাল লোন প্রকল্পে। এই ব্যাংকের স্লোগান হলো: 'এমটিবি পার্সোনাল লোন আপনার সকল আর্থিক সমস্যার একমাত্র সমাধান'। এমটিবি ব্যক্তিগত লোন সহজ সুবিধা জনক এবং দ্রুতগামী।
এমটিবি পার্সোনাল লোন বৈশিষ্ট্য
এই ব্যাংকের কিছু নিজস্ব আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার কাঙ্খিত লোন বা ঋণ নিতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেয়া যাক বৈশিষ্ট্য গুলো:
ক) লোন এর পরিমাণ: ৫০ হাজার টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা।
খ) সুদের হার: প্রতিযোগিতামূলক ইন্টারেস্ট রেট।
গ) পরিশোধের সময়: ফ্লেক্সিবল ভাবে ০৬ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে।
ঘ) হিডেন (লুকানো) চার্জ: নেই।
ঙ) ডকুমেন্টেশন এবং প্রসেসিং: খুবই সহজ এবং দ্রুত।
চ) বিশেষ বৈশিষ্ট্য: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই লোন পরিশোধের সুযোগ।
এমটিবি পার্সোনাল লোন যোগ্যতা
৫০ হাজার টাকা লোন পেতে হলে আপনার এই ব্যাংকের লোন যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। চলুন আমরা এমটিবি পার্সোনাল লোন যোগ্যতা গুলো বিস্তারিত জেনে নেই।
ক) বয়স:
সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬৫ বছর। অথবা অবসরের তারিখ: যেটি লোন ম্যাচিউরিটির সন্নিকটে।
খ) অভিজ্ঞতা
i) বেতনভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে; ০১ (এক) বছর সাথে ছয় মাসের স্থায়ী চাকুরীর অভিজ্ঞতা।
ii) স্বনির্ভর ব্যক্তির ক্ষেত্রে: ০১ (এক) বছরের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা।
iii) ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে: একই ব্যবসায়ে ০২ (দুই) বছরের অভিজ্ঞতা।
গ) সর্বনিম্ন মাসিক আয়
i) বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে: ১৮ হাজার টাকা।
ii) বেতনভুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে: ২০ হাজার টাকা (স্যালারি একাউন্ট এমটিবি তে)।
iii) বেতন ভক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে: ৩০ হাজার টাকা (স্যালারি অন্য ব্যাংকে)।
iv) স্বনির্ভর ব্যক্তির ক্ষেত্রে: ৫০ হাজার টাকা।
v) ব্যবসায়ীগণ/ ভূমি অধিপতি/ ভূমি অধিপত্নি/ অন্যান্য আয়ের ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে: ৫০ হাজার টাকা।
উপরে উল্লেখিত মাসিক আয় সমপরিমাণ হলে আপনি ৫০, ০০০ টাকা লোন পেতে পারেন।
নিচের উল্লেখিত ফর্মটি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের সাথে মিল রেখে নীল তিরচিহ্ন অঙ্কিত স্থানে ফুল নেম, ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার, আপনার পেশা, আপনার বয়স, আপনার ইনকাম ইত্যাদি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে এপ্লাই বা আবেদন করুন।
ফরম পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন: এমটিবি লোন আবেদন ফরম
আপনি নিচের স্ক্রিনশট এর মত ফরম পাবেন।
![]() |
৫০-হাজার-টাকা-লোন |
ফরমটি যথাযথ পূরণ করে সাবমিট করার কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি আপনার সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই যোগাযোগ করবেন। এভাবে আপনি তার সাথে বিস্তারিত জেনে ৫০,০০০ টাকা লোন নিতে পারেন।
৩। আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - IFIC Bank PLC
৫০ হাজার টাকা লোন - বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০০০ কোটি টাকা পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ সুবিধা দেবে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - IFIC Bank PLC। এই লোনের জন্য ১০ (দশ) টাকা খরচ করে অত্র ব্যাংকে সহজ হিসাব খুলতে হবে, তবেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে।
১০ টাকার হিসাবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ বৈশিষ্ট্য:
- ঘরে বসেই ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলা যাচ্ছে।
- শাখায় গিয়েও ব্যাংক হিসাব খোলা যাচ্ছে, এজন্য ১০ টাকা জমা দিতে হবে।
- ঋণ পেতে কোন জামানত দিতে হবে না।
- এই লোনের সুদের হার ৪%।
- এই লোন নিতে খুব বেশি নথিপত্রের প্রয়োজন হবে না।
- প্রতি মাসে বা বছরে বিক্রি কেমন, তার তথ্য জমা দিতে হবে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - IFIC Bank PLC এর একজন শীর্ষ প্রতিনিধি বলেন,
'গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকার সুবাদে আমি দেখেছি একটা শ্রেণি সব সময় ঋণ বঞ্চিত থাকে। ছোট দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, ছোট বাহনের চালক, নাপিত রয়েছে এই শ্রেণীতে। আমরা সেই শ্রেণীর কাছে পৌঁছাতে চাই। তাদের এই ঋণের আওতায় আনা গেলে গ্রামীন অর্থনীতি চাঙা হবে। আমরা সেভাবেই সব শাখা ও উপ শাখার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রযুক্তির এমন উন্নয়ন করেছি, যাতে একজন কর্মকর্তা সহজেই ঋণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। এভাবে আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে চাই'।
এদিকে এই ব্যাংকটি সারাদেশের দোকানদারদের এই ঋণের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই ঋণ কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করা গেলে অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবে। এত কম সুদে ঋণ পেলে দোকানদাররা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
সুতরাং ৫০ হাজার টাকা লোন পেতে হলে আপনাকে আপনার সংশ্লিষ্ট এলাকার 'আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - IFIC Bank PLC' এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করে সবকিছু বিষয়ে জেনে লোন পেতে পারবেন।
৪। এ বি ব্যাংক পিএলসি - AB Bank PLC
আপনার ব্যক্তিগত বা সাংসারিক যে কোন প্রয়োজন সহজে মেটাতে এলো এবি ব্যাংক পার্সোনাল লোন।
ঋণ সীমা: সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা
সুদের হার: আকর্ষণীয়
মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৬০ মাস
চার্জ সমূহ:
i) আবেদন ফি - ৫০০ টাকা
ii) প্রসেসিং ফি - অনুমোদিত ঋণের ১%
সিকিউরিটি: পণ্যের দাই বন্ধন কিনে নিতে হবে।
গ্যারান্টি:
i)স্বামী/ স্ত্রী/ পিতা/ মাতা প্রদত্ত গ্যারান্টি।
ii) ব্যক্তিগত গ্যারান্টি (পরিবার ব্যতীত)
এই ব্যাংকে যোগাযোগের জন্য নিম্নলিখিত লিংকে প্রবেশ করে ক্লিক করুন।
এখানে ক্লিক করুন: এবি ব্যাংক পিএলসি যোগাযোগ
এই লিংকে প্রবেশ করার পর আপনি নিম্নলিখিত স্ক্রিনশট এর মত একটি ফরম পাবেন সেখানে আপনার ভোটার কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেল আইডি, বয়স, বাৎসরিক আয় এবং একটি চিত্র সংকেত টাইপ করে সাবমিট করুন।
![]() |
৫০-হাজার-টাকা-লোন |
আপনার দেওয়া ফোন নাম্বার বা ইমেইল এর মাধ্যমে খুব শীঘ্রই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আপনি তাদের সাথে সকল বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে আপনার কাঙ্খিত লোন সুবিধাটি পেতে পারেন।
সর্বশেষ কথা
৫০ হাজার টাকা লোন বিষয়ে আপনারা বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। জরুরী প্রয়োজনে অনেকেরই টাকার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সেই মুহূর্তে কেউ টাকা ধার না দিলে লোন নেওয়ার দরকার পড়ে। সে ক্ষেত্রে আপনি উক্ত ব্যাংকগুলোর সাথে যোগাযোগ করে খুব সহজে লোন সুবিধা পেতে পারেন। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন এবং আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যেন তারাও উপকৃত হতে পারেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url