আয়না ঘর কি - আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত Ayna Ghor
আয়না ঘর কি - আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত Ayna Ghorঅপারেশন ডেভিল হান্ট মানে কি - যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানআয়না ঘর হলো একটি গোপন বল পূর্বক আটকে রেখে অন্যায়ভাবে নির্যাতন কেন্দ্রের নাম। আয়না ঘর হল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম।
![]() |
আয়না-ঘর-দেখতে-কেমন |
স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভিন্ন মত ব্যক্তিদের আটক করে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো এই আয়না ঘরে। তো চলুন বন্ধুরা আজকে আমরা আয়না ঘর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব, আশা করি সাথেই থাকবেন।
আয়না ঘর কি
বাংলাদেশের বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ( ২০০৮ - ২০২৪) আমলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর - ডিজিএফআই) এর কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম 'আয়না ঘর'। ধারণা করা হয়, আয়না ঘরে কমপক্ষে ১৬ টি কক্ষ রয়েছে এবং একসঙ্গে সেখানে ৩০ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে। আয়না ঘরটি বাংলাদেশের ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত বলে মনে করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাক (১৯ আগস্ট, ২০২৪) একটি খবর প্রকাশ করে যে, 'আয়না ঘর' নিয়ন্ত্রণ করতেন 'তারিক আহমেদ সিদ্দিক' যিনি স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সামরিক (নিরাপত্তা) উপদেষ্টা ছিলেন।
তবে আজ (বুধবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) দুপুরে অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস দেশি বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, 'সারা দেশজুড়ে আয়না ঘর বা টর্চার সেলের বিভিন্ন ভার্সন আছে। কেউ বলে ৭০০, কেউ বলে ৮০০। সেই সংখ্যাটা এখনো নিরূপণ করা যায়নি; কতটা জানা আছে, কতটা অজানা আছে'। এ সময় তিনি অন্যান্য উপদেষ্টা সহ ঢাকার উত্তরা, আগারগাঁও এবং কচুক্ষেতে অবস্থিত গোপন বন্দিশালা ও নির্যাতন সেল হিসেবে পরিচিত তিনটি 'আয়না ঘর' পরিদর্শন করেন।
![]() |
আয়না-ঘর-কি |
আয়না ঘর পরিদর্শন করার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্য, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য, দেশী-বিদেশী গণমাধ্যম কর্মী এবং ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আয়না ঘর পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগীরা নির্যাতনের ভয়াবহতার প্রতীক হিসেবে কচুক্ষেত বন্দিশালার দেয়াল গুলো হাত দিয়ে, বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতে দেখান। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা কে আগারগাঁও বন্দিশালায় একটি ইলেকট্রিক চেয়ার দেখানো হয়, যেগুলোতে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে জিজ্ঞাসবাদের নামে অন্যায় ভাবে আটক ব্যক্তিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো।
আয়না ঘর কি - আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত
স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে বলপূর্বক গুমের শিকারদের আটক ও নির্যাতন কেন্দ্রের নাম আয়না ঘর। একটি সুইডেন ভিত্তিক স্বাধীন নিউজ পোর্টাল 'নেত্র নিউজ' (১৪ আগস্ট, ২০২২) এ একটি অনুসন্ধানী হুইসেল ব্লোয়ার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে অভিযোগ করে যে, বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আয়না ঘরে বলপূর্বক বা জোরপূর্বক গুমের শিকারদের আটক ও নির্মম-নির্যাতন করছে।
আয়না ঘর কোথায়
সুইডেন ভিত্তিক ওই নিউজ পোর্টাল গোপন কারাগারের সম্ভাব্য অবস্থানও প্রকাশ করেছে। যেখানে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নেত্র নিউজের বিশদ প্রতিবেদনটি বলপূর্বক গুমের শিকার দুই ব্যক্তি - হাসিনুর রহমান এবং শেখ মোঃ সেলিম এর অন দা রেকর্ড একাউন্ট এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যারা বলেছেন যে, ঢাকায় অবস্থিত একটি কারাগারের ভেতরে তাদের রাখা হয়েছিল।
![]() |
আয়না-ঘর-কোথায়-অবস্থিত |
আয়না ঘর দেখতে কেমন
বলপূর্বক ভিন্নমতাবলম্বীদের আটকে রাখার কেন্দ্রের নাম আয়না ঘর। যেখানে অন্যায় ভাবে বন্দিদের বা আটককৃতদের অমানবিক নির্মম নির্যাতন করা হতো। আয়না ঘর দেখতে কেমন তা অনেকেরই মনে একটা প্রশ্ন জাগে। তবে ভারতের জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়না ঘর। আয়না ঘর নামটি শুনতে যতটা সাদামাটা ততটাই রহস্যময় এবং ভয়ংকর। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে তৈরি এই আয়না ঘরেই রাখা হতো গুম করে রাখা মানুষদেরকে। যেখানে আলো বাতাসহীন একটি কক্ষ, সেখানে সারাক্ষণ ঘড়ঘড়িয়ে ফ্যান চলে। সেখানে কোন জানালা নেই ঠিকমত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।
আয়না ঘর টর্চার সেল
শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী গুম বা নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা কোথায়, তাদের কোন খোঁজ খবর নেই। এমনকি সেনাবাহিনীর লোকজনও রয়েছেন ওই তালিকায়। আয়না ঘর আসলে গোয়েন্দাদের একটি গোপন বন্দিশালা বা ডিটেনশন ক্যাম্প। ভারতের আরেকটি আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আয়না ঘর' হচ্ছে 'গুমখানা'। হাসিনার শাসনামলে ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে মোট ৬০৫ জনকে গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।
আয়না ঘর হুমায়ূন আহমেদ
'আয়না ঘর' একটি আধিভৌতিক উপন্যাস, যার লেখক কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। এর প্রকাশকাল ছিল - নভেম্বর, ১৯৯২। রহস্যময় 'আয়না ঘর' উপন্যাসটির গল্পটা ছিল মোটামুটি নিম্নরূপ:
![]() |
আয়না-ঘর-কি |
"তাহেরের বিদেশিনী স্ত্রী লিলিয়ান অবাক হয়ে চারদিকে তাকাচ্ছে । তাহের বলল, লিলি! এই দেখো, এই ঘরটার নাম 'আয়না ঘর'। জানালাবিহীন ছোট্ট একটা কামরা, যার দেয়াল জুড়ে প্রকাণ্ড সব আয়না। তাহের বলল, আমার পূর্বপুরুষদের রূপবতী তরুণী বধূরা দরজা বন্ধ করে এই ঘরে সাজ করতো।
'যারা রূপবতী নয় তারা কি করতো'?
'আমি কথার কথা বললাম, যারা রূপবতী নয় তারাও নিশ্চয়ই যেত'।
'ঘরটা তো অন্ধকার। জানালা নেই, দরজা বন্ধ করলে আলো আসবে না'।
'এই ঘরে ঢুকতে হতো প্রদীপ নিয়ে। চারদিকে আয়না তো! প্রদীপ জ্বললেই অন্যরকম এফেক্ট হয় তুমি মোমবাতি জ্বালাও, দেখো কেমন লাগে'।
'তুমি অন্য ঘরে যাও। আমি একা একা মোমবাতি জ্বালাবো।'
তাহের অন্য ঘরে চলে গেল। লিলিয়ান দরজা বন্ধ করে মোমবাতি জ্বালালো। সঙ্গে সঙ্গে ঘরটা বদলে গেল। লিলিয়ানের মনে হলো। আয়নার ভেতর থেকে কে যেন তাকে দেখছে। অবাক হয়ে দেখছে!"
যতদূর সম্ভব হুমায়ুন আহমেদের কাল্পনিক, রহস্যময় এই 'আয়না ঘর' উপন্যাসটির নাম থেকেই বলপূর্বক আটককৃতদের গোপন কেন্দ্রের নাম "আয়না ঘর" নামকরণ হয়েছে।
সর্বশেষ কথা - আয়না ঘর কি আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত
আয়না ঘর কি আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত এ সকল প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনারা জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে জোরপূর্বক ঘুমের শিকারদের আটক ও নির্যাতন কেন্দ্রের নাম আয়না ঘর, যা গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করত। প্রধান উপদেষ্টার বাণীতে বোঝা যায় এদেশে ৭০০ থেকে ৮০০ আয়না ঘর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আমরা এরকম অন্যায় কোন আয়না ঘর দেখতে চাই না। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি পড়ে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বন্ধু বান্ধব দের সাথে শেয়ার করুন যেন তারাও উপকৃত হতে পারেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url