ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য সমুহ বিস্তারিত জেনে রাখুন
ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য সমুহ বিস্তারিত জেনে রাখুন আশা এনজিও লোন পদ্ধতি ব্র্যাক হল বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থা। আজ আমরা ত্রাণ দেওয়া থেকে শুরু করে যেভাবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসমূহ জেনে নেব।
![]() |
ব্র্যাক-এনজিও-সম্পর্কে-তথ্য । ছবি-এআই |
মুক্তিযুদ্ধের পর সিলেটের সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই অঞ্চলে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সেখানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি জনপদের অসহায়, অবহেলিত ও নিঃস্ব দরিদ্র মানুষজনের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিতে কাজ শুরু করেন তিনি।
ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য
ব্রাক বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার ১৩ টি দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে। ব্র্যাকের দাবি অনুযায়ী, এই সংস্থার পরিষেবার আওতায় ১২৬ মিলিয়ন লোক আছে। এই সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ (এক লক্ষ) এবং এদের মধ্যে ৭০ ভাগই নারী কর্মী। বর্তমানে ব্র্যাক একটি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজস্ব তহবিল যুক্ত ঋণ প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুগ্ধ জাত খামার, কৃষি, খাদ্য, পশু-পাখির খামার এবং হস্তশিল্প সহ বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে।
ব্র্যাকের জন্ম ও প্রতিষ্ঠাতা
বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের জন্ম হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সিলেটের সুনামগঞ্জের শাল্লা এ যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি জনপদের অসহায় মানুষদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিতে কাজ শুরু করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটি ( Brac ) বা ব্র্যাকের।
![]() |
ব্র্যাক-এনজিও-সম্পর্কে-তথ্য-বিস্তারিত। ছবি-এআই |
কিন্তু ১৯৭৩ সালে যখন পুরোদমে উন্নয়ন সংস্থা হিসাবে ব্রাক কার্যক্রম শুরু করে তখন তার নামের বিস্তারিত পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটি ব্র্যাক ( Brac)। তবে সংক্ষিপ্ত নাম 'ব্র্যাক' ই রয়ে যায়। ব্র্যাকের প্রথম চেয়ারম্যান হলেন কবি সুফিয়া কামাল এবং নির্বাহী পরিচালক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ফজলে হাসান আবেদ। ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ হুমায়ুন কবির। আর ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
ব্র্যাকের মূল্যবোধ
ব্র্যাকের চার মূল্যবোধ হল:
১। সততা ও নিষ্ঠা
২। সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব
৩। সার্বজনীনতা এবং
৪। কার্যকারিতা।
ব্র্যাকের মূল কার্যক্রম
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মানুষ যখন ভারত থেকে অনেক পরিবারসহ ফেরত আসছিল তখন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ দেখছিলেন এই যে এত মানুষ আসছে কিন্তু যুদ্ধে তাদের সমস্ত কিছু হারিয়ে গেছে। তিনি তখন তাদের উন্নয়নে কাজ শুরু করলেন। এইভাবে তারা যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষজনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন করতে করতে ব্র্যাকের কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠার পর ব্র্যাক বিভিন্ন খাতে তার কার্যক্রম সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হল।
- মাইক্রো ফাইন্যান্স ও ক্ষুদ্র ঋণ
- শিক্ষা
- স্বাস্থ্যসেবা
- কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা
- প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন।
মাইক্রো ফাইনান্স ও ক্ষুদ্র ঋণ
ব্র্যাকের মাইক্রো ফাইনান্স শাখা গ্রামীণ গরিব ও দরিদ্র অসহায় খেটে খাওয়া জনগণের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে থাকে। যা তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করে এর মাধ্যমে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয় এবং দরিদ্রতা কাটিয়ে উঠতে পারে।
শিক্ষা
ব্র্যাক শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অবহেলিত শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদান এবং নারীদের শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি উন্নত শিক্ষার জন্য ২০০১ সালে ব্র্যাক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে যার নাম 'ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়'।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে। তারা মাতৃ স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান এবং অন্যান্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এছাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা
ব্র্যাক কৃষকদের উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করে থাকে। তারা কৃষি প্রযুক্তি, সেচ ব্যবস্থা, উন্নত জাতের বীজ এবং অন্যান্য কৃষি সংক্রান্ত সহায়তা দিয়ে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ক্ষেত্রে তারা খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন
ব্র্যাক সামাজিক অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে, যেমন - শিশু অধিকার, নারীর উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদি তারা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ব্র্যাকের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন সমাজে ব্যাপকভাবে সামাদৃত।
ব্র্যাকের কি কি প্রতিষ্ঠান আছে
ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য জানতে হলে আপনাকে এর প্রতিষ্ঠানসমূহ জেনে রাখা উচিত। ব্র্যাকের অধীনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ রয়েছে। যেগুলো বিভিন্ন খাতে তাদের কার্যক্রম সফলতার সাথে পরিচালনা করে এবং দেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল -
- ব্র্যাক ব্যাংক
- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
- ব্র্যাক ফাউন্ডেশন
- ব্র্যাক মিডিয়া
- ব্র্যাক এনভায়রনমেন্ট
- আড়ং
- বিকাশ।
ব্র্যাক এনজিও র এই প্রতিষ্ঠান গুলো দরিদ্র জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সহজীকরণ এবং সামাজিক পরিবর্তন সাধনে নিরলস অবদান রেখে চলেছে। সাথে দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আশা করি ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য সমূহ জানতে পেরেছেন।
ব্র্যাক এর পূর্ণরূপ কি
ব্র্যাক এর পূর্ণরূপ হল বাংলাদেশ রুরাল এন্ড এডভান্সমেন্ট কমিটি ( Bangladesh Rural Advancement Committee - BRAC )। এটি বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম এনজিও; যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সামাজিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
BRAC full meaning
BRAC full meaning হলো Bangladesh Rural Advancement Committee - BRAC .
ব্র্যাক এনজিও সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয়
ব্র্যাক এনজিও সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয় - জানতে চান? ব্র্যাক তাদের মাইক্রো ফাইন্যান্স ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। তবে ঋণের পরিমাণ, প্রকল্প, এলাকার চাহিদা এবং আরো কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করে।
ব্র্যাক সর্বপ্রথম কোন জেলায় কাজ শুরু করে
ব্র্যাক সর্বপ্রথম সিলেট জেলা (বর্তমান সুনামগঞ্জ) এর শাল্লা এবং দিরাই এ ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বপ্রথম কাজ শুরু করে। আশা করি ব্র্যাক সর্বপ্রথম কোন জেলায় কাজ শুরু করে বুঝতে পেরেছেন।
ব্র্যাক এনজিও এর সফলতা
ব্র্যাকের বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা লাখো দরিদ্র মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। ব্র্যাক ক্ষুদ্র ঋণ থেকে শুরু করে শিক্ষা, খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রতিটা সেক্টরে সফলতা অর্জন করেছে। এনজিও হিসেবে ব্র্যাক বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় এনজিও হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরো পড়ুন:
ব্র্যাক এশিয়ার বাংলাদেশ সহ আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, মায়ানমার, ফিলিপাইন; আফ্রিকার উগান্ডা তাঞ্জানিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, লাইবেরিয়া সিয়েরা লিওন; এবং ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তে ব্র্যাকের অনুমোদিত সংস্থা রয়েছে। আশা করি ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য সমূহ জানতে পেরেছেন।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর জীবনী
ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং এ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন ভূস্বামী এবং মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। যতদূর জানা যায়, তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন ওই অঞ্চলের জমিদার। নিচে স্যার ফজলে হাসান আবেদের কিছু কথা উল্লেখ করা হলো।
![]() |
ব্র্যাক-এনজিও-শাখা-তালিকা |
তার চাচা জেলা জজ হিসেবে পাবনায় বদলি হওয়ায় তিনি পাবনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি স্কটল্যান্ড এর গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডনের চ্যাটার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস পড়াশোনা করেন। তারপর তিনি চার্টার্ড একাউন্ট হিসেবে বিদেশি শেল ওয়েল কোম্পানিতে যোগদান করেন এবং পদোন্নতি লাভ করে ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন।। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দরিদ্র, অসহায় ও সব হারানো মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কল্পে তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি সমাজে অসামান্য অবদানের জন্য র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, ইউনেস্কো নোমা পুরস্কার সহ অসংখ্য দেশী ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
জেনেভা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা 'এনজিও অ্যাডভাইজার' প্রভাব, উদ্ভাবনশীলতা, টেকসই সমাধান এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের নিরিখে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ব্র্যাক কে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল চেয়ারপারসন পর থেকে অব্যাহতি নেন এবং 'চেয়ার এমেরিটাস' পদ গ্রহণ করেন।
'স্যার' উপাধি
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কল্পে অসামান্য অবদানের জন্য বৃটেনের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ২০১০ সালে 'স্যার' উপাধি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে প্রথম তিনি এই উপাধি তে ভূষিত হলেন।
মৃত্যু
স্যার ফজলে হাসান আবেদ শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা জনিত কারণে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার নিরীক্ষার পর তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। এরপর ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
ব্র্যাক বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ব্র্যাক দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য কার্যক্রমে তার অনন্য অবদান সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ব্র্যাক তার কাজের বিস্তার আরো বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী দিনে প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন সামাজিক ও আর্থিক সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা করছে এটি দারিদ্র নিরসন এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্য আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাছাড়া মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আরো কার্যকরী মডেল তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে। ভবিষ্যতে ব্র্যাকের কাজ আরো বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরো বেশি এর সুফল ভোগ করবে বলে প্রত্যাশা।
ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা
ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য সমূহের মধ্যে এবার আমরা আপনাদের ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা গুলো জানিয়ে দেব। ব্র্যাক বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় এনজিও। যার কার্যক্রম বাংলাদেশ সহ এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার ১৩ টি দেশে রয়েছে। ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকায় বাংলাদেশের ৬৪ জেলার সকল উপজেলায় এর শাখা রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি এবং কুমিল্লা উল্লেখযোগ্য। ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকার জন্য এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য নিম্নলিখিত লিংকে ক্লিক করুন।
এখানে ক্লিক করুন: ব্র্যাক এনজিও ওয়েব পোর্টাল
সর্বশেষ কথা - ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য
ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য বিষয়ে আপনারা ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও। বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারেবীয় এবং আমেরিকার ১৩ টি দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে। ব্র্যাকের বিপুল পরিমাণ সফলতার গল্প থাকলেও এর কিছু করুণ ঘটনাও রয়েছে। মাঝে মাঝে গরিব অসহায় লোকদের সাথে ব্র্যাক এনজিওর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে, যা কারো কাম্য নয়। তবে উভয়পক্ষ যদি সহনশীল আচরণ করে তাহলে এসব ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
তারপরও বলবো ব্র্যাক আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য সহযোগী সংস্থা। এ সংস্থা যেমন অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, তেমনি দরিদ্র অসহায় লোকদের আর্থিক সহায়তা করে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করে যাচ্ছে অবিরাম। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে লেখাটি আপনার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন যেন তারাও উপকৃত হতে পারেন। ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url