ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা বিস্তারিত জেনে নিন
ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা বিস্তারিত জানতে আগ্রহী? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ই কমার্স। কেননা বর্তমানে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় খুব সহজেই। যেকোনো ব্যবসায়ে সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে; ই-কমার্সও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই আজকের লেখায় আপনাদের ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো বিস্তারিত জানিয়ে দিব। আশা করি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন।
![]() |
ই-কমার্স-এর-সুবিধা-ও-অসুবিধা। ছবি-এআই |
বর্তমানে আপনার হাতে একটি ডিভাইস এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আপনি বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে আপনার ব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। আর এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে আধুনিক কালের নতুন আবিষ্কার ই-কমার্স। নিচে আপনাদের জন্য ই কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ই কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা
বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ই - কমার্সের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আমাদের আজকের লেখার মূল বিষয় হলো ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা। আপনি যদি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান তাহলে আপনাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ই কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা জানতেই হবে। কেননা আপনি যদি ই-কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে ভালো ধারণা না রাখেন তাহলে ভবিষ্যতে আপনার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সেজন্য এখন আমি আপনাকে ই কমার্স ব্যবহার করলে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন এবং কি কি অসুবিধা রয়েছে তা বিস্তার ভাবে জানিয়ে দেবো। তার আগে আপনার ই-কমার্স সম্পর্কে কিছু ধারনা থাকা উচিত। ই-কমার্স হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স ( Electronic Commerce ) বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ইলেকট্রনিক ব্যবসা। আপনি যখন কোন ব্যবসা কাজের জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার কোন পণ্য বা সেবা এর অর্ডার নিলেন, ডেলিভারি দিলেন এবং মূল্য পরিশোধ সার্ভিসিং ইত্যাদি বিষয়গুলো যখন সফলভাবে সম্পাদন করবেন তখন তাকে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বলে। ই-কমার্সের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়ে গেছে যা ব্যবসায়ী কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো বিস্তারিত জেনে নিই।
ই কমার্সের সুবিধা
আধুনিক ব্যস্ততার যুগে ই-কমার্স আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করেছে। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাহায্যে পণ্য ও সেবা কেনা-বেচার এই পদ্ধতি ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিশ্বস্ততা সহ অসংখ্য সুবিধা এনেছে।
![]() |
ই-কমার্স-এর-সুবিধা-ও-অসুবিধা। ছবি-এআই |
ই কমার্সের সুবিধা সমূহ
১। গ্রাহকদের সময় সাশ্রয়
২। খরচ সাশ্রয়
৩। ফিজিক্যাল দোকান নিষ্প্রয়োজন
৪। ২৪/৭ ক্রয়/বিক্রয় সুবিধা
৫। বৃহৎ অডিয়েন্স এর কাছে দ্রুত পৌঁছানো
৬। রি টার্গেট কাস্টমার
৭। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
৮। পণ্যের রিভিউ ও ফিডব্যাক সুবিধা।
ই কমার্সের সুবিধা গুলো এবার বিস্তারিত আলোচনা করব।
১। গ্রাহকদের সময় সাশ্রয়
বর্তমানে মানুষ অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে। নিজ নিজ চাকুরী, ব্যবসা সামাল দিয়ে আলাদা ভাবে বাজারে গিয়ে কেনা বেচা করার সময় যেন হয়ে ওঠে না। ঠিক এই সময় ই কমার্স যেন তাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কেননা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলো গ্রাহকদের সময় বাঁচাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ক্রেতারা ঘরে বসেই যে কোন সময়ে খুব সহজেই তাদের পছন্দের পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন। এতে তারা সময় এবং যাতায়াত খরচ সাশ্রয় করতে পারেন, যা তাদের জন্য একটি বড় সুবিধা। তাই ক্রেতারা দোকানে গিয়ে কেনাকাটার ঝামেলা এড়িয়ে অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি বড় আরামদায়ক খবর। তাই এটি গ্রাহকদের জন্য ই-কমার্সের একটি বড় সুবিধা বলে মনে করি।
২। খরচ সাশ্রয়
যেকোনো ব্যবসার মূল উদ্দেশ্যেই হলো লাভ করা, তার মানে আনুষঙ্গিক খরচ যত কমানো যায় তত লাভ বেশি। আর ই কমার্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এই খরচ সাশ্রয় করা। কারণ ফিজিক্যাল দোকানের প্রয়োজন হয় না তাই দোকান ভাড়ার প্রয়োজনও নেই। বিক্রেতাগন তাদের পণ্য বা সেবা অনলাইনে প্রদর্শন করে এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ফিজিক্যাল স্টোর ভাড়া করার প্রয়োজন হয় না। এটি ব্যবসায়ীদের ইউটিলিটি বিল, স্টাফ বেতন ইত্যাদি খরচ থেকে বাঁচায় এবং লাভের পরিমাণ বাড়ায়। তাছাড়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খরচ বাঁচানো সম্ভব, যা প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেলের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী এবং অধিক লাভজনক।
৩। ফিজিক্যাল দোকান নিষ্প্রয়োজন
ই কমার্স ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কোন ফিজিক্যাল দোকান বা শোরুমের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি করা যায়। এটি ব্যবসার গুন্ডিকে বৃদ্ধি করে এবং বিক্রয় সুযোগকে আরো সম্প্রসারিত করে। ফিজিকাল দোকানের প্রয়োজন না থাকায় ব্যবসায়ীরা সহজেই তাদের ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।
৪। ২৪/৭ ক্রয়/বিক্রয় সুবিধা
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোর ফিজিক্যাল দোকানের প্রয়োজন না থাকায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে দিনে ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন খোলা থাকে, যা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সময়ের কোন বাধা সৃষ্টি করে না। তাই ক্রেতারা তাদের সুবিধা মত যেকোনো সময় তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা অর্ডার দিয়ে কিনতে পারেন। এটি ব্যবসায়ীদের বিক্রয় সুযোগকে আরো বৃদ্ধি করে এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা কে আরো সহজ করে তোলে। তাছাড়া বিক্রেতাগণও যেকোনো সময় তাদের পণ্য বা সেবা আপডেট করতে পারেন এবং নতুন নতুন পণ্য বা সেবা যুক্ত করতে পারেন, যা ব্যবসায়ী কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিত করে। কেননা ই কমার্সে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই লেনদেন করা সম্ভব। যে কারণে এই পদ্ধতিতে একজন ক্রেতা চাইলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাদের যেকোনো লেনদেন সফল ও নিরাপদ ভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।
৫। বৃহৎ অডিয়েন্স এর কাছে দ্রুত পৌঁছানো
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে বিক্রেতারা খুব সহজেই বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এটি ব্যবসার প্রসারকে আরো ত্বরানিত করে এবং পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে ছোট বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ই-কমার্সের মাধ্যমে তাদের পণ্য বা সেবা বড় আকারের বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পান। এটি তাদের ব্যবহার ব্যবসার প্রেসার কে আরো গতিশীল করে এবং নতুন নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যে কারণে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে এবং সহজেই ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
৬। রি টার্গেট কাস্টমার
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলো পুনঃ টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরনো গ্রাহকদের পুনরায় ক্রয় করার জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এটি বিক্রয়ের হার বাড়াতে সহায়ক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং বা বিপণন কৌশল। রি টার্গেটিং এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের গ্রাহকদের সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড অফার প্রদান করতে পারেন যা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। আর এই ধরনের বিক্রেতাদের বিক্রি আরো বেড়ে যায়।
৭। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যবসার ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানে সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে যে সকল কর্মীর যোগ হয় তারা তাদের কাজের মাধ্যমে বেতন পেয়ে থাকে এবং সেটা দিয়ে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এইতো কিছুদিন আগে শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা চাকরি না পেয়ে বেকার জীবন পার করতেন। এখন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আসার পর তারা ছোট ছোট ব্যবসার মাধ্যমে নিজেই কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন। এখানে তরুণ প্রজন্ম অনেকটাই সক্রিয় এবং সফল।
৮। পণ্যের রিভিউ ও ফিডব্যাক সুবিধা
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ক্রেতারা পণ্য কিনে রিভিউ বা ফিডব্যাক দিতে পারেন যা ভবিষ্যতের ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পূর্ববর্তী গ্রাহকদের পণ্যের রিভিউ পড়ে নতুন গ্রাহকরা সহজেই বুঝতে পারেন পণ্যের মান কেমন, এটি তাদের জন্য কতটা উপযোগী। এছাড়া বিক্রেতা গণ তাদের পণ্য ও সেবার মান উন্নত করার সুযোগ পান। গ্রাহকদের রিভিউ এবং মতামত বিক্রেতাদের ব্যবসার উন্নতি করতে সহায়ক এবং গ্রাহকদের জন্য একটি বিশ্বস্ত ক্রয়-বিক্রয়ের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। গ্রাহকদের পণ্য বা সেবা রিভিউ সিস্টেম বিক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিডব্যাক চ্যানেল হিসেবে কাজ করে, যা পণ্যের বা সেবার গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক।
প্রিয় পাঠক আশা করি উপরের লেখাগুলো পড়ে আপনি ই কমার্সের সুবিধাগুলো বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। ই কমার্সের অধিকতর সুবিধার কারণে দিন দিন এই ব্যবসা বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। তবে ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলোর মধ্যে ই-কমার্সের কিছু খারাপ দিক বা অসুবিধা ও রয়েছে। চলুন এর অসুবিধাগুলো বিস্তারিত জেনে নিই।
ই কমার্সের অসুবিধা
ই কমার্সের যদিও অনেক সুবিধা রয়েছে, তবে পাশাপাশি এর কিছু অসুবিধা রয়েছে যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। আপনার যদি কোন ই-কমার্স ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে তাহলে আপনার ই-কমার্সের অসুবিধা গুলো অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। চলুন ই কমার্সের অসুবিধা গুলো বিস্তারিত জেনে নিই।
ই কমার্সের অসুবিধা সমূহ
১। বিশ্বাস যোগ্যতার অভাব
২। টেকনিক্যালি সমস্যা হতে পারে
৩। বেশ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে
৪। সিকিউরিটি ইস্যু
৫। টেকনোলজির ওপর নির্ভরশীল
৬। ডেলিভারি চার্জ।
ই কমার্সের অসুবিধা গুলো এবার বিস্তারিত আলোচনা করব।
![]() |
ই-কমার্স-এর-সুবিধা-ও-অসুবিধা।ছবি-এআই |
১। বিশ্বাস যোগ্যতার অভাব
ই-কমার্সের ক্ষেত্রে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখা যায়। কেননা অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনেক ক্রেতাই সন্ধিহান থাকেন, বিশেষ করে পণ্যের গুণগত মান এবং ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয়ে। যদি বিক্রেতা পণ্যের বা সেবার মান বা ডেলিভারির সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান না করেন, তাহলে গ্রাহকদের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, অনলাইনে এক রকম প্রোডাক্ট অর্ডার করলেন কিন্তু ডেলিভারি নেওয়ার সময় অন্যরকম প্রোডাক্ট দেখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এর গুণগত মান কমবেশি হতে পারে। এটি আপনার ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিক্রয় কমে যেতে পারে। তাই এটি ই কমার্স ব্যবসার অসুবিধা গুলোর মধ্যে একটি।
২। টেকনিক্যালি সমস্যা হতে পারে
ই কমার্স ব্যবসায় টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অনেক সময় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, ওয়েবসাইটের কারিগরি ত্রুটি, পেমেন্টের গেটওয়ে সমস্যা, সার্ভারের ক্রাশ হওয়া ইত্যাদি প্রবলেমগুলো ব্যবসার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে, যা আপনার ব্যবসার ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং গ্রাহকের আস্থা হারাতে পারেন। ফলে আপনার চলমান ব্যবসার বিক্রয় কিছুটা কমে যেতে পারে এবং আপনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
৩। বেশ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোয় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় বিক্রেতারা অতিরিক্ত ছাড় বা অফার দিয়ে লাভের পরিমাণ কমে ফেলতে বাধ্য হন। তাছাড়া গ্রাহকদের ধরে রাখতে এবং নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কৌশল এবং মার্কেটিং ক্যাম্পেন চালাতে হয় যা খরচ সাধ্য হতে পারে। তাই প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য আপনার লাভের পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।
৪। সিকিউরিটি ইস্যু
ই কমার্সে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন হ্যাকারদের আক্রমণ, তথ্য চুরি, ফেক লেনদেন ইত্যাদি সিকিউরিটি ইস্যু ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যবসার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এসব সিকিউরিটি ইস্যু মেইনটেইন করতে না পারলে ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং আপনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
৫। টেকনোলজির ওপর নির্ভরশীল
ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেট সংযোগ, সার্ভার, ডাটাবেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপকরণের উপর নির্ভর করেই এই ই-কমার্স কার্যক্রম পরিচালিত হয়৳ যদি কোন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয় তাহলে পুরো ব্যবসার কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে এবং আপনি ব্যবসায়ীক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই টেকনোলজি সমস্যা ই-কমার্সের একটি বড় সমস্যা।
৬। ডেলিভারি চার্জ
ই কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ গ্রাহকদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায় বিশেষ করে ছোট অর্ডারের ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জ পণ্যের মূল্যের তুলনায় বেশি হলে ক্রেতারা অর্ডার করতে আগ্রহী হন না। এটি বিক্রেতাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার এবং অনেক সময় ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিক্রেতাগণ ডেলিভারি চার্জ কমিয়ে বা ফ্রি ডেলিভারি অফার দিয়ে গ্রাহকদের ধরে রাখতে চেষ্টা করেন, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে। এভাবে বিক্রেতাগণ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই এটিও ই-কমার্সের অসুবিধা গুলোর মধ্যে একটি মনে করা হয়।
প্রিয় পাঠক আশা করি উপরের ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো পড়ে আপনি ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন।
সর্বশেষ কথা - ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা
ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা শিরোনামে আপনাদের বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি আশা করি আপনারা ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। ই কমার্স বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক প্ল্যাটফর্ম। যা প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অডিয়েন্সের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারেন এবং গ্রাহকরাও ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন। ই কমার্সের বৃহৎ সুবিধা থাকার পাশাপাশি যদিও কিছু অসুবিধা রয়েছে, তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অসুবিধা গুলো দূর করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url