মিজানুর রহমান আজহারী ছবি

মিজানুর রহমান আজহারী ছবি সূরা মুলক বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত বিস্তারিতবর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় তরুণদের আইডল সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ বক্তা ইসলামিক চিন্তাবিদ স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি একজন ইসলামী বক্তা, ধর্মপ্রচারক এবং লেখক। সম্প্রতি তিনি ইসলামিক ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
মিজানুর রহমান আজহারী অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সব শ্রেণী - পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে যে ক'জন ইসলামী চিন্তাবিদ রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি নিজেকে মধ্যমপন্থী ইসলামী আলোচক দাবি করেন। আজকে আমরা মিজানুর রহমান আজহারী ছবি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

মিজানুর রহমান আজহারী ছবি

সুললিত কন্ঠে কোরআন - হাদিসের সহজ - সাবলীল আলোচনা করে অসংখ্য মানুষের মনে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর গবেষণা ধর্মী আলোচনার কারণে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি একাধারে বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ ভাবে আলোচনা করে থাকেন, যে কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ তাঁর আলোচনা সহজেই বোধগম্য করতে পারেন। তাঁর কথা বলার বাচনভঙ্গি এবং সুশ্রী নূরানী চেহারা যে কাউকে মুগ্ধ করবেই করবে। আল্লাহ অনিন্দ্য সুন্দর চেহারা তাঁকে দান করেছেন। যারা সরাসরি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁরা বিমোহিত হয়েছেন। চলুন আমরা কিছু মনোমুগ্ধকর মিজানুর রহমান আজহারী ছবি দেখি।
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
তিনি গতানুগতিক বয়ান না করে তাঁর কোরআন - হাদিস আলোকে বৈজ্ঞানিক আলোচনা তরুণ ও জ্ঞানীদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা।
Mizanur-Rahman-Azhari
Mizanur-Rahman-Azhari 

জন্ম

ড. মিজানুর রহমান আজহারী - Dr Mizanur Rahman Azhari ১৯৯০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি শুক্রবার ঢাকা জেলার ডেমরা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর এর পরমতলা গ্রামে। পিতার নাম সুফি মুহাম্মদ দায়েম উদ্দিন এবং মাতার নাম রাহাতুন নেসা। তাঁর পিতা একজন মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাতা গৃহিণী। তাঁর পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছেন।

'আজহারী' উপাধি

মিজানুর রহমান আজহারী ছোটবেলা থেকেই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ বা বৃত্তি পান। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তাঁর নামের শেষে 'আজহারী' উপাধি যুক্ত হয়েছে।

শিক্ষাজীবন

ডঃ মিজানুর রহমান আজহারী ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ - ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। একই মাদ্রাসা থেকে ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ - ৫ পেয়ে আবারো কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তিনি উভয় পরীক্ষাতেই বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।

২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিশর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডার গ্রাজুয়েট করার জন্য মিশরে পাড়ি জামান। ২০১২ সালে সেখান থেকে 'ডিপার্টমেন্ট অফ তাফসির এ্যান্ড কোরআন সাইন্স' থেকে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স (সম্মান) উত্তীর্ণ হন।

নিচে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেবের ছবি দেওয়া হল। মিজানুর রহমান আজহারী ছবি।
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
মিজানুর-রহমান-আজহারী-ছবি
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী মিশরে ৫ বছর সফলতার সাথে শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানে 'গার্ডেন অফ নলেজ' খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন (স্নাতকোত্তর সম্মান) সম্পন্ন করেন। সেখান থেকে তিনি এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। সেখানে তার এমফিলের গবেষণার বিষয় ছিল 'হিউম্যান এমব্রায়োলজি ইন দ্য হলি কোরআন' (পবিত্র কোরআনে মানব ভ্রুণবিদ্যা )।

২০১৬ সালে ওই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ কোরআন এন্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। পোস্ট গ্রাজুয়েশন মাস্টার্সে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৮২ আউট অফ ফোর। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে সফলভাবে পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি ইংরেজি বিষয়ের দক্ষতার পরীক্ষা আইইএলটিএস ( IELTS ) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ওভার অল রিটেইন এবং স্পিকিং উভয় সেকশনে ৭.৫ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করেন।

দাম্পত্য বৈবাহিক জীবন

ডঃ মিজানুর রহমান আজহারী ২০১৪ সালের ২৯ শে জানুয়ারি বুধবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী এবং দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

কর্মজীবন

মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ২০১০ সালে ইসলামিক গজল ও কেরাত দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি 'এটিএন বাংলা' টিভি চ্যানেলের একটি ইসলামী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে তিনি তার সুললিত কন্ঠে ওয়াজ মাহফিল দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বৈশাখী টেলিভিশন চ্যানেলে 'ইসলাম ও সুন্দর জীবন' শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন। 

সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে তাঁর একটি ফেসবুক আইডি এবং একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ রয়েছে। তাঁর মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হোন না, হাদিয়া হিসেবে যা পান তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি মালয়েশিয়াতেই থাকেন এবং সময় পেলে তাফসীর মাহফিল করেন।

তরুণদের ইসলামিক আইডল

Mizanur Rahman Azhari ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চললেও তিনি নিজেকে স্মার্ট ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর পোশাক, চলাফেরা, বাচনভঙ্গি এসব দেখেই এ সময়ের যুবকরা তাঁকে খুবই পছন্দ করে। তাঁর তাফসির মাহফিলে যুবকদের গণস্রোত দেখা যায়। তিনি যুবকদের খুবই পছন্দ করেন। তাফসির মাহফিলে যুবকদের ভালো পথে চলার আহ্বান জানান এবং যুবক-তরুণরাই ভবিষ্যতের ইসলামিক দেশ গড়বে, এটা তাঁর স্বপ্ন।
Mizanur-Rahman-Azhari
Mizanur-Rahman-Azhari 

বিশেষ অর্জন এবং সমালোচনা

মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ১২ জন ভারতীয় হিন্দু অবৈধ ভিসায় বাংলাদেশে এসে তাঁর হাতে ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু থেকে মুসলিম হলে তিনি গণমাধ্যমে সমালোচিত হন। এটি মুসলিম ধর্মে বিশেষ সম্মান অর্জন করায় তিনি রোষানলে পড়েন। বিশেষ করে এটি ভারত সরকার মেনে নিতে পারেনি, তাই তাঁর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ এনে বিভিন্ন স্থানে তাঁর মাহফিল নিষিদ্ধ করা হয়। 

ওই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে তাঁকে একজন সংসদ সদস্য 'দেশ বিরোধী মন্তব্য প্রদানকারী' বলে অন্যায় দাবি করেন। একই সময়ে 'ঘরে ঘরে সাঈদীর জন্ম হোক' উক্তিটি করায় বাংলাদেশের সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী তাঁকে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম' এর প্রোডাক্ট বলে অভিহিত করে তাঁর বিরুদ্ধে আঈনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন। এরপর থেকে তাঁর উপর নানা রকম ষড়যন্ত্রণা মূলক কার্যক্রম চলতে থাকে। 

দেশত্যাগ

তারপর মাওলানা আজহারী ২০২০ সালের ২৯ শে জানুয়ারি তাঁর ফেসবুক পাতায় একটি পোস্টে ঘোষণা করেন যে, তিনি 'পারিপার্শ্বিক কারণে' এবং 'গবেষণার জন্য' মার্চ পর্যন্ত তাঁর সব ওয়াজ মাহফিল স্থগিত করে মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন 'রিসার্চ' এর কাজে আবারো মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। তারপর থেকে তিনি আর কোন ওয়াজ মাহফিলে অংশ গ্রহণ করেননি। 

প্রত্যাবর্তন

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ২ অক্টোবর মাওলানা আজহারী পুনরায় দেশে ফিরে আসেন এবং নিয়মিত ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রকাশিত বই সমূহ

মাওলানা মিজানুর রহমান এর প্রথম বই 'মেসেজ: আধুনিক মননে দিনের ছোঁয়া' ২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। তাঁর দ্বিতীয় বই 'আহ্বান: আধুনিক মননে আলোর পরশ' ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় এবং তৃতীয় বই 'রিফ্লেকশন ফ্রম সূরা ইউসুফ' প্রকাশিত হয়। চতুর্থ বই 'জেগে ওঠো আবার' প্রকাশিত হয়। এছাড়াও অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ এ তাঁর পঞ্চম বই 'এক নজরে কুরআন' প্রকাশিত হয়।
আরো পড়ুন

সর্বশেষ কথা -মিজানুর রহমান আজহারী ছবি - Mizanur Rahman Azhari

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেবের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তিনি একজন বিচক্ষণ, জ্ঞানী, সুললিত কন্ঠের অধিকারী, জনপ্রিয় ইসলামী তাফসিরকারক। আর ইসলামিক এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান-গর্ভ আলোচনা তরুণ সমাজ থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলকেই আকৃষ্ট করে। তাঁর মত বিচক্ষণ ইসলামিক চিন্তাবিদ তাফসীরকারক পেয়ে আমরা গর্বিত এবং মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। 

তিনি আমাদের বাংলাদেশ সহ মুসলিম জাহানের জন্য একজন অমূল্য সম্পদ স্বরূপ। আমরা তাঁর নেক হায়াত কামনা করি। আশা করি আজকের মিজানুর রহমান আজহারী ছবি লেখাটি পড়ে আপনারা মাওলানা আজহারী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে লেখাটি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও শেয়ার করুন যেন তারাও উপকৃত হতে পারেন। আজকের মিজানুর রহমান আজহারী ছবি লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url