ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test বিস্তারিত জেনে রাখুন

ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test বিস্তারিত জেনে রাখুন ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় জেনে নিন ট্রপোনিন - আই টেস্ট  - Troponin I test হল একটি রক্ত পরীক্ষা যা হার্ট অ্যাটাক এবং হার্টের অন্যান্য ব্যাধিতে হার্টের ক্ষতির ঝুঁকি এবং মাত্রা সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। মূলত ট্রপোনিন হল একটি প্রোটিন যা আমাদের হৃৎপিণ্ডের পেশীতে বিদ্যমান থাকে।
ট্রপোনিন-টেস্ট-কি
ট্রপোনিন-টেস্ট-কি
আমাদের হৃৎপিণ্ড হলো একটি পেশী এবং এটি যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন ট্রপোনিন নামক প্রোটিন রক্ত প্রবাহে নির্গত হয়। সাধারণত রক্তে ট্রপোনিনের মাত্রা বেশ কম থাকে কিন্তু হৃৎপিণ্ডের ক্ষতির কারণে এগুলো সময়ের সাথে সাথে দ্রুত বাড়তে থাকে। অর্থাৎ যখন কেউ হার্ট অ্যাটাক করে কিংবা কোন কারণে হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন রক্তে ট্রপোনিনের মাত্রা বেড়ে যায়। তো চলুন বন্ধুরা ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I Test বিস্তারিত জেনে নিই।

ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I Test

ট্রপোনিন টেস্ট হলো একটি রক্ত পরীক্ষা যা আপনার রক্তে কতটা ট্রপোনিন প্রোটিন আছে তা নির্ধারণ করে। ট্রপোনিন হল এক ধরনের প্রোটিন যা আমাদের হার্টের পেশীতে পাওয়া যায়। এটি এমন একটি প্রোটিন যা নিয়মিত ভাবে রক্ত প্রবাহে প্রদর্শিত হয় না। হার্ট অ্যাটাক বা কোন কারণবশত কার্ডিয়াক পেশী আহত হলে ট্রপোনিন রক্ত প্রবাহে মুক্তি পায়। হৃদপিন্ডের ক্ষতির সাথে সাথে আরও বেশি ট্রপোনিন স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে রক্ত প্রবাহে নির্গত হতে থাকে। ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test.
ট্রপোনিন হল এমন একটি প্রোটিন যার তিনটি সাব-টাইপ বা উপপ্রকার রয়েছে। যেমন -

(১) ট্রপোনিন আই - Troponin I
(২) ট্রপোনিন সি - Troponin C
(৩) ট্রপোনিন টি - Troponin T

চলুন আমরা এখন ট্রপোনিন এর তিনটি সাব-টাইপ বা উপপ্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

(১) ট্রপোনিন আই - Troponin I

ট্রপোনিন আই - Troponin I হল মায়োকার্ডিয়ামে উপস্থিত একটি নির্দিষ্ট মার্কার যা এর প্রতিরোধক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্ডিয়াক পেশীগুলোর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। ট্রপোনিন আই - Troponin I নামক প্রোটিন হার্ট অ্যাটাক বা হার্টে আঘাতের ৪ - ৬ ঘন্টার মধ্যে রক্ত প্রবাহে মুক্তি পায়। এর মাত্রা ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য উচ্চ থাকতে পারে। সুতরাং ট্রপোনিন আই - Troponin I টেস্ট হলো বিভিন্ন করোনারি ধমনী রোগ এবং হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য একটি দ্রুত কার্যকরী ও সঠিক উপায়।

(২) ট্রপোনিন সি - Troponin C

ট্রপোনিন সি - Troponin C ক্যালসিয়ামের সাথে আবদ্ধ হয় এবং পেশীগুলোতে ট্রপোনিন সি সরবরাহ করে তাদের সংকুচিত হতে দেয়।

(৩) ট্রপোনিন টি - Troponin T

ট্রপোনিন টি - Troponin T হল একটি প্রোটিন যা বেশি ফাইবারে ট্রপোনিন প্রোটিনের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে। ট্রপোনিন পরীক্ষাটি রক্তে ট্রপোনিন আই  বা ট্রপোনিন টি মাত্রা পরিমাপ করে হার্ট অ্যাটাক পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। যখন একটি উচ্চ-সংবেদনশীলতা কার্ডিয়াক ট্রপোনিন টি পরীক্ষায় 14ng/l এর বেশি মাত্রা পাওয়া যায়, তখন হার্টের অ্যাটাক হওয়া বা হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ট্রপোনিন-টেস্ট-কি
ট্রপোনিন-টেস্ট-কি। ছবি-এআই 
একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের বাইরে ট্রপোনিনের মাত্রা একটি জরুরী স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন। যত বেশি ট্রপোনিন - বিশেষত ট্রপোনিন আই এবং ট্রপোনিন টি রক্ত প্রবাহে নির্গত হয়, তত বেশি ট্রপোনিন রক্ত প্রবাহে নির্গত হয় এবং কার্ডিয়াক ইনজুরি ঝুঁকি তত বেশি হয়। যদিও ট্রপোনিন এর মাত্রায় একটি স্পাইক প্রায়ই হার্ট অ্যাটাকের সাথে যুক্ত থাকে। আপনার ট্রপোনিনের মাত্রা বিভিন্ন কারনে বাড়তে পারে।

ট্রপোনিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত - Normal troponin levels chart

ট্রপোনিন আই - Troponin I এর স্বাভাবিক মান 40ng/লিটারের কম হওয়া উচিত। 40ng/ লিটারের উপরে যেকোন মান একটি সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত দেয় এবং রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। অথবা স্বাভাবিক মাত্রা: 0 - 0.04ng/mL .
ট্রপোনিন টি - Troponin T  এর স্বাভাবিক মান 14ng/ লিটারের কম। অর্থাৎ সুস্থ ব্যক্তির ট্রপোনিন টি - Troponin T <14ng/L থাকবে।

Troponin I Test Price in bangladesh - ট্রপোনিন আই - Troponin I Test খরচ কত

বাংলাদেশে Troponin I Test খরচ সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই খরচ একেবারে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় কারণ হাসপাতালের গুণগত মান ও সেই হাসপাতালের নিয়ম-নীতির ওপর নির্ভর করে Troponin I Test খরচ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আশা করি, Troponin I Test Price in bangladesh সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন।

ট্রপোনিন লেভেল কমানোর উপায় | ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test

ব্রিটেনের পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে - মানুষের দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অনুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায় তাহলেই  হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিজ্ঞানীরা আরো বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই হার্ট অ্যাটাকের মত মৃত্যু ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। চলুন ট্রপোনিন লেভেল কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে নিই।
  • আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান 
  • জমাট বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন
  • লবণকে বিদায় দিন 
  • ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খান 
  • বেশি মোটা হলে ক্যালরি কমিয়ে দিন।
এবার আমরা ট্রপোনিন লেভেল কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব। ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test

আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান 

যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার রয়েছে সেসব খাবার বেশি বেশি খান। কেননা আঁশযুক্ত খাবার শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। যেসব খাবারে বেশি পরিমাণে আঁশ থাকে সেগুলো হল মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, শিম, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল। পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করলে সেগুলো থেকেও প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়। তাছাড়া আটার রুটি এবং বাদামি চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

জমাট বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন

খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলেন, যেসব খাবারে বেশি পরিমাণে জমাট বাঁধা চর্বি থাকে সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। লাল মাংস, দই, চিজ, মাখন, কেক, বিস্কুট ও নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে জমাট বাঁধা চর্বি থাকে। জমাট বাঁধা চর্বি বিহীন খাবার যেমন তেল সমৃদ্ধ মাছ, বীজ ও বাদাম, অলিভ, সানফ্লাওয়ার, কর্ন এবং ওয়ালনাট তেল দিয়ে রান্নার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন। দুধ থেকে চর্বি সরানো দুধ খেতে হবে। লাল মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস চামড়া তুলে ফেলে রান্না করে খেতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রচুর তেলযুক্ত মাছ খেতে হবে।

লবণকে বিদায় দিন

লবণ বেশি খেলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়, এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ব্রিটেনে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান দিনে সর্বোচ্চ ছয় গ্রাম বা এক চা চামচ পরিমাণ লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেন। খাদ্য বিশেষজ্ঞগণ বলেন, লবণের পরিবর্তে মসলা দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কামাবে।
Troponin-I-test
Troponin-I-test

ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খান

যেসব খাবারে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ বেশি থাকে সেগুলো আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মত খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে থাকে। তাছাড়া এসব খনিজ হৃদরোগ যেসব কারণে হয় তা কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খেতে পারেন। কলা, আলু এবং মাছে পটাশিয়াম, ডাল ও হোলগ্রেইনে ম্যাগনেসিয়াম এবং দুগ্ধজাত খাবার ও সবুজ পাতার সবজি থেকে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।।

বেশি মোটা হলে ক্যালরি কমিয়ে দিন

আপনি যদি চিনি, লবণ, জমাট বাঁধা চর্বিযুক্ত খাবার কম খান এবং ভিটামিন ও মিনারেল আছে এ জাতীয় খাবার বেশি খান তাহলে আপনার মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম থাকবে। কেননা আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্য মোটা হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেই। ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব।
তাছাড়া প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘন্টা ব্যায়াম করতে হবে। মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করতে হবে। এভাবে হার্ট সতেজ থাকলে ট্রপোনিন লেভেল স্বাভাবিক থাকবে।
আরো পড়ুন

সর্বশেষ কথা - ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test

যাদের বুকে ব্যথা বা বুকে চাপ, দ্রুত হার্ট রেট, শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক ক্লান্তি, চোয়াল, বাহু এবং পিঠে ব্যথা থাকে তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত ট্রপোনিন আই - Troponin I টেস্ট বা  পরীক্ষা করানো উচিত। পরীক্ষার রিপোর্ট নেতিবাচক বা খারাপ হলে মৃত্যু ঝুঁকি এড়ানোর জন্য অতি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। আশা করি আজকের লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শেয়ার করে আপনার বন্ধু-বান্ধবদের জানিয়ে দেন যেন তারাও উপকৃত হতে পারেন আজকের ট্রপোনিন টেস্ট কি - Troponin I test লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url