ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন বিস্তারিত জেনে নিন
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন বিস্তারিত জেনে নিন। বাংলাদেশের যেসব ব্যাংকে বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সেবা চালু রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ও পছন্দের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যাংক ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি। বর্তমানে খুব সহজে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে অল্প সুদের হারে বিভিন্ন প্রকার লোন পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ডকুমেন্টস দেখিয়ে ভেরিফিকেশনের পর খুব সহজেই প্রবাসী লোন পাওয়া যায়।
![]() |
ডাচ-বাংলা-ব্যাংক-প্রবাসী-লোন |
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন, স্টুডেন্ট বিজনেস লোন, ডাচ বাংলা স্যালারি লোন, হোম লোন সহ বিভিন্ন রকম লোন সুবিধা চালু করেছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নিতে কি কি কাগজপত্র লাগে, কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয় এবং এই সুদের হার কত ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আজকে আপনাদেরকে জানিয়ে দেব।
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন
বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী ভাই-বোন আছেন যারা টাকা-পয়সার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না এবং বিদেশ গিয়ে কাজ করতে পারছেন না। তাদের জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংক দিচ্ছে বিশেষ লোন সুবিধা। এই ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নিয়ে খুব সহজেই বিদেশ গিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন এবং বিভিন্ন বিজনেস করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার নিজ নামে একটি ডাচ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস গুলো সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী লোনের যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। তাহলে চলুন, ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নিতে কি কি লাগবে তা বিস্তারিত জেনে নিই।
ডাচ বাংলা প্রবাসী লোন নিতে যা লাগবে
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন এর আবেদন প্রক্রিয়া সহজ এবং ব্যক্তিগতিকৃত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং নিকটবর্তী ডাচ বাংলা ব্যাংক শাখার সাথে লোনের আবেদন করা সহজ হয়ে থাকে। এই প্রবাসী লোন এর মেয়াদ সাধারণত দীর্ঘ হয়ে থাকে যেন প্রবাসী বাঙালিরা স্বপ্ন পূরণের জন্য যত্ন নিতে পারে। প্রবাসী লোন এর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণপত্র যা যা লাগবে তা ডাচ বাংলা ব্যাংকের আবেদন পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
- ১৮ বছর বয়স হতে হবে
- কোন দেশে বসবাস করে তার ভিসা
- পাসপোর্টের ফটোকপি
- কর্মরত একটি রশিদ
- বৈধ রেমিটেন্স এর প্রমাণপত্র
- বিমানের টিকিটের ফটোকপি।
![]() |
ডাচ-বাংলা-ব্যাংক-প্রবাসী-লোন |
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
Dutch Bangla Bank Plc. থেকে প্রবাসী লোন সুবিধা নিতে হলে অবশ্যই অত্র ব্যাংকের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী তাদের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো জমা দিতে হবে। কেবলমাত্র ব্যাংক রিকোয়ারমেন্ট পূর্ণ কারি প্রবাসী আবেদনকারী প্রবাসী লোনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তাই নিচে দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো অবশ্যই ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্ত রাখতে হবে তারপরেই এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ডের ফটোকপি
- নিবন্ধন আইডি কার্ডের ফটোকপি
- জমির দলিল
- চাকরিরত অবস্থায় থাকলে চাকরির কাগজপত্র
- বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের কপি
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- প্রবাসে থাকলে ভিসা এর ফটোকপি
- ট্যাক্স কাগজের ফটোকপি
- চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদপত্র।
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনে কারা আবেদন করতে পারবেন
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোক লোনের আবেদন করতে নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা পূর্ণ থাকতে হবে।
![]() |
ডাচ-বাংলা-ব্যাংক-প্রবাসী-লোন |
প্রবাসী বাঙালি
যেসব বাঙালি ব্যক্তি বর্তমানে প্রবাসে স্থায়ী বাসিন্দা সহ বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ব্যক্তিগত গ্যারানটার
যেসব বাঙালি প্রবাসী ব্যক্তির কাছে যিনি স্থায়ী বাসিন্দা রয়েছেন, সেখান থেকে একজন ব্যক্তি ডাচ বাংলা ব্যাংকে গ্যারানটার হিসাবে আবেদন করতে পারবেন।
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের পরিমাণ, সুদ ও মেয়াদ
ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রবাসী লোনের পরিমাণ সুদের হার এবং মেয়াদ নিচে দেওয়া হল-
- লোনের পরিমাণ সর্বনিম্ন: ২ লাখ টাকা
- লোনের পরিমাণ সর্বোচ্চ: ২ কোটি টাকা
- সুদের হার নতুন লোনের ক্ষেত্রে: ৭.৫০%
- সুদের হার (অন্য ব্যাংক থেকে টেক ওভার): ৭%
- প্রসেসিং ফি নতুন লোনের ক্ষেত্রে: ০.৫% - ১%
- প্রসেসিং ফি (অন্য ব্যাংক থেকে টেকওভার): নেই
- লোনের মেয়াদ: ১ থেকে ২৫ বছর।
উপরে উল্লেখিত মৌলিক তথ্য গুলো dutch bangla bank প্রবাসী লোনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সুদের হার মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তাদি যে কোন সময় পরিবর্তনশীল হতে পারে তাই আপনার নিকটস্থ ডাচ বাংলা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে প্রবাসী লোন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন আবেদন
আপনি যদি মন স্থির করে থাকেন আপনার ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রবাসী লোন প্রয়োজন তাহলে আপনি সরাসরি আপনার নিকটস্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংকে যোগাযোগ করে ম্যানেজারের কাছ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রবাসী লোনের আবেদন ফরম নিয়ে পূরণ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও ডকুমেন্টস উল্লেখ করে আপনি লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আরো পড়ুন
সর্বশেষ কথা - ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন
ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন একটি সুবিধা জনক পদক্ষেপ যার মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিগণ সহজে লোন গ্রহণ করতে পারেন। এই প্রবাসী লোন দ্বারা নিজের ব্যবসার উন্নতি ও স্বায়ত্ত শাসিত প্রয়োজন গুলো পূরণ করার সুযোগ পান। ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রবাসীর লোন নেওয়ার জন্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণপত্র সহ গ্যারেন্টারের স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রবাসী লোন পেতে পারেন। আশা করি আজকের ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন শিরোনামের লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url