ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত বিস্তারিত জেনে রাখুন। মুসলমানদের জন্য বছরে সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। প্রায় দীর্ঘ এক বছর পর এ দুটি উৎসব পালন করার জন্য অনেকেই নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে ভুলে যান। তাই আজকের লেখায় আপনাদের ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেব।
![]() |
ঈদুল-ফিতর-নামাজের-নিয়ম-ও-নিয়ত। ছবি এআই |
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদুল ফিতর নামাজ আদায় করতে হয়। অনেকে ঈদুল ফিতরকে রোজার ঈদ বলে থাকেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের শান্তির বার্তা নিয়ে সকল মুসলিম জাতির নিকট রমজান মাস উপস্থিত হয়। পবিত্র রমজান মাস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করার পর শাওয়াল মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপস্থিত হয়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। চলুন বন্ধুরা চলুন ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে জেনে নিই।
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম অন্যান্য স্বাভাবিক নামাজের মত নয়। দুই রাকাত ঈদুল ফিতর নামাজে কোন আজান নেই, ইকামত নেই। অতিরিক্ত তাকবিরের মাধ্যমে সকালবেলা এই নামাজ আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজ জামাতের সঙ্গে একসাথে খোলা জায়গা, মসজিদ কিংবা উন্মুক্ত স্থানে পড়তে হবে। জুমা'র নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার যে সকল শর্ত প্রয়োজন ঈদের জামাত আদায় করার জন্য একই শর্ত প্রযোজ্য। অর্থাৎ জামা'ত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা ঠিক নয়। বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশে দুটি পদ্ধতিতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়। তবে দুটি পদ্ধতির মধ্যে তাকবির সংখ্যা এবং সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমরা দুটি পদ্ধতিতেই ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত ও নিয়ম আলোচনা করব।
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম প্রথম পদ্ধতি - ৬ তাকবিরে
এই পদ্ধতিতে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়া ওয়াজিব এবং অতিরিক্ত ৬ তাকবির বিশিষ্ট। ঈদুল ফিতরের সালাতে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের নিয়ত করে প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বাঁধার পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দিতে হয়। দ্বিতীয় রাকা'তে কিরা'ত শেষ হলে রুকুর পূর্বে বাড়তি আরো ৩ তাকবির দিতে হয় এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে রুকুতে চলে যেতে হয়।
![]() |
ঈদুল-ফিতর-নামাজের-নিয়ম। ছবি - এআই |
রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সময়ে ঈদগাহে যাওয়ার সময় একটি লাঠি অথবা বল্লম নিয়ে যাওয়া হত এবং ঈদের সালাত শুরুর আগেই সেটা তাঁর সামনে 'সুতরা' হিসেবে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হতো। (বুখারী, পৃষ্ঠা নং ১৩৩)
প্রথম রাকাত
১। রাসূলুল্লাহ সাঃ ঈদুল ফিতর সালাতের নিয়ত করে 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবিরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধতেন। এরপর তিনি সানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাস মুকা ওয়া তাআ'লা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা) পড়তেন। (ইবনে খুযাইমা)
২। সানা পড়ার পর সুরা ফাতিহা পড়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাঃ একের পর এক (আল্লাহু আকবার) বলে অতিরিক্ত ৩ তাকবির দিতেন।
৩। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকতেন।
৪। প্রথম ও অদ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতেন।
৫। তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবীরে তাহরিমার মত বেঁধে নিতেন।
৬। তারপর আউযুবিল্লাহ - বিসমিল্লাহ পড়তেন।
৭। অতঃপর সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করতেন।
৮। সুরা ফাতিহা পাঠের পর অন্যান্য সূরা মিলাতেন। তারপর নিয়মিত নামাজের মত রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করতেন।
দ্বিতীয় রাকাত
১। প্রথমে সুরা ফাতিহা পাঠ করতেন।
২। তারপর যেকোনো একটি সূরা মেলাতেন।
৩। সূরা মিলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতেন।
৪। প্রথম ও অদ্বিতীয় তাকবিরে হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতেন।
৫। তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবীরে তাহরিমার মত বেঁধে নিতেন।
৬। তারপর রুকুর চতুর্থ তাকবির দিয়ে রুকুতে যেতেন।
৭। এরপর সিজদা আদায় করতেন।
৮। বৈঠকে বসে তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু), দুরুদ শরীফ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে ঈদুল ফিতর নামাজ সম্পন্ন করতেন।
৯। তারপর রাসূল সাঃ নামাজ সম্পন্ন করার পর মেম্বারে উঠতেন এবং দুটি খুতবা দিতেন। এ সময় মুসল্লীগণ মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতেন।
১০। রমজান মাসের রোজা ও ঈদুল ফিতর সম্পর্কিত খুতবা শেষে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ দোয়া করার পর সবাই ঈদগাহ ত্যাগ করতেন।
অতিরিক্ত ৬ তাকবিরে ঈদের সালাত আদায় করা হানাফী মাযহাবের সম্মানিত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মত। তাই হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ এই পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ৬ তাকবিরে ঈদের সালাত আদায় করে থাকেন।
আশা করি আপনারা ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত ও নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন।
![]() |
ঈদুল-ফিতর-নামাজের-নিয়ম। ছবি- এআই |
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম দ্বিতীয় পদ্ধতি - ১২ তাকবিরে
সহিহ হাদিস অনুযায়ী ঈদের নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং তা অতিরিক্ত ১২ তাকবিরে আদায় করা হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী করীম সাঃ কে সালাত শিক্ষা দেন ফেরেশতা জিব্রাইল আঃ। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, 'রাসূল সাঃ স্বেচ্ছায় কিছুই বলেন না। বরং যা কিছু বলেন তার সমস্তই হচ্ছে আল্লাহর ওহী'। (সূরা আন'আম) সুতরাং তাঁর ঈদের নামাজও আল্লাহর ওহী ছাড়া আর কিছুই নয়।
সিহাহ সিত্তার ৬ টি হাদিস গ্রন্থের মধ্যে বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ এই ৩ টিতে ঈদের তাকবির সম্পর্কে কোন হাদিস পাওয়া যায় না। অবশিষ্ট ৩ টি হাদিস গ্রন্থের মধ্যে আবু দাউদ, ইবনে মাজা ও তিরমিজিতে ঈদের তাকবির সম্পর্কে ১৫ টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এই ১৫ টি হাদিসের মধ্যে ১৩ টি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রথম রাকাতে ৭ ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫, এই অতিরিক্ত মোট ১২ তাকবিরে ঈদের নামাজ পড়েছেন। অতিরিক্ত ১২ তাকবীর সংক্রান্ত এই ১৩ টি হাদিসের মধ্যে ৩ টি হাদিস হযরত আয়েশা রাঃ এবং ২ টি হাদিস হযরত ওমর রাঃ কর্তৃক বর্ণিত।
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেছেন,
شَهِدْتُ الأَضْحَى وَالْفِطْرَ مَعَ أَبِيْ هُرَيْرَةَ فَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الأُوْلَى سَبْعَ تَكْبِيْرَات قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَفِي الآخِرَةِ
خَمْسَ تَكْبِيْرَاتٍ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ
অর্থ: 'আমি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত (সাহাবী) আবু হুরায়রা রাঃ এর সাথে আদায় করেছি, তাতে তিনি প্রথম রাকাতে কিরাত পাঠ (সুরা ফাতিহা) করার আগেই অতিরিক্ত ৭ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত পাঠ করার পূর্বেই অতিরিক্ত ৫ তাকবির বলতেন'। (বায়হাকী, ৩/৪০৬)
ইমাম বায়হাকি বলেছেন, এটাই সুন্নতি নিয়ম।
হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, 'রাসূলুল্লাহ সাঃ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সালাতে প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত ৭ টি তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত ৫ টি তাকবির পাঠ করতেন'। (আবু দাউদ: হাদিস নং ১০১৮)
রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সময়ে ঈদগাহে যাওয়ার সময় একটি লাঠি অথবা বল্লম নিয়ে যাওয়া হত এবং ঈদের সালাত শুরুর আগেই সেটা তাঁর সামনে 'সুতরা' হিসেবে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হতো। (বুখারী, পৃষ্ঠা নং ১৩৩)
প্রথম রাকাত
১। রাসূলুল্লাহ সাঃ ঈদুল ফিতর সালাতের নিয়ত করে 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবিরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধতেন। এরপর তিনি সানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাস মুকা ওয়া তাআ'লা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা) পড়তেন। (ইবনে খুযাইমা)
২। সানা পড়ার পর সুরা ফাতিহা পড়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাঃ একের পর এক (আল্লাহু আকবার) বলে অতিরিক্ত ৭ তাকবির দিতেন।
৩। প্রতি দু তাকবিরের মাঝখানে তিনি একটুখানি চুপ থাকতেন।
৪। তিনি প্রত্যেক তাকবিরের সাথে দু'হাত তুলতেন এবং প্রত্যেক তাকবিরের পর আবার হাত বেঁধে ফেলতেন। (বায়হাকী)
৫। এইভাবে ৭ টি তাকবির বলার পর রাসূলুল্লাহ সাঃ সুরা ফাতিহা পড়তেন।
৬। এরপর তিনি আরেকটি সূরা (প্রথম রাকাতে সূরা আ'লা অথবা সূরা কাফ) মিলিয়ে পড়তেন। (মুসলিম, ৮৯১; এভাবে পড়া মুস্তাহাব)
৭। এরপর তিনি যথারীতি রুকু ও সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করতেন।।
দ্বিতীয় রাকাত
১। রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রথম রাকাত শেষ করার পর সিজদা থেকে উঠে সুরা ফাতিহা শুরুর পূর্বেই পরপর অতিরিক্ত ৫ টি তাকবির দিতেন।
২। প্রতি দু তাকবিরের মাঝখানে তিনি একটুখানি চুপ থাকতেন।
৩। তিনি প্রত্যেক তাকবিরের সাথে হাত তুলতেন এবং প্রত্যেক তাকবীরের পর আবার হাত বেঁধে ফেলতেন
৪। এভাবে ৫ টি তাকবির বলার পর রাসূলুল্লাহ সূরা ফাতিহা পড়তেন।
৫। সূরা ফাতিহা পড়ার পর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা গাছিয়া অথবা সূরা কামার মিলিয়ে পড়তেন। (মুসলিম, ৮৯১; এভাবে পড়া মুস্তাহাব)
৬। এরপর তিনি রুকু ও সিজদা করতেন।
৭। বৈঠকে বসে তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু), দুরুদ শরীফ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে ঈদুল ফিতর নামাজ সম্পন্ন করতেন।
সালাম ফেরানোর পর তিনি একটি তীরের উপর ভর দিয়ে জমিনে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তখন ঈদগাহে কোন মিম্বার নেওয়া হতো না। তারপর দোয়া করে ঈদুল ফিতর নামাজ শেষ করে দিতেন।
অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেম ১২ তাকবিরের মাসআলা কে বেশি শক্তিশালী বলেছেন। তাছাড়া হানাফী মাযহাবের সম্মানিত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর অনুসারী দুই ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) এই মাসআলার উপর আমল করেছেন। হানাফী মাযহাব ব্যতীত বাকি ৩ মাযহাব মালেকী, শাফিঈ, হাম্বলী মাযহাব ও আহলে হাদিসের লোকেরা এবং মক্কা ও মদিনার ইমামগণ এইভাবে অতিরিক্ত ১২ তাকবিরে ঈদের সালাত আদায় করে থাকেন। (রাদ্দুল মুহতার, পৃষ্ঠা নং ৬৬৪)
আশা করি আপনারা ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন।
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত
মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হল ঈদুল ফিতর। প্রতিবছর মুসলমানগন দুটি ঈদ উদযাপন করে থাকেন। যে কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ত ভুলে যান। চলুন আমরা ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত সম্পর্কে জেনে নিই।
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত আরবি:
نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ
الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَر
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ:
' নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল ফিতরী মাআ সিত্তাতিত তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতা ওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিস শারিফাতি আল্লাহু আকবার'।
ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত বাংলা অর্থ:
'আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পিছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি - আল্লাহু আকবার'।
ঈদুল ফিতর নামাজের অতিরিক্ত তাকবির
অতিরিক্ত তাকবিরের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাজহাব সহ অনেকেই প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরীমা সহ ৭ তাকবির আর দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবির দিয়ে থাকেন। যদি কেউ অতিরিক্ত ৬ তাকবির কিংবা অতিরিক্ত ১১ তাকবির দেয়, তাতে নামাজের কোন অসুবিধা হবে না বরং নামাজ হয়ে যাবে।
ঈদুল ফিতর নামাজের তাকবির পড়া
শাওয়াল মাসের চাঁদ (ঈদের চাঁদ) দেখার পর অর্থাৎ ৩০ রমজান ইফতারের পর প্রথম কাজই হচ্ছে তাকবির তথা মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে বেশি বেশি তাকবীর করা এবং এটি হলো ঈদের প্রথম কাজ। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,
وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
বাংলা অর্থ: 'আর তোমাদের আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো'। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ১৮৫)
ঈদের তাকবীর হলো
বাংলা উচ্চারণ: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ'।
আরো পড়ুন:
সর্বশেষ কথা - ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
ঈদুল ফিতর নামাজ পড়া ওয়াজিব (মতান্তরে সুন্নতে মুয়াক্কাদা)। এটি অতিরিক্ত ৬ তাকবির (মতান্তরে ৭ তাকবিরে) পড়া হয়। পবিত্র রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে প্রতিবছর ফিরে আসে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আশা করি আজকের লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url