কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত
কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত। মহান আল্লাহ পাকের মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান হল ইসলাম। পবিত্র কালেমা অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং বাহ্যিক আমল করার মাধ্যমে একজন মুসলিমের ঈমান পূর্ণতা পায়। কেননা ঈমান ছাড়া কেউ পরিপূর্ণ মু'মিন হতে পারে না এবং নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করতে পারে না। কালেমার মূল অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস।
![]() |
কালেমা-তাইয়্যেবা-ও-কালেমা-শাহাদাত |
কেননা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও মুসলমানদের মাঝে পার্থক্য করে দেয় ঈমান। মুসলমান সম্প্রদায় এক ঈশ্বর মহান আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতাকুল, জান্নাত-জাহান্নাম, তাঁর প্রেরিত পয়গম্বর, তকদির, কেয়ামত ও আসমানী কিতাব সমূহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ঈমান অর্জন করে। আর এই ঈমানের স্বীকারোক্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হল কালেমা। শুধুমাত্র ঈমানদার ব্যক্তিগণই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হবে। চলুন, কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত
কালেমা, যার সাক্ষ্য মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজেই নিজের জন্য দিয়েছেন এবং তাঁর প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে তাঁর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে প্রথম ও অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হল কালেমা। ইসলাম ধর্মে কালেমার মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। ইসলামে মোট ছয়টি কালেমা রয়েছে। তার মধ্যে যেই কালেমার মাধ্যমে মুসলমানগণ ঈমানের স্বীকারোক্তি দান করেন, তার অন্যতম হল কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত। চলুন বন্ধুরা, কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
কালেমা তাইয়্যেবা
কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত প্রসঙ্গে এবার আমরা প্রথমে কালেমা তাইয়্যেবা নিয়ে আলোচনা করব। ইসলামের প্রথম কালেমা হচ্ছে কালেমা তাইয়্যেবা, যার অর্থ হলো 'পবিত্র বাক্য'। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কালেমা তাইয়্যেবার প্রসঙ্গ অতি গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে। কালেমা তাইয়্যেবাতে মহান আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে তাঁর প্রেরিত রাসূল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিচে কালেমা তাইয়্যেবার আরবি উচ্চারণ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ তুলে ধরা হলো।
কালেমা তাইয়্যেবার আরবি উচ্চারণ:
لاَ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْ لُ الله
কালেমা তাইয়্যেবার বাংলা উচ্চারণ:
'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'।
কালেমা তাইয়্যেবার বাংলা অর্থ:
আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রেরিত রাসূল।
![]() |
কালেমা-তাইয়্যেবা-ও-কালেমা-শাহাদাত |
কোরআনের আলোকে কালেমা তাইয়্যেবা
কালেমা তাইয়্যেবার দুটি অংশ লক্ষ্য করা যায়। কালেমা তাইয়্যেবার প্রথম অংশটি হল - 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু', যা কোরআনের সূরা সাফফাত এর ৩৫ নম্বর আয়াতে বিদ্যমান রয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশটি হল - 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)', যা কোরআনের সূরা ফাতহ এর ২৯ নম্বর আয়াতে বিদ্যমান রয়েছে। তাছাড়া মহান আল্লাহ তা'য়ালা কোরআনের সূরা ইব্রাহীম এর ২৭ নম্বর আয়াতে কালেমা তাইয়্যেবার কথা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।
কালেমা তাইয়্যেবার শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত
কালেমা তাইয়্যেবা সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস লক্ষ্য করা যায়। কালেমা তাইয়্যেবা নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে প্রিয় নবী সাঃ এর শাফায়াত লাভ করা যায়। বারা ইবনে আজিব রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবী করিম সাঃ বলেছেন, "কবরে মুসলমান ব্যক্তিকে যখন প্রশ্ন করা হবে তখন সে সাক্ষ্য দিবে, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'। আল্লাহর বাণীতে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে"। (সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৪৩৪২)
কোন মুসলিম কালেমা তাইয়্যেবা পড়তে পড়তে ইন্তেকাল করলে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাত পাবে। মুআজ ইবনে জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যার শেষ কথা হবে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"। (মুস্তাদরাক হাকেম: হাদিস নং ১৮৭৮)
কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত প্রসঙ্গে আমরা কালেমা তাইয়্যেবার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস লক্ষ্য করেছি। হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন, মিরাজকালে আমি জান্নাতে প্রবেশের সময় এর দুইটি পাশে দেখি তিনটি লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা:
- এক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
- দুই. আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি, তা থেকে উপকৃত হয়েছি। যা ছেড়ে এসেছি, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
- তিন. উম্মত হল গুনাগার, আর রব হল ক্ষমাশীল"। (জামেউস সগীর: হাদিস নং ৪১৮৬)
কালেমা তাইয়্যেবার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গেলে দেখা যায়, এর (কালেমা তাইয়্যেবা) ওজন সাত আসমান-জমিনের চেয়েও বেশি। আবু সাঈদ খুদরি রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন, একবার মুসা আঃ বলেন, হে আমার রব! আমাকে এমন একটি বাক্য বলে দিন, যা দ্বারা আমি আপনার জিকির করতে পারি অথবা বলেছেন, তার দ্বারা আপনার কাছে দোয়া করতে পারি।
আল্লাহ বলেন, হে মুসা! তুমি বলবে - 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। তখন মুসা আঃ বলেন, হে আমার রব! আপনার সব বান্দাই তো এই বাক্যটি বলে থাকে। আমি আপনার কাছে এমন কিছু চাচ্ছি, যা খাস করে শুধু আমাকেই বলবেন। তখন আল্লাহ বললেন, হে মুসা! যদি সাত আসমান ও আমি ভিন্ন তার সমস্ত অধিবাসী ও সাত-জমিন এক পাল্লায় রাখা হয়, আর 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এক পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে নিশ্চিত 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর পাল্লা অবশ্যই ভারী হবে"। (শরহুস সুন্নাহ: হাদিস নং ১২৭৩; মুস্তাদরাক হাকেম: হাদিস নং ১৯৭২)
![]() |
কালেমা-তাইয়্যেবা-ও-কালেমা-শাহাদাত |
আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সাঃ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি প্রত্যেকদিন একশতবার পাঠ করবে-
আরবি উচ্চারণ:
لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা উচ্চারণ:
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলক ওয়ালাহূল হামদু, ওয়াহূয়া আ'লা কুল্লি শায়্যিন কাদির।
অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরিক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব এবং তিনি সকল প্রশংসার মালিক, আর তিনি সকল বস্তুর ওপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী' এটি তার জন্য দশটি গোলাম আজাদ করার সমান হবে।
তার আমলনামায় একশত নেকি লেখা হবে এবং তার আমলনামা থেকে একশত পাপ মোচন করা হবে। এ কালেমা সে দিন তার জন্য শয়তান থেকে ঢাল স্বরূপ হবে, যতক্ষণ না সে সন্ধ্যায় উপনীত হয়। আর সে যা নিয়ে উপস্থিত হবে তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবেনা, তবে যে এ কালেমা তার চেয়ে বেশি পাঠ করবে সে ব্যতীত"। (বুখারী ও মুসলিম)
কালেমা শাহাদাত
কালেমা শাহাদাত হল মহান আল্লাহ মনোনীত ধর্ম ইসলামে প্রবেশের প্রথম ভিত্তি। ইসলামের দ্বিতীয় কালেমা হচ্ছে কালেমা শাহাদাত যার অর্থ 'সাক্ষ্য বাক্য'। এক হাদীস থেকে জানা যায়- ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ্জ করা'। (তিরমিজি: হাদিস নং ২৬০৯)
কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত প্রসঙ্গে এবার আমরা কালেমা শাহাদাত এর আরবি উচ্চারণ, কালেমা শাহাদাত এর বাংলা উচ্চারণ এবং কালেমা শাহাদাত এর বাংলা অর্থ সহ ফজিলত জেনে নেব।
কালেমা শাহাদাত এর আরবি উচ্চারণ:
اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَه' وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه' وَرَسُوْلُه
কালেমা শাহাদাত এর বাংলা উচ্চারণ:
আশহাদু আল্লা ই-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।
কালেমা শাহাদাত এর বাংলা অর্থ:
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
কালেমা শাহাদাতের দুটি অংশ লক্ষ্য করা যায়। প্রথম অংশে মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য এবং দ্বিতীয় অংশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে। এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সমস্ত শিরক, কুফর এবং বিদ'আত মুক্ত জীবন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
কালেমা শাহাদাতের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত
কালেমা শাহাদাতের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। নিয়মিত কালেমা শাহাদাত পাঠের ফলে কাল কিয়ামতের ময়দানে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সমস্ত সৃষ্টির সম্মুখীন আলাদা করে হাজির করবেন। লোকটির সামনে ৯৯ টি আমলের (নিবন্ধন) খাতা খুলে দেবেন। একটি নিবন্ধন খাতা হবে যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এরপর তিনি (মহান আল্লাহ) তাকে বলবেন, এর একটি কিছু কি অস্বীকার করতে পারো? আমার নির্ধারিত সংরক্ষণকারী লিপিকারগণ (কিরামান-কাতেবীন নামক দুইজন ফেরেশতা) কি তোমার উপর কোন জুলুম করেছে? লোকটি বলবে, না। হে আমার পালনকর্তা! মহান আল্লাহ তা'আলা আবার বলবেন, তোমার কি কিছু বলার আছে? লোকটি আবার বলবে, না। হে আমার পালনকর্তা! এরপর আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ আমার কাছে তোমার একটি নেকি আছে। আজ তোমার উপর তো কোন জুলুম করা হবে না। তখন একটি ছোট্ট কাগজের টুকরা বের করা হবে।
এতে লেখা আছে কালেমা শাহাদাত -
اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَه' وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه' وَرَسُوْلُه -
( আশহাদু আল্লা ই-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু)
অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
এবার দয়াময় মহান আল্লাহ তায়ালা বলবেন, চলো এর ওজনের ক্ষেত্রে হাজির হও। লোকটি বলবে, ওহে আমার রব! এই একটি ছোট্ট টুকরা কাগজ আর এতগুলো নিবন্ধন খাতা! কোথায় কী? মহান আল্লাহ আবারও বলবেন, তোমার উপর অবশ্যই কোন জুলুম করা হবে না।
অনন্তর সব নিবন্ধন খাতা এক পাল্লায় রাখা হবে আর ছোট্ট সেই কালেমা শাহাদাত সম্বলিত কাগজের টুকরাটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। আল্লাহর কি মহিমা! সব দপ্তর ওজনে হালকা হয়ে যাবে আর কালেমা শাহাদাত সম্বলিত ছোট্ট কাগজের টুকরাটি ভারী হয়ে পড়বে! আল্লাহর নামের মোকাবেলায় কোন জিনিস সেদিন ভারী হবে না"। (তিরমিজি: হাদিস নং ২৬৩৯; মুস্তাদরাক হাকেম: হাদিস নং ১৯৭৩) (সুবাহানাল্লাহ!)
কালেমা শাহাদাতের আমল
মহান আল্লাহর নিকট যেকোনো ইবাদতের পূর্বশর্ত হল পবিত্রতা অর্জন। আর পবিত্রতা অর্জনের উত্তম মাধ্যম হলো অজু করা। অজু করার পর আসমান বা উপরের দিকে তাকিয়ে কালেমা শাহাদাত পাঠ করা মুস্তাহাব। উকবা ইবনে আমির রাঃ বলেন,
আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব। নিজেদের ওপর ছিল। এবার আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরে এলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাঃ কে পেলাম। তিনি দাঁড়িয়ে লোকজনের সাথে কথা বলছেন। আমি তখন তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, যে মুসলমান সুন্দর রূপে অজু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তাঁর প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় (সুবহানাল্লাহ!)।
উকবা বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলাম, ওহ! কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম। তিনি ওমর রাঃ। তিনি আমাকে বললেন, তোমাকে দেখেছি এইমাত্র এসেছো!
রাসূলুল্লাহ সাঃ এর আগে বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কামিল বা পূর্ণ অজু করে কালেমা শাহাদাত [আশহাদু আল্লা ই-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু] পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে "সুবাহানাল্লাহ!)। (মুসলিম: হাদিস নং ৪৪৬; ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪৪৬)
প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনারা কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন।
আরো পড়ুন:
সর্বশেষ কথা - কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত
কালেমা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্বলিত কয়েকটি আরবি পংক্তির নাম। এই কালেমার মাধ্যমে ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা পায়। কেউ মুসলমান হিসেবে দাবি করলে তাকে কালেমা অবশ্যই মনে প্রাণে বিশ্বাস করে তা আমলে পরিণত করতে হবে। কেননা কালেমার মূল অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস। কালেমার এই বিশ্বাস থেকেই সে ঈমানদার মু'মিন ব্যক্তি হতে পারবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কালেমা তাইয়্যেবা ও কালেমা শাহাদাত এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন - আমীন। আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে যেন আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url