মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম বিষয়ে অনেকেই জানতে চান নামাজ মহান আল্লাহর দেওয়া বান্দার জন্য একটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদ নামাজ সৃষ্টিকর্তার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল ইবাদত। তবে সকল নফল ইবাদতের মধ্যে এটি একটি অন্যতম ইবাদত। পুরুষ এবং মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম একই।
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ-পড়ার-নিয়ম
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ-পড়ার-নিয়ম 
এক হাদিস হতে জানা যায়, হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ফরজ নামাজের পর সকল নফল নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল তাহাজ্জুদ নামাজ'। (মুসলিম শরীফ, তিরমিজি, নাসাঈ) দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। চলুন মহিলাদের তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ম বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম এবং পুরুষদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম একই। অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে পুরুষ-নারীর নামাজের তেমন কোন পার্থক্য নেই। তাহাজ্জুদ নামাজ দুই রাকাত, দুই রাকাত করে মোট আট রাকাত নামাজ আদায় করতে পারলে ভালো। আর সময় না থাকলে শুধু দুই রাকাতই আদায় করতে পারবেন। কেউ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে চাইলে কমপক্ষে ২ রাকাত নামাজ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২ রাকাত নামাজ আদায় করতে পারবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, আপনি যত রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করবেন প্রতিদিন ওই একই রাকাত আদায় করা উত্তম। অর্থাৎ কেউ যদি দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন তবে প্রতিদিন দুই রাকাত ই যথেষ্ট।

 অধিকাংশ ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, রাসূলুল্লাহ সাঃ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেছিলেন। তবে নবী করীম সাঃ তাহাজ্জুদের নামাজ বেশিরভাগ ৮ রাকাত আদায় করতেন। সুতরাং ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করাই ভালো। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। আপনি যতটুকু আদায় করতে পারবেন, ততটুকু আদায় করবেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বলেছেন, 'যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী'।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

রাসূলুল্লাহ সাঃ কখনো মধ্যরাতে, কখনো তার কিছু আগে কিংবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আল ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন। তারপর মেসওয়াক ও উত্তম রূপে অজু করে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। সুতরাং মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসাবে উক্তরূপে মহিলাগন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

প্রথমে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ত করে তাকবীরে তাহরিমা 'আল্লাহু আকবার' বলে তাহাজ্জুদ নামাজ শুরু করা। অতঃপর সানাপড়া, সুরা ফাতিহা পড়া। তারপর সূরা মেলানো কিরাত পড়া। অতঃপর অন্যান্য নামাজের মত রুকু, সিজদা আদায় করা। একইভাবে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে তাশাহুদ, দুরুদে ইব্রাহিম ও দোয়া মাসুরা পড়ে প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা। এইভাবে দুই রাকাত, দুই রাকাত করে মোট আট রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম। তাহাজ্জুদের এই ৮ রাকাত নামাজের পক্ষে একটি হাদিস পাওয়া যায়।

হযরত আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা কে জিজ্ঞাসা করেন, 'রমজানে নবীজি সাঃ এর নামাজ কেমন হতো? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ রমজানে এবং রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য এবং দীর্ঘতা সম্পর্কে প্রশ্ন করো না। এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন'। (বুখারী, ১/১৫৪)

যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাঃ দুই রাকাত, দুই রাকাত করে মোট আট রাকাত নামাজ আদায় করতেন, সেহেতু দুই রাকাত, দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করাই উত্তম। যেকোনো সুরা ও আয়াত দিয়ে এই নামাজ পড়া যায়। তবে রাসূলুল্লাহ সাঃ লম্বা কিরাতে নামাজ আদায় করতেন, তাই লম্বা কিরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম। সুতরাং মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসেবে লম্বা কিরাত পড়া উচিত।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত - Tahajjud namaz niyat

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত - Tahajjud namaz niyat বলতে নফল নামাজের নিয়ত করতে হবে। কেননা তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল নামাজ। আরবি শব্দ 'নিয়ত' এর অর্থ হল মনের ইচ্ছা, সংকল্প বা প্রতীক প্রতিজ্ঞা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোন কাজের শুরুতে মনের মধ্যে যে ইচ্ছা পোষণ করা হয় মূলত সেটাকেই আরবিতে নিয়ত বলা হয়। ইসলামে নিয়ত খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা সকল কিছুর ফলাফলের জন্য নিয়তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। তাই তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত - Tahajjud namaz niyat করা জরুরী। মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসেবে এভাবে নিয়ত করতে পারেন।
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ-পড়ার-নিয়ম
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ-পড়ার-নিয়ম 

তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত করা ভালো, তবে কেউ আরবি জেনে না থাকলে বাংলায় নিয়ত করতে কোন বাধা নেই। চলুন তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত জেনে নিই।

তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত উচ্চারণ:

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِ - اَللهُ اَكْبَر
তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত বাংলা উচ্চারণ:
'নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাকআতাইত তাহাজ্জুদি - আল্লাহু আকবার'।

তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত বাংলা অর্থ:

'দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি - আল্লাহু আকবার'।

তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত করতে হলে নফল নামাজের নিয়ত করতে হবে। কেননা তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল নামাজ। কেউ যদি তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত করতে না পারেন তবে তিনি তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত করতে পারবেন। তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়তটি হল-
'হে আল্লাহ! আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি - আল্লাহু আকবার'।

তাহাজ্জুদ নামাজ কখন পড়া উত্তম

তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। যেহেতু তাহাজ্জুদ নামাজ অর্থ রাতের নামাজ, তাই তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় মধ্যরাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে কারো যদি ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে এশার নামাজের দুই রাকাত ফরজ, দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর এবং বিতর নামাজের পূর্বে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা জায়েজ আছে। কিন্তু শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম। সুতরাং মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসেবে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে নিলেই হবে।
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ
মহিলাদের-তাহাজ্জুদ-নামাজ

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নৈকট্য লাভ করেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পূর্বে অর্থাৎ শবে মেরাজের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামাজ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর উপর ফরজ ছিল। কারণ মহান আল্লাহ তখন তাঁকে নবুয়্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছেন। তাহাজ্জুদ নামাজ বান্দাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে দূরে রাখতে সক্ষম করে। এছাড়া শত্রুর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাহাজ্জুদ নামাজের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কেউ যদি টানা ৪০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন তাহলে তার জন্য বিশাল সওয়াব রয়েছে। এ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে অবশ্যই তা দিবেন। 

এ প্রসঙ্গে এক হাদীস থেকে জানা যায়, 
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, 'কেউ যদি তার কোন ইচ্ছা আল্লাহর কাছে পেশ করতে চায়, মহান আল্লাহর থেকে কিছু পেতে চায়, সে যেন টানা ৪০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে তার ইচ্ছা চেয়ে নেয়। অবশ্যই অবশ্যই তার যে কোন হালাল ইচ্ছা আল্লাহতালা কবুল করে নেবেন'। (বুখারী শরীফ)
তাহাজ্জুদ নামাজ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ যে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হারামাইন শরিফাইনে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আযান দেওয়া হয় এবং অতি গুরুত্বের সাথে আদায় করা হয়। 

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
'যারা শেষ রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা করেন তাদের প্রশংসা স্বরূপ কেয়ামত দিবসে বলবেন, তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে আর রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করে'। (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত নং ১৭-১৮)

মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
'তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্য্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুল ত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী'। (সূরা আল ইমরান, আয়াত নং ১৭)

মহান আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয় ভাগে আসমানের নিকটবর্তী হোন। তখন তিনি বলতে থাকেন, কে আছো যে আমায় ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব! কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দান করব! কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব! (বুখারী শরীফ, মুসলিম)

ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সবচেয়ে বেশি। (আহমাদ, মিশকাত পৃষ্ঠা ১১০)

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন,
'যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামাজ পড়ায়, এমনকি সে যদি জেগে না ওঠে তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয়, তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন। অনুরূপভাবে, কোন মহিলা যদি রাতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং সে তার স্বামীকে নামাজের জন্য জাগিয়ে তোলে, এমনকি স্বামী না জাগলে স্ত্রী তার মুখে পানি ছিটিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়, তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে'। (আবু দাউদ, নাসাঈ পৃষ্ঠা ১০৯)

রাসূলুল্লাহ সাঃ আরো বলেন,
'আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় নামাজ নবী দাউদ আঃ এর নামাজ। তিনি অর্ধেক রাত ঘুমাতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে নামাজ দাঁড়াতেন আর ষষ্ঠভাবে আবার ঘুমাতেন'। (সহিহ বুখারী, মুসলিম, মিশকাত: পৃষ্ঠা ১০৯)

মহান আল্লাহ যখন নিজে বান্দার কাছে প্রার্থনা ও ক্ষমার আহবান জানান, তখন বান্দার প্রার্থনা ও ক্ষমার আবেদন পূর্ণ হওয়ার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকে। তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি সম্পর্ক স্থাপিত হয়। রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের প্রতি তাদের কাজের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী থানার আহ্বান জানান।

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল

'তাহাজ্জুদ' শব্দের অর্থ হলো ঘুম থেকে জাগা। সুতরাং তাহাজ্জুদ নামাজ অর্থ রাতের নামাজ। এটি একটি নফল ইবাদত। অন্যান্য ফরজ নামাজের পর সুন্নত ও নফল সব ধরনের নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ এর গুরুত্ব ও ফজিলত সবচেয়ে বেশি। শবে মেরাজের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ ফরজ ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা থেকে বিরত হননি। যেহেতু তাহাজ্জুদ নামাজ নবী করিম সাঃ প্রতিদিন রাতে নিয়মিত আদায় করতেন। সেই হিসেবে এই নামাজ সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ সওয়াব লাভ করা যায়। তবে আদায় করতে না পারলে কোন গুনাহ নেই।
আরো পড়ুন:

সর্বশেষ কথা - মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

মহান আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষ উভয়কেই তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাহাজ্জুদ নামাজের নারী কিংবা পুরুষের জন্য আলাদা কোন নিয়ম নেই। তাহাজ্জুদ নামাজ গভীর রাতের পর পড়তে হয়। তাহাজ্জুদ নামাজের কোন নির্দিষ্ট রাকাত নেই। এটি যেহেতু একটি নফল নামাজ, তাই যার যত রাকাত ইচ্ছা তত রাকাত পড়তে পারবেন এবং তত বেশি সওয়াবের অধিকারী হবেন। তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। তবে রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রতি রাতে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ অধিকাংশ সময় আদায় করেছেন। সুতরাং পুরুষ ও মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম হিসেবে ৮ রাকাত পড়া উত্তম। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url