রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার পরামর্শ রইলো

রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার পরামর্শ রইলো। রমজান মাস হল মুসলমানদের নিকট সবচেয়ে বরকতময় এবং মর্যাদা পূর্ণ মাস। এই রমজান মাসেই মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হয়েছে। ইসলামে পুরো রমজান মাস জুড়ে একটানা সিয়াম বা রোযা রাখার কথা বলা হয়েছে।
রমজানে-অবশ্যই-তিনটি-আমল-করার-পরামর্শ
রমজানে-অবশ্যই-তিনটি-আমল-করার-পরামর্শ 
আল্লাহ সুবহানতা'য়ালা রমজানে বান্দাদের প্রতিটি আমলের জন্য বাড়তি সওয়াব দান করেন। সুতরাং এই রমজান মাসে অধিক পরিমাণ আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সওয়াব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন এই মাসে ইবাদতের জন্য অন্য সব ব্যস্ততা কমিয়ে দেন।

রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার পরামর্শ

রমজান মাসের তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রমজান হল বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোজা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা গুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজা গুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এই মাসে মহান আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে (মহাকল্যাণ থেকে) বঞ্চিত হলো।"  সুনান আত-তিরমিজি হাদিস নং ৬৮৩

রমজানে যে তিনটি আমল অবশ্যই করবেন 

রমজান মাস হল আমল ইবাদতের মাস। মুসলমানগণ এই পুরো মাসে আমল ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করেন। রমজানে যে তিনটি আমল অবশ্যই করার চেষ্টা করবেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
১। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ জামাতে আদায়
২। কোরআন তেলাওয়াত
৩। তারাবি, সুন্নত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত।
তো চলুন রমজানের অবশ্য পালনীয় তিনটি আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

১। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ জামাতে আদায়

নামাজ আদায় করা সম্পর্কে পবিত্র আল-কোরআনে ৮২ বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে এক হাদিসে মহানবী সাঃ বলেন, 
"কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার কাজগুলোর মধ্যে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে সে নাজাত পাবে এবং সফলকাম হবে। আর যদি নামাজ নষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" (নাসায়ি)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পুরো বছরের জন্য নিয়মিত অবশ্য পালনীয় ফরজ ইবাদত হলেও রমজানে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন মুসলমানগন। অনেকে সারা বছর অনিয়মিত সালাত আদায় করলেও রমজানে নিয়মিত হয়ে যান। আবার অনেকে রমজান মাসে নামাজ পড়লেও জামাতে নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেন না। অথচ জামাতে নামাজ আদায় এর সওয়াব অন্য যেকোন আমলের তুলনায় অধিক বেশি। জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
"জামাতের সাথে সালাত আদায় করা, একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদার।" বুখারী, হাদিস নং ৬৪৫ ; মুসলিম, হাদিস নং ৬৪০

আবার যারা অযথাই ও অবহেলা করে জামাতের সাথে নামাজ আদায় না করবে তাদের ব্যাপারে রাসূল সাঃ হুঁশিয়ারি করেছেন। অন্য এক হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, রাসূল সাঃ বলেছেন,
"আমার প্রাণ যাঁর হাতে, তাঁর কসম করে বলছি! অবশ্যই আমি সংকল্প করেছি- আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেবো। তারপর আমি নামাজের হুকুম দেবো এবং এজন্য আযান দেওয়া হবে। তারপর আমি এক ব্যক্তিকে হুকুম করব সে লোকদের নামাজ পড়াবে। এরপর আমি ওই লোকদের দিকে যাব যারা জামাতে হাজির হয়নি এবং তাদের বাড়ি-ঘর তাদের সামনে জ্বালিয়ে দেব।"  সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৪২০

সুতরাং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করা হলো রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার মধ্যে একটি। 
রমজানে-অবশ্যই-তিনটি-আমল-করার-পরামর্শ
রমজানে-অবশ্যই-তিনটি-আমল-করার-পরামর্শ 

২। কোরআন তেলাওয়াত

রমজান মাসের প্রাণ হলো কোরআন। কেননা এই পবিত্র মাসেই মহাগ্রন্থ আল কোরআন মাজিদ নাযিল হয়েছে। রমজান মাসে সিয়াম সাধনার চাইতে ফজিলতপূর্ণ কোন আমল না থাকলেও কোরআন অবতীর্ণের মাস হওয়ায় কোরআন তেলাওয়াত ও অধ্যায়নের সওয়াব কোন অংশেই কম নয়!  নবী করিম সাঃ নিজেও এই মাসে বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাই আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই মাসে বেশ বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা এবং আমল করা। অন্তত প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা বা কিছু সময় হলেও কোরআন তেলাওয়াত করা বা শোনা উচিত।

প্রতি রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাঃ এবং জিব্রাইল আঃ পরস্পরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। হযরত ফাতেমা রাঃ থেকে বর্ণিত, 
"তার পিতা তাকে বলেছে, প্রতি রমজানে জিব্রাইল আঃ কে একবার কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন কিন্তু মৃত্যুর বছর তিনি তাকে দু'বার কোরআন তেলাওয়াত করে শোনান।"  সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬২৮৫

সুতরাং রমজান মাসে প্রত্যেক ধর্ম প্রাণ মুসলমানের জন্য সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কোরআন তেলাওয়াত করা রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার মধ্যে একটি। 

৩। তারাবি, সুন্নত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত

প্রত্যেক রমজানের বিশেষ ইবাদত হল রাতের তারাবি নামাজ আদায় করা। এশার ফরজ নামাজের পর এই বিশেষ তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়। অবশ্য তারাবি নামাজের সঙ্গে অন্যান্য সুন্নত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত গুলো নিয়মিত করা উচিত। তারাবি নামাজের ফজিলত সম্পর্কে নবী করীম সাঃ বলেন,
"যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে, তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হয়।"  বুখারী, হাদিস নং ২০৪৭

রমজান মাসের শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত অন্তর্নিহিত রয়েছে। এই রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। লাইলাতুল কদরের রাতে মুসলমানগণ ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকেন।
এ সম্পর্কে রাসূল সাঃ আরো বলেন, 
"যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর এবাদত করেন, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়।"  মিশকাত, হাদিস নং ১৮ ৬২

অন্যান্য ইবাদতের মধ্যে মুসলমানগণ এই মাসে বেশি বেশি দান সদকা করে থাকেন। কেননা এই মাসের দান সদকা অন্যান্য মাসের চেয়ে অনেকগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজাদার ব্যক্তিদের সওয়াবের আশায় ইফতার করিয়ে থাকেন। তাছাড়া অনেকে এই মাসে অধিক সওয়াবের আশায় যাকাত আদায় করে থাকেন। সুতরাং তারাবি, সুন্নত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত করা রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করার মধ্যে একটি। 

সর্বশেষ কথা - রমজানে অবশ্যই তিনটি আমল করা

মুসলমানদের নিকট সবচেয়ে বরকতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ মাস হল এই রমজান মাস। এই মাসের শেষ দশকে লাইলাতুল কদরের রাত্রে মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হয়েছিল। মহান আল্লাহ তায়ালা রমজানে বান্দার প্রতিটি আমলের জন্য বাড়তি সওয়াব দান করে থাকেন। সুতরাং এই মাসে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা এবং তারাবি, সুন্নত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত যেন সঠিক ভাবে করতে পারি - মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই তৌফিক দান করেন। আমিন

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url