সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম সঠিক পদ্ধতি

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম সঠিক পদ্ধতি জেনে রাখুন। আসসালামু আলাইকুম। সালাত শব্দের অর্থ নামাজ এবং তাসবিহ শব্দের অর্থ মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করা বা জিকির করা। সুতরাং সালাতুত তাসবিহ শব্দের অর্থ তাসবিহ পাঠের নামাজ অর্থাৎ মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং একত্ববাদ জিকির সম্পর্কিত নামাজ। এটি একটি নফল নামাজ। গুরুত্বপূর্ণ এই সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম (salatul tasbih namaz) সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।
সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম
সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম।
নফল শব্দের অর্থ অতিরিক্ত। এটি ফরজের মতো বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল আদায়ে অধিক সওয়াব এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন হয়। ইসলাম ধর্মে ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর নফল নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসূলুল্লাহ সাঃ বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও উৎসাহিত করতেন। সালাতুত তাসবিহ নামাজ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ যে রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর উম্মতদের জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়তে  বলেছেন।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ (صلاة تسبيح)। 'সালাত' শব্দের অর্থ হলো নামাজ আর 'তাসবিহ' বলতে "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার" এই শব্দগুলোকে বোঝানো হয়েছে। সালাতুত তাসবিহ কে তাসবিহের নামাজও বলা হয়ে থাকে। সালাতুত তাসবিহ মোট চার রাকাত এবং প্রতি রাকাতে তাসবিহগুলো ৭৫ বার পড়তে হয় অর্থাৎ চার রাকাতে মোট (৭৫x৪) ৩০০ বার পড়তে হয়।

যে নামাজে মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা, প্রশংসা এবং একত্ববাদ সম্পর্কিত "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার" তাসবিহ পড়া হয় তাকে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহ এর নামাজ বলে। অনেকে 'সালাতুত তাসবিহ' নামাজকে 'সালাতুল তাসবিহ' বলে থাকেন। সালাতুত তাসবিহ একটি নফল ইবাদত এবং এটি একাকী আদায় করতে হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতদেরকে এই নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করেছেন এবং জীবনে একবার হলেও মুসলমানগণ যেন এই নামাজ পড়ে - এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। আমরা দুটি পদ্ধতি আলোচনা করব।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম প্রথম পদ্ধতি

সালাতুত তাসবিহ দুপুরে যখন সূর্য পশ্চিম দিকে হেলিয়ে যায় তখন অথবা রাতে এশার চার রাকাত ফরজ, ও দুই রাকাত সুন্নত নামাজের পর তিন রাকাত বিতর নামাজের পূর্বে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত নির্জন একাকী পড়া উত্তম। সালাতুত তাসবিহ মোট চার রাকাত বিশিষ্ট। আর এই চার রাকাতের প্রতি রাকাতে -

"সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার" 
আরবি: سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
বাংলা অর্থ: আল্লাহ মহা পবিত্র! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। 
সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম
সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম।
এই তাসবিহগুলো মোট ৭৫ বার করে পড়তে হয়। সেই হিসেবে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ গুলো পড়তে হয়। চলুন সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম গুলো বিস্তারিত জেনে নিই।
  • কিয়াম
  • রুকু
  • সিজদা

কিয়াম

প্রথম রাকাতে সালাতুত তাসবিহ নফল নামাজের নিয়ত করতে হবে। তারপর সানা, সূরা ফাতেহা ও যেকোনো একটি সূরা/কিরাত তেলাওয়াত শেষ করে দাঁড়ানো অবস্থাতেই ১৫ বার এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

রুকু

এরপর রুকু করবে এবং রুকু অবস্থায় রুকুর দোয়া পাঠ করার পর ১০বার এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে।
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় 'রাব্বানা লাকাল হামদ' পড়ার পর আরো ১০ বার এই তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

সিজদা

তারপর সিজদায় যাবে এবং সিজদা অবস্থায় সিজদার দোয়া পাঠের পর এই তাসবীহ ১০ বার পাঠ করবে।
সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে বসা অবস্থায় (আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ওয়ার হামনি ওয়াহাদিনি ওয়াআফিনী ওরজুকনি) পড়ার পর ১০ বার এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

পুনরায় দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে একই নিয়মে ১০ বার এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে।
দ্বিতীয় সিজদা থেকে 'আল্লাহু আকবার' বলে বসে আবার ১০ বার এই তাসবিহ পাঠ করতে হবে।
এভাবে এক রাকাতে ৭৫ বার বর্ণিত তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

তারপর দ্বিতীয় রাকাতে প্রথম রাকাতের নিয়ম অনুযায়ী তাসবিহ পাঠ করতে হবে। তবে দুই রাকাতের পর প্রথম বৈঠক এবং চার রাকাতের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু (তাশাহুদ) পড়ার আগে এ তাসবিহ ১০ বার পাঠ করতে হবে। এই নিয়মে চার রাকাত সালাতুত তাসবিহ নামাজে ৩০০ বার বর্ণিত তাসবিহ পাঠ করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, সালাতুত তাসবিহ নামাজের চার রাকাতেই সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। (উপরের প্রথম পদ্ধতি মিশকাত শরীফ, আবু দাউদ, তিরমিজি শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে)। 

আশা করি, সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম সম্পর্কে আপনারা সঠিক নিয়মটি জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। (সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম দ্বিতীয় পদ্ধতি

সালাতুত তাসবিহ চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে দাঁড়ানোর পর সানা পড়ে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও যে কোন একটি সূরা পড়ার পর ১০ বার, রুকুতে যাওয়ার পর ১০ বার, রুকু হতে উঠে ১০ বার, সিজদায় গিয়ে ১০ বার, সিজদা হতে বসে ১০ বার, দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে ১০ বার সর্বমোট ৭৫ বার তাসবীহ পাঠ করতে হবে। এই নিয়মে দ্বিতীয় সিজদার পরে বসে ১০ বার তাসবিহটি পড়তে হয় না, যেহেতু দাঁড়িয়ে ২৫ বার পড়া হয়ে যাচ্ছে তাই প্রথম নিয়মের সাথে এটুকুই শুধু পার্থক্য। (এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটি তিরমিজি শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে)

সালাতুত তাসবিহর নামাজের হাদিস

সালাতুত তাসবিহ নামাজ একটি নফল ইবাদত। এটি একাকী নির্জন ভাবে পড়তে হয়। একজন মুসলিম হিসেবে দাবি করতে হলে তার জীবদ্দশায় একটি বারের মতো হলেও এই সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়তে হবে। হাদিস শরীফে আছে, 
'নবী করীম সাঃ বলেন, জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেন এই সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়ে'। (আবু দাউদ, হাদিস নং ১১২৯৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৩৮৭; সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ১২১৬; সুনানে বায়হাকি কুবরা, হাদিস নং ৪৬৯৫)

রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর চাচা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে এই নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন। বলেছেন, সালাতুত তাসবীহ নামাজ পড়লে আল্লাহ তা'আলা আগের ও পরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন। 

তিনি (রাসূল সাঃ) বলেন,
"চাচা! আপনি যদি পারেন তবে দৈনিক একবার করে এই নামাজ পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসেও না পারেন তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়বেন"। (বুখারী, হাদিস নং ৩৪২৩; ইবনে মাজা ১৭৩)

সালাতুত তাসবিহ নামাজ দ্বারা জীবনের ছোট-বড়, স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায়, নতুন-পুরনো, গোপন-প্রকাশ্য সকল রকম গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সুতরাং মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকেরই জীবনে একবার হলেও এই সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়া উচিত।
মহিলাদের-সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম
মহিলাদের-সালাতুত-তাসবিহ-নামাজের-নিয়ম।

মহিলাদের সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম

পুরুষ এবং মহিলাদের সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম পদ্ধতি একই। তবে মহিলাদের সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম সামান্য কিছু ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য এই নামাজ একটি নফল ইবাদত। চলুন মহিলাদের সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম জেনে নিই।

মহিলাদের সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম পদ্ধতি

প্রথমে উত্তমরূপে অজু করে পাক-পবিত্র হয়ে পবিত্র স্থানে বা জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে মুখে উচ্চারণ করে বলবেন অথবা মনে মনে এই নিয়ত করবেন যে, আমি কেবলামুখী হয়ে চার রাকাত সালাতুত তাসবিহ এর নফল নামাজ আদায় করছি।

তারপর উভয় হাত মহিলাগন কাঁধ বরাবর হাত উঠাবেন, তারপর 'আল্লাহু আকবার' বলে বুকের ওপর হাত বাঁধবেন এবং বাম হাতের উপর ডান হাত রাখবেন।
এরপর সানা 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারা কাসমুকা ওয়া তা'য়ালা জাদুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা' পড়বেন।

তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। সূরা ফাতিহা শেষ করার পর যেকোনো একটি সূরা পাঠ করবেন এবং সূরা পাঠ শেষে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে দাঁড়ানো অবস্থাতেই তাসবিহ "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার" ১৫ বার পাঠ করবেন।

অতঃপর রুকুতে যাওয়ার পর রুকুর দোয়া শেষ করে ১০ বার "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার"  পাঠ করবেন।

তারপর রুকু হতে দাঁড়িয়ে 'রাব্বানা লাকাল হামদ' বলার পর হাতছাড়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে ১০ বার "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার"  পাঠ করবেন।
তারপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় গিয়ে সিজদার দোয়া করার পর দশবার উক্ত তাসবিহ টি পড়বেন।

এরপর দুই সিজদার মাঝে বসে 'আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ওয়ার হামনি ওয়াহাদিনি ওয়াআফিনী ওরজুকনি' পড়ার পর ১০ বার উক্ত তাসবিহটি পড়বেন।

আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার দোয়া করার পর উক্ত তাসবিহটি ১০ বার পড়বেন।
তারপর দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে বসতে হবে এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর পূর্বে উক্ত তাসবিহটি ১০ বার পড়বেন।

দ্বিতীয় রাকাত শেষ করে যখন প্রথম বৈঠকে বসবেন তখন তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার আগে উক্ত তাসবিহটি ১০ বার পড়বেন। তারপর আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন এবং তৃতীয় রাকাতের জন্য পুনরায় দাঁড়াবেন। এমনিভাবে চতুর্থ রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় বৈঠকে যখন বসবেন তখন তাসবিহটি ১০ বার পড়ার পর তাশাহুদ, তারপর দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পড়ে প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এইভাবে প্রতি রাকাতে এই "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার" তাসবিহ মোট ৭৫ বার পড়তে হবে। এমন ভাবে প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে চার রাকাতে সর্বমোট (৭৫x৪) ৩০০ বার তাসবিহ পাঠ করতে হবে। (মিশকাত, আবু দাউদ, তিরমিজি)
এখানে উল্লেখ্য যে, সালাতুত তাসবিহ নামাজের চার রাকাতেই সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। আশা করি মহিলাদের সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। 

মহিলাদের সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম দ্বিতীয় পদ্ধতি

সালাতুত তাসবিহ চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে দাঁড়ানোর পর ছানা পড়ে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও যে কোন একটি সূরা পড়ার পর ১০ বার, রুকুতে যাওয়ার পর ১০ বার, রুকু হতে উঠে ১০ বার, সিজদায় গিয়ে ১০ বার, সিজদা হতে বসে ১০ বার, দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে ১০ বার সর্বমোট ৭৫ বার তাসবীহ পাঠ করতে হবে। এই নিয়মে দ্বিতীয় সিজদার পরে বসে ১০ বার তাসবিহটি পড়তে হয় না, যেহেতু দাঁড়িয়ে ২৫ বার পড়া হয়ে যাচ্ছে তাই প্রথম নিয়মের সাথে এটুকুই শুধু পার্থক্য। (এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটি তিরমিজি শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে)

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মহিলাগন উপরোক্ত দ্বিতীয় পদ্ধতি নিয়মেও সালাতুত তাসবিহ আদায় করতে পারেন)।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম - তাসবিহ ভুল হলে করণীয়

সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়া অবস্থায় দানাদার তাসবীহ হাতে গণনা করা মাকরূহ (অনুচিত)। এমনকি হাতের আঙ্গুলের করগুলোতেও গণনা করা যাবে না বরং তাহরিমা বাঁধা অবস্থাতেই হাতের আঙ্গুলের মাথা গুলো টিপে টিপে তাসবিহ গণনা করতে হবে।

কোন স্থানে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে পরবর্তী তাসবিহ পাঠের সময় তা আদায় করে নিতে হবে। তবে রুকু থেকে দাঁড়ানোর কালে এবং দুই সিজদার মাঝখানের সময়ে পূর্বের ভুলে যাওয়া তাসবিহ আদায় করা যাবে না। সূরা - কিরাত পড়ার পূর্বে তাসবিহ ভুলে গেলে সূরা-কিরাত পাঠের পরে সেটি আদায় করে নিতে হবে। একইভাবে কিরাতের পর তাসবিহ ভুলে গেলে রুকুতে গিয়ে আদায় করতে হবে। রুকুতে তাসবিহ ভুলে গেলে উক্ত তাসবিহ প্রথম সিজদায় আদায় করে নিতে হবে।

সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে তা প্রথম সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। প্রথম সিজদাতে তাসবিহ ভুলে গেলে তা দুই সিজদার মাঝখানে আদায় না করে বরং দ্বিতীয় সিজদাতে গিয়ে আদায় করে নিতে হবে। ঠিক দুই সিজদার মাঝখানের তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে তাও দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে পড়ে নিতে হবে। আর একইভাবে দ্বিতীয় সিজদাতে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে পরের রাকাতে সূরা-কিরাত পাঠ করার পূর্বে পড়ে নিতে হবে। নামাজের সর্বশেষ সিজদার তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে সালাম ফেরানোর পূর্বে তাজবি পড়ে নিতে হবে।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফজিলত

এবার আমরা সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম শিরোনামের লেখাটিতে আমরা সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফজিলত আলোচনা করব। এক সাহাবী হতে বর্ণিত তিনি বলেন, 
'রাসূলুল্লাহ সঃ আমাকে বললেন, তুমি আগামীকাল সকালে এসো আমি তোমাকে একটি বকশিশ দেব, একটি জিনিস দেব, একটি বস্তু দান করব। সাহাবী রাঃ বলেন, এই কথার দ্বারা আমি মনে করলাম হুজুর সাঃ আমাকে কোন পার্থিব সম্পদ দান করবেন! আমি পরদিন এসে হাজির হলে রাসূলুল্লাহ সাঃ ফরমালেন, দুপুরে যখন সূর্য হেলে যায় তখন চার রাকাত সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়িও আর এটাও বললেন যে, তুমি যদি সারা দুনিয়ার মানুষের চাইতে বেশি গুনাহগার হও, তবুও তোমার গুনা মাফ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, দিনে অথবা রাতে যে কোন সময় পড়ে নিতে পারো'। (আবু দাউদ)

রাসূলুল্লাহ তাঁর আপন চাচাতো ভাই হযরত জাফর রাঃ কে হাবশায় পাঠিয়েছিলেন। হাবসা হতে মদিনায় ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ সাঃ তার সাথে কোলাকুলি করলেন এবং কপালে চুম্বন করলেন। তারপর এরশাদ করলেন, আমি তোমাকে একটা জিনিস দেবো, একটা সুসংবাদ শোনাবো, একটা বকশিশ দেবো, একটা উপহার দেবো! হযরত জাফর রাঃ বললেন, অবশ্যই দিন। রাসূল সাঃ এরশাদ ফরমালেন, চার রাকাত নামাজ পড়ো। অতঃপর উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করলেন। এই হাদিসে উক্ত চার কালেমার সাথে 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম' পড়ার কথা এসেছে। (হাকেম)

সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফজিলত ও তাৎপর্য এতটাই যে, মহান আল্লাহ তা'আলা বান্দার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ, নতুন ও পুরাতন গুনাহ, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, সগিরা ও কবীরা গুনাহ, প্রকাশ এবং অপ্রকাশ্য গুনাহ সব মাফ করে দিবেন।
আরো পড়ুন:

সর্বশেষ কথা

সালাতুত তাসবিহ একটি নফল ইবাদত। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিমকে জীবনে অন্তত একবার হলেও সালাতুত তাসবিহ পড়তে রাসূলুল্লাহ সাঃ নির্দেশ করেছেন। সালাতুত তাসবিহ নামাজের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতুত তাসবিহ নামাজে সর্বমোট ৩০০ বার তাসবিহ পাঠ করতে হয়। আমার মতে, সালাতুত তাসবিহ নামাজ প্রথম পদ্ধতিতে পড়া উত্তম হবে। আমরা যারা এখনো সালাতুত তাসবিহ আদায় করিনি তারা যেন মৃত্যুর আগে হলেও একবার আদায় করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই তৌফিক দান করুন - আমীন। আশা করি সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম শিরোনামের লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url