তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ জেনে রাখুন
তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ জেনে রাখুন। পবিত্র রমজান মাসে ধর্ম প্রাণ মুসলমানগণ পুরো মাস সিয়াম সাধনার পাশাপাশি বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। সংযমের এ মাসে তারাবির নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সঠিকভাবে তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ আমাদের জেনে রাখা উচিত।
![]() |
তারাবির-নামাজের-নিয়ম-ও-দোয়া-সমূহ। ছবি-এআই |
রমজান মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ আমল হল তারাবি নামাজ। তারাবি নামাজের নিয়ম মেনে নামাজ পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইসলামের একটি বিশেষ সুন্নত ইবাদত। নিয়ম মেনে নামাজ পড়লে মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবেন এবং নবী করিম সাঃ এর সুন্নত পালন করতে সক্ষম হবেন। তাহলে চলুন আমরা তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ বিস্তারিত জেনে নিই।
তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ
আরবি 'তারাবি' শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। রমজান মাসের এশার চার রাকাত ফরজ নামাজ, দুই রাকাত সুন্নত নামাজের পর ও বিতর নামাজের পূর্বে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবির নামাজে দীর্ঘ সূরা ও আয়াত পড়া হয় যা মুসলিমদের আত্মশুদ্ধি ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। সঠিক নিয়ম অনুযায়ী তারাবির নামাজ আদায় করলে সমাজে একে অপরের সঙ্গে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়; শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিয়মিত ও সঠিকভাবে তারাবির নামাজ আদায় করলে গুনাহ মাফ হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, যা রমজান মাসের একটি বিশেষ বরকত।
তারাবির নামাজের নিয়ম
তারাবির নামাজ রমজান মাসে এশার নামাজের পর অতিরিক্ত নামাজ হিসেবে পড়া হয়। এই নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত) হিসেবে আদায় করা হয়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ নিজে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবীদেরকেউ তা আদায়ের জন্য বলেছেন। সাধারণত এই নামাজ ইমামের সাথে জামাতে পড়া হয়। তবে এককভাবে বা পরিবারের সবাই মিলে একত্রে বাড়িতেও পড়া যায়। অন্যান্য নামাজের চেয়ে তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম কিছুটা আলাদা এবং এখানে তার বিস্তারিত নিয়মাবলী দেওয়া হল-
- তারাবির নিয়ত
- তারাবির রাকাত সংখ্যা
- প্রতিটি রাকাত
- তাশাহুদ ও সালাম ফেরানো
- জামাতে তারাবি আদায়
- ইমাম ও মুত্তালি
- মকবুল ও পরিশুদ্ধি
- বিশ্রাম।
এবার আমরা তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিব।
তারাবির নিয়ত
অন্যান্য নামাজের মত আমরা যখন তারাবির নামাজে দাঁড়ায়, তখন আমাদের স্মরণে থাকে, আমি তারাবির নামাজ আদায় করছি - এই স্মরণটাই মূলত তারাবির নিয়ত হয়ে যায়। তবুও এভাবে নিয়ত করা যায় যে, আমি দুই রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ আদায়ের জন্য কিবলামুখী হয়ে নিয়ত করছি। তারপর 'আল্লাহু আকবার' বলে নামাজ শুরু করা যায়। তারপরও আপনারা যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতে নিয়ত করতে পারবেন। আরবিতে নিয়ত করা অত্যাবশ্যকীয় নয়। আপনাদের সুবিধার্থে তারাবি নামাজের আরবি নিয়ত, বাংলায় উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ দেওয়া হলো।
আরবি উচ্চারণ
نويت أن أصلي لله تعالى ركعتي صلوة التراويح سنة رسول الله متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
বাংলা উচ্চারণ
"নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকাতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতে রাসূলুল্লাহি তা'আলা মুতা ওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।"
বাংলা অর্থ
'আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।'
তারাবির রাকাত সংখ্যা
তারাবির নামাজ মোট ৮, ১০ ও ২০ রাকাত পড়া হয়। তবে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত অধিক প্রচলিত এবং এটি সুন্নত মনে করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ হানাফী মাযহাবের অনুসারী। আর হানাফী মাযহাব অনুযায়ী তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। এর স্বপক্ষে অনেক দলিল রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ২০ রাকাত তারাবি পড়া হতো। সেই অনুযায়ী সাহাবায়ে কেরামগণ ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়তেন এবং সেই সূচনা লগ্ন থেকেই মক্কা-মদিনায় ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে একটি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। হাদীসটি হল-
তিনি একদা আয়েশা রাঃ কে জিজ্ঞেস করেন, যে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর রমজানের রাতের সালাত কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, রাসূল সাঃ রমজান মাসে এবং রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে (২+২) চার রাকাত পড়তেন। তুমি (আবু সালামা) তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাকাত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, ২০১৩)
এই হাদীসটি প্রায় সকল হাদিস গ্রন্থেই বর্ণিত হয়েছে। এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আলোচনার প্রশ্নই উঠে না। কারণ ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিজরী) এবং মুসলিম (২০৪ - ২৬১ হিজরী) স্ব স্ব সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। সেই হিসেবে তারাবির নামাজ ৮ রাকাত।
প্রতিটি রাকাত
তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে দশ সালামে মোট ২০ রাকাত নামাজ পড়তে হয়। প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং এর পরে অন্য যেকোনো একটি সূরা ও আয়াত পড়া হয়। সাধারণত সূরা ইখলাস, সূরা ফীল বা ছোট সূরা পড়া হয়। তবে তারাবির নামাজে বড় সূরা ও আয়াত পড়া উত্তম।
তাশাহুদ ও সালাম ফেরানো
তারাবি নামাজের প্রতি দু রাকাতের পর বসে তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা পাঠ করা হয়। তারপর প্রথমে ডান দিকে, পরে বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ সমাপ্ত করা হয়। তবে জামাতে তারাবির নামাজ পড়ার সময় ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পরেই এক যোগে সবাই সালাম ফিরিয়ে নামাজ সমাপ্ত করেন।
জামাতে তারাবি আদায়
তারাবি নামাজ একাকী পড়ার চেয়ে জামাতে পড়া উত্তম। এতে একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে নামাজ পড়ার মাধ্যমে ঐক্য বৃদ্ধি পায় এবং একটি উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। রাসূলুল্লাহ সাঃ নিজে কয়েক রাত জামাতে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। তবে ফরজ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিয়মিত করেননি।
ইমাম ও মুত্তালি
ইমাম সাহেব যদি তারাবি নামাজ এর জন্য একা বা জামাতে নামাজ আদায় করেন, তাহলে ইমাম সাহেব স্বাভাবিকভাবে নামাজের নেতৃত্ব দেন এবং মুত্তালি (পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা নামাজ পড়া) অনুসরণ করেন।
মকবুল ও পরিশুদ্ধি
রমজান মাস পাপ মোচনের মাস। তারাবি নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলমান তার পুরনো গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন এবং তিনি যদি ঈমান ও সঠিক নিয়ত নিয়ে এটি পড়েন।
বিশ্রাম নেওয়া
আরবি তারাবি শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। তাই তারাবি নামাজে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। প্রতি চার রাকাত পর পর চার রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সময় বিরতি দিতে হয়। যদি এই পরিমাণ বিরতির কারণে মানুষের কষ্ট হয় কিংবা তারাবির জামাতের লোক সংখ্যা কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে এর চেয়ে কম সময়ে বেরাতে নেয়া যাবে, কোন সমস্যা নেই।
তারাবির নামাজের তাসবিহ
এশার ফরজ নামাজ পড়ার পর তারাবির নামাজ শুরু হয়। দুই রাকাত করে তারাবির নামাজ পড়া হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর তাসবিহ এবং ছোট দোয়া পড়ে বিশ্রাম নেওয়া হয়। নিচে তাসবিহ উল্লেখ করা হলো।
তাসবীহ: "সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস" - ৩ বার করে পড়ুন।
বিতরের নামাজ আদায়
সঠিকভাবে তারাবি নামাজ শেষ করে তিন রাকাত বা পাঁচ রাকাত বা সাত রাকাত বিতরের নামাজ আদায় করতে হয়। অবশ্য এটি এশার নামাজের অংশ। কেননা বিতর নামাজ এর পর আর অন্য কোন নামাজ পড়া উচিত নয়। বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাত বা শেষ রাকাতে দোয়া কুনুত পড়তে হয়।
রমজান মাসে এই নিয়মে তারাবির নামাজ আদায় করে আল্লাহর নিকট্য লাভ করা যায় এবং আত্মার উন্নতির সুযোগ হিসেবে মু'মিনদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়।
তারাবির নামাজের দোয়া
পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ মাস। এই মাসে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট্য লাভ করা যায়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন এই মাছকে ইবাদতের জন্য অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, দিনের বেলা রোজা এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন। এই মাসে রাতের বেলা তারাবির নামাজ আদায় করা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এই মাসে তারাবির নামাজে বিশেষ দোয়া করা হয়। তারাবির নামাজে চার রাকাত পর পর বিরতির সময় দোয়া পাঠ করতে হয়। প্রায় সব মসজিদের অধিকাংশ মুসলমান নর-নারী এ দোয়াটি অতি গুরুত্বের সঙ্গে পড়ে থাকেন। দোয়াটির সঙ্গে নামাজ শুদ্ধতা হওয়ার না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। না পড়লে কোন অসুবিধা নেই, পড়লে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। আপনি যদি তারাবির নামাজের এই বিশেষ দোয়াটি না জেনে থাকেন তাহলে নিম্নে বর্ণিত তারাবির নামাজের দোয়াটি মুখস্ত করে নিতে পারেন। তারাবির নামাজের দোয়াটি আরবি উচ্চারণ বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থসহ নিচে দেওয়া হল।
রমজানের তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ
তারাবির নামাজের দোয়া আরবি উচ্চারণ
( ِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ)
سبحان ذي الملك والملاكوت سبحان العزت والعظمت الهيبة والقدرة و الكبرياء والجبروت سبحان الملك القدوس الحي الذي لا ينام ولا يموت سبوح قدوس ربنا ورب الملائكه والروح
তারাবির নামাজের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাল ইজ্জত ওয়াল আজমাতি ওয়াল হাই বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুতি সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুসিল হাইয়িল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু ছুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।
তারাবির নামাজের দোয়া বাংলা অর্থ
(পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি)
"আমি তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি এই সকল সাম্রাজ্য ও ফেরেশতাকুলের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান, মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্ত্বা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী। তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ, যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমান না এবং চির মৃত্যুহীন সত্ত্বা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময়। আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিব্রাইল আঃ এর প্রতিপালক।"
তারাবির নামাজের দোয়া
রমজান মাসে তারাবির নামাজের পর দোয়া করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। নিম্নে একটি প্রসিদ্ধ দোয়া উপস্থাপন করা হলো যা তারাবির নামাজের পর পড়া হয়। রাসূল সাঃ নিজেই এই দোয়া শিখিয়েছেন এবং রমজানের শেষ ১০ দিনে এটি বিশেষভাবে পড়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
আরবি উচ্চারণ
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الصَّالِحِينَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَّقِينَ، وَاجْعَلْنَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَنَجِّنَا مِنَ النَّارِ
বাংলা উচ্চারণ
'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।'
বাংলা অর্থ
'হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।'
রমজান মাসে আমরা বেশি বেশি এই দোয়াটি পাঠ করব এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো। যেহেতু তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন এবং তিনি ক্ষমাশীল। তাই তিনি রমজানের তারাবির নামাজের উসিলায় আমাদের ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
তারাবির নামাজের মোনাজাত
আমাদের দেশে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ শেষ করে একটি মোনাজাতের প্রচলন আছে। অর্থাৎ তারাবির নামাজ শেষ করে এই মোনাজাতটি পাঠ করা হয়। যেহেতু তারাবির নামাজের মোনাজাত নিজেকেই পাঠ করতে হয়, সেহেতু তারাবির নামাজের মোনাজাত মুখস্ত করে নেওয়া ভালো।
তারাবির নামাজের মোনাজাত আরবি উচ্চারণ
( ِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ)
اللهم إنا نسألك الجنة ونعوذ بك من النارياخالق الجنة والنار برحمتك يا عزيز يا غفار يا كريم يا ستار يا رحيم يا جبار يا خالق يا بار
اللهم اجرنا من النار يا مجير يا مجير يا مجير برحمتك يا أرحم الراحمين
তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা উচ্চারণ
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
"আল্লাহুম্মা ইন্না নাস আলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তা।র ইয়া রাহিমু ইয়াদ জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার ইয়া মজিরু, ইয়া মজিরু ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।"
তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ
(পরম করুনাময় মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি)
"হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমরা তোমার নিকট বেহেস্ত চাই এবং দোজখ হতে মুক্তি চাই। হে বেহেশত-দোযখ সৃজনকারী, তোমারই অনুগ্রহ দ্বারা হে সর্বজয়ী, হে ক্ষমতাশীল, হে মহান দয়ালু, হে বৃহৎ দোষ আচ্ছাদনকারী, হে কৃপাময়, হে মহান শক্তিধর, হে মহান সৃষ্টিকর্তা, হে উপকারী, হে আল্লাহ! আমাদেরকে দোজখ হতে রক্ষা করুন। হে রক্ষাকারী! হে রক্ষাকারী!! হে রক্ষাকারী!!! হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু, দাতা! তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে রক্ষা করো।"
![]() |
তারাবির-নামাজের-নিয়ম-ও-দোয়া-সমূহ। ছবি-এআই |
তারাবি নামাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস -তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ
১। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
"রাসূল সাঃ তারাবি নামাজ মসজিদে সাহাবীদের সঙ্গে জামাতে পড়তেন। একদিন তিনি নামাজ পড়তে বের হন কিন্তু পরের দিন অন্য কোন কারণে বের হননি। পরদিন সাহাবীরা তাঁকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল সাঃ! আপনি আজ আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়েননি'। তখন রাসূল সাঃ বললেন, 'আমি জানতাম যে, যদি আমি এটি নিয়মিত করে দেই, তোমরা হয়তো একে ফরজ মনে করতে শুরু করবে"। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০১২)
২। রাসূল সাঃ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমান ও ইখলাসের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬ ও মুসলিম)
৩। অন্য এক হাদিসে রাসূল সাঃ বলেছেন,
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'য়ালা রোজাকে তোমাদের উপর ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবি নামাজকে সুন্নত করেছি। যে ব্যক্তি রমজানে ঈমান এবং সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে ও তারাবি নামাজ পড়বে, সে তার সব গুনাহ থেকে এমন ভাবে মুক্ত হবে, যেভাবে একটি শিশু নিষ্পাপ অবস্থায় জন্মায়।" (সুনানে নাসায়ি, পৃষ্ঠা নং ২৩৯)
৪। নবী করিম সাঃ বলেছেন,
"রমজান মাসে রাতে তারাবি নামাজ পড়া মু'মিনের জন্য একটি বড় উপহার।" (আত - তাবারানি)
৫। আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত,
"রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি তারাবি নামাজে নেতৃত্ব দেবে, তার নামাজ তার সকল মুসলিম ভাইদের জন্য পূর্ণ হবে।" (আবু দাউদ)
৬। অন্য এক হাদিস আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত
"রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি তারাবি নামাজ পড়বে, সে তার রমজান মাসের সমস্ত দিনে তাকওয়া অর্জন করবে।" (আত - তাবারানি)
৭। রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন যে,
"তোমরা আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরো এবং খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরো। তার ওপর তোমরা অটুট থাকো।" (আবু দাউদ: ৪৬০৭, তিরমিজি: ২৬৭৬)
৮। হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত,
"রাসূল সাঃ রমজান বা রমজানের বাইরে কখনো ১১ রাকাতের বেশি আদায় করতেন না। প্রথমে ৮ রাকাত আদায় করতেন, তারপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (সহিহ বুখারী: হাদিস নং ১৯০৯)
রমজান মাসের তারাবি নামাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলমানদের জন্য বিশেষ ফজিলত এবং পুরস্কারের একটি ভালো উৎস। তারাবির নামাজ রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নত হিসেবে রমজান মাসে রাতে আদায় করা হয় এবং এটি মুসলিমদের আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে বিশেষ সহায়তা করে। রমজান মাসে তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ সঠিকভাবে জেনে আমরা পুরো মাস অতিবাহিত করব।
আরো পড়ুন:
![]() |
তারাবির-নামাজের-নিয়ম। ছবি-এআই |
কিছু প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি সুন্নত নাকি নফল?
উত্তর তারাবির নামাজ সুন্নত। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত)।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ ৮ নাকি ২০ রাকাত?
উত্তর: তারাবির নামাজ ৮ রাকাত এবং ২০ রাকাত উভয়ই সঠিক। ( তারাবি সম্পর্কিত উপরের ৮টি হাদিস পড়ে দেখতে পারেন)
প্রশ্ন: তারাবির নামাজের সময় কখন?
উত্তর: এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বিতর নামাজের পূর্বে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তারাবির নামাজ পড়া যাবে।
প্রশ্ন: ঘরে একা তারাবির নামাজ পড়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ যাবে। নবী করিম সাঃ বেশিরভাগ তারাবির নামাজ নিজ বাড়িতে পড়তেন।
সর্বশেষ কথা - তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ
আরবি হিজরি সনের নবম মাস হলো রমজান। এই মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ। এই মাসে মুসল্লিগণ দিনে রোজা এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করে থাকেন। এতে একজন মুসলমান তার সকল পাপ থেকে মুক্তি পায় এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। তাই রমজান মাসে তারাবির নামাজের নিয়ম ও দোয়া সমূহ সঠিকভাবে মেনে এবাদত করা উচিত। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে এবং উপকৃত হয়েছেন। লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url