আরো পড়ুন: আশা এনজিও লোন পদ্ধতি (আশা লোন ডট কম)। আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন? আপনার উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় আছেন। কেননা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য অনেকেই আবেদন করতে ভুল করে থাকেন তাই সঠিক সময়ে কাঙ্খিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন থেকে বঞ্চিত হন।
![]() |
| প্রবাসী-কল্যাণ-ব্যাংক-লোনের-জন্য-আবেদন |
পোস্ট সূচিপত্র:আজকে তাদের কথা বিবেচনা করেই আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন শিরোনামের লেখাটি নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আজকের ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করুন | Probashi Kallyan Bank’ শিরোনামের লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন
এখানে জানতে পারবেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য কিভাবে আবেদন করতে হয়, কি কি কাগজপত্র ডকুমেন্টস লাগে, কতদিনের মধ্যে ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে হয় এবং সুদের হার কত ইত্যাদি। কারণ সঠিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করতে না পারলে এবং সঠিক কাগজপত্র ডকুমেন্টস সাবমিট না করতে পারলে অনেক সময় এই ব্যাংকের লোন পাওয়া যায় না। তাই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই এই ব্যাংকের নিয়ম কানুন যথাযথভাবে আপনাকে জেনে তারপর প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য কিভাবে আবেদন করতে হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে (অফলাইন আবেদন)
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য দুই ভাবে আবেদন করা যায়। প্রথমতঃ অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং দ্বিতীয়তঃ অফলাইনে সরাসরি অফিসে গিয়ে বিনামূল্যে সরবরাহ কৃত আবেদন ফরমে তা পূরণ করে জমা দিতে হয়। তার আগে আপনাকে আপনার লোন নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং কোন খাত থেকে লোন নিতে চান তা স্পষ্ট ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কেননা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে লোন/ঋণ দিয়ে থাকে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কোন কোন খাতে লোন দিয়ে থাকে।
![]() |
| প্রবাসী-কল্যাণ-ব্যাংক-লোনের-জন্য-আবেদন-করুন |
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যেসব খাতে লোন/ঋণ দিয়ে থাকে
- অভিবাসী ঋণ
- নারী অভিবাসী ঋণ
- পুনর্বাসন ঋণ
- নারী পুনর্বাসন ঋণ
- অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ
- বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ঋণ
- সিএমএসএমই (CMSME) ঋণ
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক উপরোক্ত উদ্দেশ্যে/খাতে/ক্যাটাগরিতে তাদের লোন/ঋণ প্রদান করে থাকে। আপনি যেই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়েন আপনাকে সেই ক্যাটাগরির ঋণ/লোন গ্রহণ করতে হবে। তবে আপনি যদি বৈধ পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশ যেতে চান তাহলে এখন আর ভিটে-মাটি বিক্রি করে নিঃস্ব ভাবে আর বিদেশ যেতে হবে না। এজন্য সরকার আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে অভিবাসী ঋণ যা খুবই সহজ শর্তে এবং জামানতবিহীন। তাহলে চলুন অভিবাসী ঋণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
অভিবাসী ঋণ
যেসব বিদেশগামী কর্মী বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এবং বৈধ পাসপোর্ট ভিসা রয়েছে কেবলমাত্র তারাই অভিবাসী ঋণ পাবেন। অভিবাসী ঋণ পেতে হলে আপনাকে অনলাইনে অথবা অফলাইনে আবেদন করতে হবে। তবে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সরাসরি নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শাখা থেকে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত আবেদন ফরমে তা সঠিকভাবে পূরণ করে অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়াই উত্তম। তাই বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের খুবই সহজ শর্তে জামানতবিহীন অভিবাসন ঋণ গ্রহণে নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক কি কি ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্ত কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস যা যা লাগবে
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বিনামূল্যে সরবরাহকৃত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে।
- ঋণ গ্রহণকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৪ কপি ছবি লাগবে।
- আবেদনকারীর ভোটার আইডি/জাতীয় পরিচয় পত্রের কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, বৈধ ভিসার কপি ও ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট দেশের লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার (যদি থাকে, তবে বাধ্যতামূলক নয়) জমা দিতে হবে।
- ঋণ গ্রহণকারীর একজন গ্যারান্টার/জামিনদারের এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র/স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- গ্যারেন্টার/জামিনদারের স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংকের তিনটি চেকের পাতা (ব্ল্যাঙ্ক চেক) জমা দিতে হবে।
- আবেদনকারী কে ঋণ গ্রহণের পূর্বে অত্র ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় অবশ্যই একটি হিসাব/একাউন্ট খুলতে হবে।
নিচে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আবেদন পত্রের কপি ০৪ (চার) পাতা উল্লেখ করা হলো।
![]() |
| প্রবাসী-কল্যাণ-ব্যাংক-লোন |
প্রিয় পাঠক, উপরে উল্লেখিত চার পৃষ্ঠার মতো আবেদন পত্রের ফরম আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার কার্ড/পাসপোর্ট এর সাথে মিল রেখে সঠিকভাবে পূরণ করুন। কোন রকম ভুল-ত্রুটি হলে আপনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এজন্য সতর্কতামূলক আবেদন ফরমটি পূরণ করার পরামর্শ রইলো।
ঋণের/লোনের টাকার সীমা
- নতুন ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা।
- ফ্রি এন্ট্রি পুরাতন ভিসার ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা।
ঋণের মেয়াদকাল
- নতুন ভিসার ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩ বছর এবং
- রি-এন্ট্রি পুরাতন ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ দুই বছর।
ঋণের/লোনের টাকা পরিষদের সময়সূচী
২ (দুই) মাস গ্রেস পিরিয়ড বাদ দিয়ে মাসিক কিস্তিতে লোনের টাকা পরিশোধযোগ্য।
লোনের সুদের হার: ৮% বা ৯% সরল সুদ (পরিবর্তনশীল)।
লোনের টাকা পাওয়ার সময়সীমা: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদনের ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে লোনের টাকা পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, এখানে এই লোনের জন্য কোন প্রকার সার্ভিস চার্জ নেই। তাছাড়া আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে নিচের অংশটুকু পড়ুন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে (অনলাইন আবেদন)
প্রিয় পাঠক আপনি যদি প্রবাসী করলেন ব্যাংক লোনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে এই “https://tinyurlডটcom/3uz3sp6m” লিংকে প্রবেশ করুন। তারপর ডান দিকে দেখতে পাবেন সবুজ রঙের “আবেদন করুন” এই লেখা। তারপর সেখানে প্রবেশ করে আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার এবং আট ডিজিটের একটি পাসওয়ার্ড লিখে তারপর আবার লগ-ইন করুন। এবার লগ-ইন হয়ে গেলে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করুন। তারপর ডিরেকশন অনুযায়ী আপনি আপনার প্রবাসী লোনের জন্য যাবতীয় তথ্যাদি এবং ডকুমেন্টস সহ প্রদর্শন করুন। এভাবে আপনি আপনার কার্যক্রম অনলাইনে করতে পারলে সেখান থেকেও আপনি আপনার পাসপোর্ট, ভিসা অনুযায়ী আপনার কাঙ্খিত প্রবাসী লোন পেয়ে যাবেন।
পুনর্বাসন ঋণ/লোন
আপনি যদি বিদেশ ফেরত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পুনর্বাসন লোন/ঋণ এর জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সরকার বিদেশ ফেরতদের দেশে পুনর্বাসন করার জন্য এই ঋণ সহায়তা চালু করেছেন। এই পুনর্বাসন লোন পেতে হলে আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার কার্ড ইত্যাদি প্রদর্শন করে আপনি আপনার কাঙ্খিত পুনর্বাসন লোন পেতে পারেন। সুতরাং আপনি যদি একজন বিদেশ ফেরত হয়ে থাকেন এবং পুনর্বাসন লোন নিতে চান তাহলে আপনি আপনার এলাকার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিবেন।
নারী অভিবাসন ঋণ
বর্তমানে কাজের উদ্দেশ্যে দক্ষ নারীগণ বিদেশ গমন করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন আর নারীরা বিদেশ যেতে অনীহা করে না। তাদের কথা বিবেচনা করে সরকার নারী অভিবাসন ঋণ বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে নারীদের বিদেশ যাওয়ার জন্য সরকার বিশেষ নারী অভিবাসন ঋণ দিয়ে থাকেন। আপনি যদি বিদেশ যেতে ইচ্ছুক হন এবং একজন নারী হন তাহলে আপনি এই নারী অভিবাসন ঋণের জন্য বিবেচিত হবেন। আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডকুমেন্টস, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার কার্ড ইত্যাদি সহ আপনার কাছাকাছি অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করে আপনি আপনার কাঙ্খিত নারী অভিবাসন ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এটি একটি জামানতবিহীন এবং ঝামেলা মুক্ত ঋণ সেবা কার্যক্রম।
এভাবে আপনি সঠিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করলে আপনি ৭ দিনের মধ্যেই আপনার কাঙ্খিত অভিবাসন লোনের টাকা পেয়ে যাবেন। তবে লোন নেওয়ার সময় আপনার লোনের পরিমাণ, লোনের মেয়াদ, কিস্তির পরিমাণ, সুদের হার এবং অন্যান্য সার্ভিস চার্জ রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অফিস থেকে বিস্তারিত অবশ্যই জেনে নেবেন। এবার চলুন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কিভাবে কৃষি ও পল্লী ঋণ থেকে আপনি আপনার কাঙ্খিত লোন পাবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ
![]() |
| প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ |
এখন চলুন আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের আবেদনের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ সম্পর্কে জেনে নিই।
বাংলাদেশ প্রধানত একটি কৃষি নির্ভরশীল দেশ। এ দেশের অর্থনীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভর করে। এজন্য সরকার কৃষক এবং কৃষিকে উৎপাদন মুখী করার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ সহায়তা চালু করেছেন। যারা প্রকৃতপক্ষে কৃষক এবং কৃষির উৎপাদন বহুমুখীকরণ করতে চান তাদের পাশে রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ। কৃষি ও পল্লী ঋণ নিতে কিভাবে আবেদন করতে হবে এবং কি কি কাগজ পত্র, ডকুমেন্টস লাগবে সে সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো।
কৃষি ও পল্লী ঋণ নিতে যা যা কাগজপত্র লাগবে
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিনামূল্য সরবরাহকৃত আবেদন পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
- আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ড এর ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- প্রকৃত কৃষক রোমানের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস হতে সনদপত্র জমা দিতে হবে।
- সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে খামার/প্রকল্প স্থাপনে অনাপত্তি পত্র গ্রহণ সনদপত্র লাগবে।
- আবেদনকারীর/জামিনদাতার বিদ্যুৎ বিলের কপি জমা দিতে হবে।
ঋণ সীমা, ঋণের মেয়াদ, ঋণ পরিশোধের সময়সূচী, সুদের হার, ঋণ পাওয়ার সময়সীমা ইত্যাদি নিচে উল্লেখ করা হলো।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়ক জামানতমুক্ত দিয়ে থাকে। তবে ৫০,০০০ টাকার উর্ধ্বে হলে জামানত বন্ধক রাখতে হয় এবং সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া হয়। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং কিস্তি অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। সুদের হার সর্বোচ্চ ৯% (পরিবর্তনশীল)। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাকমতো জমা দিতে পারলে ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যেই লোনের সমুদয় টাকা পাওয়া যায়। এখানে উল্লেখ্য যে এই লোনের নির্ধারিত সুদ ব্যতীত অন্য কোন চার্জ, লোন প্রসেসিং ফি ইত্যাদি নেই। এ বিষয়ে আরো জানতে আমাদের নিচের ‘আরো পড়ুন‘ আর্টিকেলটি পড়লে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ঋণ
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জাপান, জার্মানি, ইতালি, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জন এর জন্য নিচের শর্তাবলী সহ ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ঋণ’ নীতিমালা গ্রহণ করেছে। যা বিদেশ গামীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক এবং উচ্চ বেতনে চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার দক্ষতা অর্জনের এই লোনে সর্বনিম্ন ১ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক ১১% সরল সুদে ঋণ প্রদান দিয়ে থাকেন। তাহলে চলুন এ বিষয়ে নিচে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ঋণ পেতে যে যোগ্যতা লাগবে
- বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
- ব্যাংকের শাখার অধীন ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- যে দেশে যেতে ইচ্ছুক সে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যুকৃত অফার লেটার থাকতে হবে।
- গন্তব্য দেশে গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মধ্যম পর্যায়ের ভাষা শিক্ষার সনদপত্র যেমন- জাপানের জন্য N4, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য TOPIK level 3 ইত্যাদি আবশ্যিকভাবে থাকতে হবে।
ঋণ পেতে যেসব কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস লাগবে
- ব্যাংক থেকে সরবরাহকৃত বিনামূল্যে সরবরাহকৃত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে।
- আবেদনকারীর সদ্য তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ড এবং বর্তমান ঠিকানার সমর্থানে একটি ডকুমেন্ট লাগবে।
- ঋণ আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সার্টিফিকেট এর ফটোকপি ও যে দেশে যেতে ইচ্ছুক সেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফার লেটার থাকতে হবে।
- গন্তব্য দেশের গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মাধ্যম পর্যায়ের শিক্ষার সনদ যেমন- জাপানের জন্য N4, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য TOPIK level 3 এর ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- জামিনদারের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পাসপোর্ট সাইজের ছবি/জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং বর্তমান ঠিকানার সমর্থনে একটি সনদপত্র দিতে হবে।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধে সক্ষম একজন গ্যারান্টার/জামিনদারের প্রয়োজন যেমন- পিতা/মাতা/ভাই/বোন/স্ত্রী/স্বামী নিকটতম আত্মীয়-স্বজন হতে পারবেন।
- গ্যারান্টারের স্বাক্ষরিত তিনটি ব্ল্যাংক চেকের (এমআইসিআর চেক) এবং তার ব্যাংক হিসাব বিবরণী অথবা হিসাব খোলার সার্টিফিকেট দিতে হবে।
- আবেদনকারীর গন্তব্য দেশে আবাসন স্থলের ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর/ইমেইল ইত্যাদি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লাগতে পারে, তবে বাধ্যতামূলক নয়।
ঋণ পাওয়ার সীমা: সর্বনিম্ন ০১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
লোনের সুদের হার: বার্ষিক সরল সুদ ১১%, তবে লোনের কিস্তি পরিশোধের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হলে অতিরিক্ত ১.৫% হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কাল এবং সূচি: ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড সহ সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত। তবে ঋণের মাসিক কিস্তি ভিত্তিতে পরিশোধিত হবে।
ঋণের জামানত হিসাব:
#simple_table {
font-family: arial, sans-serif;
border-collapse: collapse;
width: 100%;
background-color: #C4E9FF;
color:black;
}
#simple_table td, #simple_table th {
text-align: left;
padding: 8px;
border: 1px solid #808080;
}
#simple_table tr:nth-child(even) {
background-color: #FFFFFF;
}
#simple_table tr:hover {
background-color: #C4E9FF;
}
#simple_table tr > th
{
background: #1b90bb;
color: #ffffff;
}
font-family: arial, sans-serif;
border-collapse: collapse;
width: 100%;
background-color: #C4E9FF;
color:black;
}
#simple_table td, #simple_table th {
text-align: left;
padding: 8px;
border: 1px solid #808080;
}
#simple_table tr:nth-child(even) {
background-color: #FFFFFF;
}
#simple_table tr:hover {
background-color: #C4E9FF;
}
#simple_table tr > th
{
background: #1b90bb;
color: #ffffff;
}
| লোনসীমা | জামানত |
|---|---|
| ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত | জামানতবিহীন; শুধুমাত্র ১ জন গ্যারান্টারের গ্যারান্টি ও ৩টি ব্ল্যাঙ্ক চেকের পাতা |
| ৩ লক্ষের ঊর্ধ্বে থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত | ঋণসীমার দ্বিগুন পরিমান সম্পত্তির মূল দলিল ও ১ জন গ্যারান্টারের ৩টি ব্ল্যাঙ্ক চেকের পাতা |
| ৫ লক্ষের ঊর্ধ্বে থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত | ঋণসীমার দ্বিগুন পরিমান সম্পত্তির মূল দলিল ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ এর অনুকূলে রেজিস্টার্ড মর্টগেজ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদন। |
ঋণ প্রসেসিং ও ডকুমেন্টেশন ফি: ঋণগ্রহীতা কে ঋণগ্রহণের সময় অনুমোদিত লোন এর সীমা ও ডকুমেন্টেশন ফি প্রদান করতে হবে।
সঞ্চয়ী হিসাব: ঋণ গ্রহীতাকে আবশ্যিকভাবে একটি সঞ্চয়ী হিসাব অবশ্যই খুলতে হবে।
ঋণ পরিশোধের কার্যক্রম:
- বিদেশে গমন ইচ্ছুক ঋণগ্রহীতার নিকটতম ব্যক্তি বা তার গ্যারান্টার কে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
- গ্যারেন্টার/জামিনদার কর্তৃক ঋণ পরিশোধে বিলম্ব বা অসুবিধা হলে যুক্তিসহ কারণ দেখিয়ে তা যথাসময়ে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ে ঋণ আদায়ের সকল কৌশল ব্যর্থ হলে ঋণ খেলা খেলাপীর বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাযথ গ্রহণ করতে পারবে।
প্রিয় পাঠক, এ বিষয়ে আরো জানতে আপনাকে নিকটস্থ সংশ্লিষ্ট প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করে সবকিছু বিষয়ে ভালোভাবে জেনে, শুনে, বুঝে তারপর ঋণ গ্রহণ করুন। আপনার বিদেশ যাত্রা শুভ হোক – এই সাফল্য কামনা করি।
সিএমএসএমই (CMSME) ঋণ
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশগামী অভিবাসী কর্মী এবং বিদেশ থেকে ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শুরু থেকেই এর সাথে সম্পৃক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লোন সহায়তা করে চলেছে। বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের বিকাশের জন্য সিএমএসএমই (CMSME) ঋণ প্রদান করে থাকে। সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদী এই লোনে বার্ষিক ৯% সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন দিয়ে থাকে। তাই আপনার বয়স যদি ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে যোগাযোগ করে আপনার কাঙ্খিত লোন পেতে পারেন।
যোগাযোগের ঠিকানা
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, প্রধান শাখা
ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার)
৭১-৭২, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা ১০০০
টেলিফোন নম্বর:+88-02-8321878
মোবাইল নম্বর: +88 01700702700
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের উপরোক্ত টেলিফোন নম্বর অথবা মোবাইল নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করে আপনার নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা অফিসের ঠিকানা জেনে নিতে পারবেন। শুক্র – শনিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে যোগাযোগ করে আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
FAQ (প্রশ্নোত্তর): প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করুন | Probashi Kallyan Bank 2026
Q1. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে কোন কোন কাগজপত্র লাগে?
উত্তর: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে বিদেশগামী কর্মীর জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) কপি, পিপি সাইজ রঙিন ছবি, পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি (BMET) স্মার্ট কার্ড, ব্যাংক স্টেটমেন্ট কাগজ এবং ১ জন গ্যারান্টার/জামিনদার সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে।
Q2. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কত সুদে লোন দেয়?
উত্তর: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণত বার্ষিক ৮%-১১% সুদে সহজ শর্তে লোন দেয়।
Q3. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সরকারি নাকি বেসরকারি?
উত্তর: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হলো সরকারি ব্যাংক।
Q4. প্রবাসী লোন কত টাকা দেয়?
উত্তর: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দেয়।
সর্বশেষ কথা – প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করুন | Probashi Kallyan Bank Loan 2026
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করুন’ বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি লেখাটি ভালোভাবে মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন। তারপরেও আপনার যদি ঋণ সম্পর্কে কোন প্রকার প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আপনি খুব সতর্কতার সাথে ব্যাংকে অথবা এনজিও থেকে লোন গ্রহণ করলে এবং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনার জন্য উপকারী হবে নতুবা নয়। প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনি লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো যেন আপনার প্রিয়জন ও বন্ধুবান্ধব যেন উপকৃত হতে পারেন। লেখার মাধ্যমে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আজকের ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করুন’ শিরোনামের লেখাটি মনোযোগ সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।





