আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক আপনারা যারা আজকে জানতে চেয়েছেন পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ (Payer Buro Anguler Kuni Rog), এর চিকিৎসা, প্রতিকার ও নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম সম্পর্কে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য।
Table of Contents
বর্তমান সময়ে নখের কুনি ভেতরের দিকে মাংসের বা ত্বকে দেবে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে । কোন কারনে পায়ে রক্ত চলাচল কমে গেলে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের করি রোগ হয়ে থাকে। চলুন আমরা নিম্নে জেনে নেই পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কোন রোগ – এর চিকিৎসা ও প্রতিকার। নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম
সাধারণত অতিরিক্ত আটোসাটা জুতা পরা, নখের আঘাত, সংক্রমণ, খুব গভীর করে নখ কাটা, খোঁচাখুঁচি ইত্যাদি কারণে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ হয়ে থাকে। এর চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা দরকার কারণ এই সংক্রমণটা হলে এর ভিতরে পুজো হতে পারে। চলুন আমরা নিম্নে জেনে নেই পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ – এর চিকিৎসা ও প্রতিকার।
পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ, এর চিকিৎসা, প্রতিকার ও নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলির মধ্যে নখ একটি সৌন্দর্য পরিচর্যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে আমরা যদি নক পরিষ্কার যায় ঠিকমতো না করি তাহলে এ রোগের সৃষ্টি হয়। যেসব লোকেরা সারাক্ষণ পানিতে ভিজে পরিশ্রম করে তারাই এ রোগের ঝুঁকিতে বেশি থাকে বিশেষ করে কাদা লোকের ভিতরে ঢুকে এটা হয়ে থাকে। এছাড়াও আমাদের মধ্যে যারা নিয়মিত নখ পরিষ্কার করে না।
আরো পড়ুনঃ টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে কি হয় | Kalojira 2026 বিস্তারিত জেনে নিন
তারাও কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত হই যেমন নখ কুনি হওয়ার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে এই রোগটি হতে চলেছে। প্রথমে আপনার নখের পাশ দিয়ে ফুলে গিয়ে সে অংশটি লাল হয়ে যাবে। সেখান থেকে পুঁজ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেজন্য আমাদের আর্টিকেলের আজকের পর্বে আমরা আপনাদের জানাবো পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ – এর চিকিৎসা ও প্রতিকার। চলুন নিম্নে বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।

কুনি রোগ কেন হয়ঃ
নখ কনি হাতেও পায়ের নখের কোনে হয়। এর জন্য নখের চারদিকে ফুলে লাল হয়ে যায় এমনকি যন্ত্রণা বা ব্যথা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত আটোসাটো জুতা পরা নখে আঘাত সংক্রমণ খুব গভীর করে নখ কাটা ইত্যাদি কারণে এমনটা হয়।
আমাদের অনেক সময় নখ কাটতে গেলে নখের চারপাশে কোন স্থানে কেটে গেলে ভুল ভাবে নখ কাটলে পায়ের থেকে ছোট জুতা পরা এবং পেডিকিওর করতে গিয়ে ক্ষত হলে সেই স্থানে ব্যাকটেরিয়ার ফলে নখ কুনি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
কুনি রোগের চিকিৎসাঃ
নখের এই ইনফেকশনের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসায় আপনি ব্যবহার করতে পারেন ডারমা সিম(সমাধানঃ ক্লটিমাজল ১ % ট্রপিক্যাল) সালসন, নখের তিন পাশে দুই ফোটা করে পাঁচ বার ব্যবহার করতে পারেন। ফাংগাল বিরোধী লোক না জল জাতীয় ক্যাপসুল, ৫০ মিগ্রো গ্রুপ একবার ৫-৭ দিন যেতে পারেন।
ফাংগাল বিরোধী ফ্লোকানো জল জাতীয় ক্যাপসুল,৫০ মিগ্রো গ্রুপ একবার পাঁচ থেকে সাত দিন যেতে পারেন। তবে তা অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শ্রবণ করতে বা ব্যবহার করতে হবে।
কুনি রোগ এর প্রতিকারঃ
আপনি যদি কুনি রোগের সমস্যায় ভুগে থাকেন তবে আমাদের আর্টিকেলের এই পর্ব টি আপনার জন্য। আমাদের আর্টিকেলের এই পর্বটি আপনি যদি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে আপনি কুনি রোগের প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পারবেন। জেনে নেওয়া যাকর কুনি রোগের প্রতিকার গুলো-
আরো পড়ুনঃ শীতকালে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নিতে যে ১০টি কাজ করবেন
- অতিরিক্ত আটোসাটা জুতা পড়বেননা, স্পেস আছে বা একটু আরামদায়ক জুতা পড়বেন।
- আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হন তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- যাদের নখের কোনা দেবে যাওয়ার প্রবণতা আছে তারা জুতার ভেতরে প্র্যাকটিস ফুট ওয়ার পড়তে পারেন।
- নখ ও আঙ্গুলের মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করুন। কোন রং পরিবর্তন বা ফোলা দেখলে বা ব্যাথা থাকলে সতর্ক হোন।
- পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি যখন কাটবেন তখন খুব গভীরে গিয়ে খুব গভীর করে নখ কাটবেন না।
মনে রাখবেন,
নখের কোনা দেবে যাওয়ার বেশ কষ্টকর একটি সমস্যা। ও সংক্রমণ বাড়লে বিপদ হতে পারে। নিয়মিত পায়ের যত্ন নেবেন ও পায়ের যে কোন সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসক এর কাছে যাবেন। চলুন নিম্নে জেনে নেওয়া যাক কোনি রোগের ঘরোয়া আরো কিছু প্রতিকার সম্পর্কে-
সাদা ভিনেগারঃ
দুই কাপ উষ্ণ গরম পানিতে এক কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এই ভিনেগার মেশানো পানিতে মিনিট ১৫ আক্রান্ত আঙ্গুলটি ঢুকিয়ে রাখুন। এরপরে একটা শুকনো কাপড় দিয়ে পায়ের মুছে নিন মুছে নিন।
টি ট্রি অয়েলঃ
১ চামস নারিকেল তেল দুই থেকে তিন ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মেশিয়ে নিন। এই তেল তুলা দিয়ে নখকুনি আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে মিনিট দশেক রেখে দিন। দিনের মধ্যে ২-৩ বার এমনটা করতে পারলে দ্রুত সেরে যাবে আপনার পায়ের কুনি।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারঃ
দুই কোম্পানির সঙ্গে দুই কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে ওই মিশ্রণে ৩০ মিনিট আক্রান্ত আঙ্গুলটি ডুবিয়ে রাখুন। এরপর আঙ্গুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। দুই তিন দিনের মধ্যে সেরে যাবে।
পাতি লেবুর রসঃ
জায়গায় দুই এক ফোঁটা পাতিলে রস লাগান। ২৫ থেকে ৩০ মিনিট রেখে উষ্ণ গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। যতদিন এই রোগটি না সারছে, ততদিন এ পদ্ধতি মেনে চলুন উপকার পাবেন।
নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম
নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম নাম বলতে আমরা সাধারণত ফার্মেসিতে যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে বুঝে থাকি। মূলত ভাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। এই চিকিৎসায় ব্যবহৃত জনপ্রিয় ক্রিম ও ঔষধ গুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো।
নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম – ক্রীম (Cream)
এফান (Afun), ফানজিন ক্রীম (Fungin) Cream: Clotrimazole জেনেরিকের ক্রীম এন্টি-ফাঙ্গাস হিসেবে দারুন কার্যকরী।
বেট সিএল (Bet CL), ফানজিন বি ক্রিম (Fungin B) Cream: Clotrimazole + Betamithasone কম্বিনেশন জেনেটিকের ক্রিম এন্টি-ফাঙ্গাস হিসেবে দারুন কার্যকরী।
ব্যবহার বিধি: রেজিস্টার্ড চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শে আক্রান্ত স্থানে দিনে ২ বার ব্যবহার করা ভালো।
নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম – ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপ (Tablet, Capsule & Suspension)
ফ্লুগাল ক্যাপসুল (Fluconazole) Capsule: Fluconazole ফাঙ্গাস বিরোধী হিসেবে খুবই কার্যকর।
ব্যবহার বিধি: রেজিস্টার্ড চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে দিনে ১ বার সেবন করতে পারেন।
পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ ও নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম হিসেবে আপনি উপরের ওষুধগুলো একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার এবং ক্যাপসুল মুখে খেতে পারেন।
উপসংহারঃ পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ, এর চিকিৎসা, প্রতিকার ও নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম
পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, কোথা থেকে এলে ভালো করে হাত এবং পা ধুয়ে মুছু্ন, কখনোই নখের কোণে কিছু দিয়ে খোঁচাবেন না সব সময় মজা বা টাইট জুতো পড়বেন না, ঠিক ভাবে নখ কাটবেন বাড়িতে নক পরিষ্কার করুন নখ কাটলে লক্ষ্য করে কাটবেন।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় | Infertility Center 2026
এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমাদের পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের কুনি রোগ, এর চিকিৎসা, প্রতিকার ও নখের কুনি দূর করার ঔষধের নাম আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হন তবে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। এরকম আরো এই ধরনের পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট AJKER GUIDE ফলো করুন।
লেখক পরিচিতি:

মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)


