কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় জেনে নিন। প্রিয় পাঠক, আপনারা অনেকেই ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ, কি কি খাবারে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে, ক্রিয়েটিনিন কমানোর উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চান। তাই কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় জানতে হলে আপনাকে এই লেখাটি ধৈর্য্য সহকারে পড়তে হবে।
Table of Contents
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় বা ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে এই লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। আশা করি, ক্রিয়েটিনিন লেভেল কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে পারবেন। (কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়)
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়
আজকে জানাবো, কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়? রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কত বাড়লে এবং GFR কত কমলে ডায়ালাইসিস করতে হয় ইত্যাদি। আপনি কি এসব বিষয় জানতে আগ্রহী? তাহলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর স্বাভাবিক পরিমাণ বা মাত্রা সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।
কেননা রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ বা মাত্রা অস্বাভাবিক বা তার বেশি হলে কিডনি বা বৃক্ক অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেছে ধরে নেওয়া হয় এবং ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস।

ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়
ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালিসিস করতে হয় বা কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়? শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ২ mg/dL বা তার বেশি হলে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ৫ mg/dL বা তার বেশি হলে গুরুতর কিডনি বৈকল্য নির্দেশ করে।
যার জন্য সিরাম বা রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিনের প্রয়োজন পড়ে। কিডনি বিকল হলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন রক্তের ক্ষতিকর বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করানো হয়।
এই পর্যায়ে রোগীর জীবন রক্ষার জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয় অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। এটি একটি কষ্ট সাধ্য, সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
মানব দেহে স্বাভাবিক ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ
সাধারণত বয়স ও জেন্ডার ভেদে আমাদের দেহে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। আপনি যদি আপনার নিজের অথবা কোন কিডনি রোগীর ক্রিয়েটিনিন এর স্বাভাবিক পরিমাণ জানতে চান তাহলে আপনি নিচের টেবিল থেকে দেখে নিতে পারেন। নিচে ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক পরিমাণ বা মাত্রা দেওয়া হলোঃ
| ক্রমিক নং | জেন্ডার ও বয়স | ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | পুরুষ (Male) | ০.৬ থেকে ১.২ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার |
| ২ | মহিলা (Female) | ০.৫ থেকে ১.১ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার |
| ৩ | টিন এজার (কিশোর/কিশোরী) | ০.৫ থেকে ১.০০ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার |
| ৪ | শিশু (Child) | ০.৩ থেকে ০.৭ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার |
| ৫ | বয়স্ক (৬০+ বছর) | পুরুষ: ০.৭ থেকে ১.৩ (mg/dL) মহিলা: ০.৫ থেকে ১.২ (mg/dL) |
| ৬ | যাদের একটা কিডনি নেই | ১.৮ (mg/dL) মিলিগ্রাম / ডেসিলিটার |
আর যাদের একটা কিডনি নেই বা ডেমেজ হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে: ১.৮ (mg/dL) মিলিগ্রাম / ডেসিলিটার মাত্রা পর্যন্ত স্বাভাবিক। কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় জেনে রাখা সবার উচিত।
কেবলমাত্র ক্রিয়েটিনিন এর নির্দিষ্ট কোন মাত্রা বা সংখ্যা দেখে ডায়ালাইসিসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না তবে রক্তের মাত্রা ৮ থেকে ১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার বেশি হয়ে থাকলে এবং জিএফআর (GFR) কখনও ১৫ এর নিচে নেমে গেলে চিকিৎসগণ রোগীকে ডায়ালাইসিসের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, চিকিৎসকগণ রোগীর জন্য ডায়ালাইসিস প্রয়োজন কিনা, তা বোঝার জন্য শুধু মাত্র ক্রিয়েটিনিন নয় বরং আরো কিছু লক্ষণ এর উপর বিবেচনা করে থাকেন।
যেমন রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট হয়, শরীর ফুলে যায়, তীব্র দুর্বল বা বমি বমি ভাব থাকে, রক্তে ইমব্যালেন্স অর্থাৎ পটাশিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, জিএফআর ১৫ এর নিচে নেমে গেলে ডাক্তারগণ ডায়ালাইসিসের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ক্রিয়েটিনিন কমানোর উপায় – ৪ টি
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় – ক্রিয়েটিনিন কমানোর ৪ টি উপায় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সাধারণত যেসব খাবার ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়ায়, সেইসব খাবার খাওয়া যাবেনা। আর যেসব খাবর খেলে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ কমে সে সব খাবর খেতে হবে। ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা কমে এ রকম খাবার তালিকা দেওয়া হল:
১। ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার: যেসব খাবার ফাইবার যুক্ত সে সব খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। ফলের মধ্যে আপেল, কমলা, পেয়ারা, আনারস, বেল , তরমুজ খেতে হবে। লাল চালের ভাত, ওটস, বার্লি এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে।
২। টাটকা শাকসবজি: শাকসবজির মধ্যে লাউ, বেগুন , পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, শসা, ফুলকপি, ব্রকলি, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা কলা, করোল্লা ও লালশাক খাওয়া যায়।
৩। পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর পানি শূন্য বা ডিহাইড্রেড হয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে হবে , দৈনিক ৮ – ১০ গ্লাস অর্থাৎ ২ – ৩ লিটার পানি করতে হবে।
তবে যদি শরীরে পানি জমে সমস্যা সৃষ্টি করতে থাকে তবে খুব বেশি পরিমাণে পানি পান না করাই ভালো। আপনার নেফ্রোলজিস্ট ডাক্তার যতটুকু পানি পান করার পরামর্শ দেবেন, আপনি ঠিক ততটুকুই পানি পান করবেন।
৪। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: শর্করা জাতীয় খাবার যেমন – ভাত, রুটি, নুডুলস খেতে হবে। সাথে ডিমের সাদা অংশ , মাছ ও মুরগির মাংস ( চামড়া ছাড়া ) খেতে হবে। তাছাড়া দারুচিনি ক্রিয়েটিনিনের লেভেল কে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, তাই দারুচিনি খেলে এই মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
৫। প্রোটিন গ্রহণ: লাল মাংস যেমন গরু-খাসির মাংস, মুরগির মাংস এবং অতিরিক্ত ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। কেননা রান্না করার পর মাংসে থাকা ক্রিয়েটাইন ক্রিয়েটিনিনে রূপান্তরিত হয়ে রক্তে এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই এর বিকল্প হিসেবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যেমন মসুর ডাল, তোফু ইত্যাদি খেতে পারেন।
জরুরী পরামর্শ:
ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা কমানোর যেকোনো পদ্ধতি গ্রহণের পূর্বে একজন ভালো রেজিস্টার্ড নেফ্রোলজিস্ট (কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) এবং একজন রেনাল ডায়েটিসিয়ান কিডনি রোগীর খাদ্য বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। তারা আপনার সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর বিবেচনা করে জরুরী পরামর্শ প্রদান করবেন।
প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনারা ক্রিয়েটিনিন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পেরেছেন।
ক্রিয়েটিনিন কি – কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়
সিরাম ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) হলো মানব দেহের মাংস পেশির ভাঙ্গন এবং খাবারে প্রোটিন হজমের ফলে তৈরি নাইট্রোজেন ঘটিত একটি প্রাকৃতিক ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ ,যা কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। ক্রিয়েটিনিন ( Creatinine ) লিভারে তৈরি হয়। বিভিন্ন কারণে কিডনি যখন স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে না পারে, তখন ক্রিয়েটিনিন শরীরে ক্ষতি করে।
ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ
ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ জানতে চান? কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে রক্তে ইউরিয়া, পটাশিয়াম ও ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণত ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার কারণ হল কিডনি অকেজো বা বিকল হয়ে যাওয়া। আর কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো হল –
- পা ও পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া।
- শ্বাসকষ্ট হওয়া।
- চোখের নিচ ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
- প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন যাওয়া।
- প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া করা।
- রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব হওয়া।
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা ক্ষেত্র বিশেষে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- শরীর ফুলে যাওয়া।
কারো মধ্যে যদি এই লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে ধরে নিতে হবে সেই ব্যক্তি কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং তার রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেছে। তখন তাকে সাথে সাথে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণ
কিছু কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ব্যথা নাশক ঔষধ , মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ , নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি বিকল হতে পারে। আবার ডায়রিয়া বা বমি না হলেও অযথা স্যালাইন খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
আবার পেইন কিলার বা ব্যথা নাশক ট্যাবলেট যেমন আইবো প্রফেন, ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ কিডনির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া এসব পেইন কিলার ওষুধ না সেবন করাই উত্তম।
আরো পড়ুন: ২০২৭ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ Eid ul Adha কবে?
কি কি খাবারে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে
প্রিয় পাঠক, কি কি খাবারে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে তা নিচের লেখাটি পড়লে বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে পারবেন।
যেসব খাবার খেলে আমাদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা বেড়ে যায় সেইগুলো বর্ণনা করা হলঃ
১। লাল মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস সবচেয়ে ক্ষতিকর ।
২। ফলমূলের মধ্যে পাকা কলা, নারিকেল, ডালিম, আম , কাঁঠাল, বড়ই, খেজুর, ডাবের পানি ও বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে।
৩। শাক সবজির মধ্যে আলু, কচু, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, পুই শাক, পালং শাক, ধনে পাতা এড়িয়ে চলতে হবে ।
৪। এলকোহল বা মদ, অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চ মাত্রার ফসফরাস ও সোডিয়াম থাকার কারণে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। NSAIDs ( Non-Steroidal Anti Inflammatory Drugs ) জাতীয় Pain Killer ঔষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবেনা এবং অবশ্যই ধূমপান করা যাবেনা।
৫। ডায়রিয়া বা বমি হওয়া বাদে স্যালাইন খাওয়া যাবেনা। এমন কি সঠিক নিয়ম ছাড়া স্যালাইন খাওয়াও যাবেনা। এতে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং কিডনি বিকল হতে পারে।
আশা করি, কি কি খাবারে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে তা আপনারা বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন।
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় | ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ | ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় | কি কি খাবারে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে | ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে করণীয় | ক্রিয়েটিনিন কমানোর ওষুধ | ক্রিয়েটিনিন কমানোর ঘরোয়া উপায়
FAQ (প্রশ্নোত্তর) – কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়
Q1. ক্রিয়েটিনিন কত পয়েন্ট থাকলে ভালো?
উত্তর: ক্রিয়েটিনিন নিম্নলিখিত পয়েন্ট থাকলে কিডনি ভালো থাকে।
পুরুষ (Male):
০.৬ থেকে ১.২ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার।
মহিলা (Female):
০.৫ থেকে ১.১ (mg/dL) মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার।
Q2. ডায়ালাইসিস করলে কি ক্রিয়েটিনিন কমে?
উত্তর: হ্যাঁ ডায়ালিসিস করলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা কমে।
Q3. ডায়ালাইসিস কতদিন পরপর করতে হয়?
উত্তর: রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ডায়ালাইসিসের ধরনের ওপর নির্ভর করে এটি সপ্তাহে ৩ বার অথবা একদিন বাদ দিয়ে পরের দিন করাতে হয়।
Q4. একটি কিডনি দিয়ে মানুষ কতদিন বেঁচে থাকতে পারে?
উত্তর: একটি কিডনি দিয়ে একজন মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে এবং কতদিন বেঁচে থাকতে পারেন তার কোন বাধ্যবাধকতা কথা নেই।
Q5. মানুষের শরীরে কয়টি কিডনি থাকে?
উত্তর: মানুষের শরীরে কোমরের উপরে মেরুদন্ডের দুই পাশে একটি করে মোট ২ (দুই) টি কিডনি থাকে।
শেষ কথা – কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়
আমাদের সবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে এবং নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে । টাটকা ফলমূল শাকসবজি খেতে হবে, এলকোহল ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। ভারি ব্যায়াম করা যাবেনা। তবে হাল্কা ব্যায়াম যেমন – হাটা হাটি করতে হবে।
স্বাভাবিক খাবার দাবার খেলে শরীরে ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা কম থাকবে এবং আমাদের কিডনি ভাল থাকবে। আর কিডনি বা বৃক্ক ভাল থাকলে আমাদের শরীরও ভাল থাকবে। আর শরীর ভাল থাকলে আমরা সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারব। আশা করি, তথ্যবহুল ‘কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়’ লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে এবং অনেকেই উপকৃত হবেন।
আর এই লেখাটি যদি আপনার ভাল লেগে থাকে তবে আপনার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন। আপনাদের আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয় লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ । এইরকম আরও ভাল ভাল লেখা পড়ার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
লেখক পরিচিতি:

মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)
