আজকে আমরা জানবো বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay এবং Infertility Center in Bangladesh সম্পর্কে। প্রজনন তন্ত্রের আশেপাশে যদি কোন সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চা হতে বাধা সৃষ্টি করে।
আবার যোনিপথের মুখে যদি কিছু থাকে তাহলে স্বামী-স্ত্রী সহবাস করতে পারে না অথবা কোন কারনে যদি স্প্যার্ম জরায়ুতে না ঢুকতে পারে তাহলে সন্তান হবে না। আপনাদের অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং বন্ধ্যাত্বের সমস্যা সম্পর্কে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় এবং Infertility Center in Bangladesh সম্পর্কে।
Table of Contents
আপনি কি শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকতে চান? তাহলে বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay সম্পর্কে জানতে পারবেন। বন্ধ্যাত্ব বলতে আমরা বুঝি যদি সন্তান প্রত্যাশী হয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে এক বছর একই ছাদের নিচে স্বামী স্ত্রী থাকেন কিন্তু তারপরেও কোন সন্তান না হয় তাকে বন্ধ্যাত্ব (Infertility) বলে। চলুন আমরা নিম্নে জেনে আসি বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং বন্ধ্যাত্ব সমস্যা সম্পর্কে।
বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার
যদি কোন মহিলার সমস্যা থাকে অথবা স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের জন্য ডিম্বানু প্রস্তুত নয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চা না হওয়া এটা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এছাড়া বাধাটা প্রধানত ইনফেকশন থেকেও হতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া এ ধরনের সমস্যা হলে টিউমার লাইগেশন করে দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে স্ত্রী এবং স্বামী মিলন করলে গর্ভবতী হবে না। নারী যদি সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভ্রণ প্রতিস্থাপন করা হবে না।
আবার এই সমস্যা হওয়ায় যদি জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করার সুযোগ না থাকে বা জরায়ুর চামড়া যদি কোন কারণে পাতলা হয় সে ক্ষেত্রে ও ভ্রণ প্রতিস্থাপন করা হবে না। তাই নারী সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আবার জরায়ু মুখে যদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি বা স্প্যার্ম প্রবেশ করতে জরায়ুতে বাধাগ্রস্ত হয় সে ক্ষেত্রে সন্তান লাভ করা যায় না।
আরো পড়ুনঃ কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়? 5 Critical লক্ষণ
আবার যোনিপথ যদি বাঁকা থাকে যোনিপথে যদি কোন ধরনের পর্দা থাকে বা যোনিপথের মুখে যদি কিছু থাকে তাহলে স্বামী স্ত্রী সহবাস করতে পারে না বা কোন কারণে যদি স্প্যার্ম জরায়ুতে না ঢুকতে পারে তাহলেও সন্তান হবে না।
প্রজননতন্ত্রের আশেপাশে যদি কোন সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে বাচ্চা হতে বাধা সৃষ্টি করে। আবার কখনো কখনো সন্তান জন্ম না নেওয়ার পেছনে কোন কারনই থাকেনা অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর কারো কোনো সমস্যা নেই দুজনেই সুস্থ এরপরেও সন্তান গর্ভে আসে না। এমন ঘটনা ঘটতে পারে শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে।
আমরা যদি বন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজতে যায়, তাহলে প্রথমে দেখতে হবে সন্তান কিভাবে জন্ম নেয়। একজন মেয়ে শিশুর প্রথম দিকে ডিম্বাণুর পরিমাণ থাকে ১০ থেকে ২০ লাখ। ধীরে ধীরে সে শিশু যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় বা মাসিকের সময় হয় তখন মেয়েদের ডিম্বাণুর পরিমাণ থাকে চল্লিশ হাজার।
বাকি ডিম্বাণুগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও এন্ট্র মেটো স্ট্রিটের কারণেও অনেক সময় ডিম্বানু বড় না হওয়া বা পরিস্ফুটন না হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো মানবদেহে যেসব প্রজনন তন্ত্র আছে জরায়ু দুই পাশে ডিম্বনালী আছে। তার নিচে আছে মাসিকের রাস্তা বা যোনিপথের সমস্যা থাকে বা বাধা থাকে সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সন্তান ধারণের সমস্যা দেখা দেয়।
বাচ্চা হওয়ার চিকিৎসা, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় (Bondhato Theke Muktir Upay)
সন্তানদের বিয়ের পর প্রতিটা পরিবারেই চায় নবদম্পতির ঘর আলো করে আসবে সন্তান কিন্তু বিয়ের অনেক বছর পরও সন্তানের মুখ দেখতে পান না তারা এবং এর মূল কারণ হলো সঠিকভাবে শরীরে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করা বা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর কার্যকলাপ যেমন, অতিরিক্ত রাত জাগা, নিজের পার্টনারকে সঠিক সময় না দেওয়া এর কারণে বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমান যুগের সন্তান না হওয়ার অনেক ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। চলুন আমরা জেনে নেই – বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay। সন্তান না হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো-কলেজস্ট্রি ওভারি ফুলিকুলার সিনড্রোম নামে এক ধরনের রোগ রয়েছে।
যেখানে নারীদের মেন্স বা মাসিক নিয়মিত হচ্ছে অন্য সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে কিন্তু সিনড্রোমের ফলে যে টিমটি তৈরি হওয়ার কথা সেদিন বের হচ্ছে না বা তৈরি হচ্ছে না। এটি হওয়ায় প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।
এই জন্য এই সিনড্রোমটি অনেক বড় একটি বন্ধ্যাত্বের কারণ। হতে পারে সেটি হল কলেজটিক ওভারে যা এক ধরনের সিস্ট। এই সিস্টগুলো পরিণত হয়ে ফেটে ডিম সৃষ্টি করে কিন্তু ওই সিস্ট পরিনত হয়ে ডিম ফেটে বের হয় না তখন অনেক মহিলার সন্তান ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
সন্তান না হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে কিউটের যেখানে বাচ্চা থেকে বড় হয় সেটির দুই পাশে নল থাকে আমরা সেটাকে বলি ফ্রেন্ড টিউব। এ ছাড়া এই ফটো ফ্রেন্ড কেউ কভারের কাছাকাছি গিয়ে শেষ ওভারি থেকে এসে জমা হয়।
সেখানে স্পার্ম দিয়ে ফার্টিলাইজ করা হয় এবং অনেক সময় এই ফিল্ড ওপেন টিউবে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণে সৃষ্টি হতে পারে।
আবার কিছু সময় ইনফেকশনের মাত্রা তীব্র হয়ে গেলে এটি চিকিৎসা করে ভালো করা সম্ভব নয়। তবে প্রথমত ও এরকম সমস্যা বুঝতে পারলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ইনফেকশনের মাত্রা তীব্র হয়ে যদি টিপটা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ডিম আসতে পারবে না এবং স্প্যার্ম যেতে পারবেনা।
যার ফলে বন্ধ্যাত্ব সমস্যা সৃষ্টি হবে। এছাড়া আরো যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কারণে মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হয় সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-
- আমাদের শরীরে টেস্ট হোস্টেলের মাত্রা কমানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে অ্যালকোহল। তাই অ্যালকোহল পান করা থেকে শরীর এবং নিজেকে বিরত রাখুন।
- অতিরিক্ত ওজন বন্ধ্যাত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এতে শরীরে ফ্যাটের সৃষ্টি হয় এবং সঠিকভাবে স্পার্ম গঠন করতে পারেনা। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে যায়। স্পার্মের জন্য প্রতিদিন এই জন্য ৪০ মিনিট করে হাঁটা উচিত। এজন্য জরায়ু থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন ধরনের টিউমার দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- এছাড়া মানসিক ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা এবং সম্পূর্ণ নিদ্রা না হলে স্পার্ম কাউন্ট অনেক অংশে কমে যায়। বর্তমান সময়ে শরীরে স্পার্ম বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে যা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত ।
- বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন ক্ষতিকর। তেমনি স্পার্ম তৈরিতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে এই জন্য শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য এবং নিজের পার্টনারকে শারীরিক সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করার জন্য মাদকদ্রব্য সেবন হতে দূরে থাকুন। এবং নিজের শরীর স্বাস্থ্য সুস্থ রাখুন।
- বর্তমান সমাজ বেকার ছেলের সঙ্গে কোন মেয়েকে বিয়ে দিতে চায় না। এজন্য নিজের স্থান শক্ত করার জন্য বিয়ে করার দেরি করে ফেলে অনেক ছেলে। তবে বলে রাখা ভালো ৩৫ বছর ছেলে ও মেয়ের পার হলে বন্ধ্যাত্ব মতো সমস্যা সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা পরবর্তীতে কোন মেডিসিনের মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব নয়।
- বন্ধ্যাত্ব হলো এমন একটি সমস্যা যেখানে দম্পতিরা অনেক চেষ্টার পরেও স্ত্রীকে গর্ভবতী করতে পারে না বা স্ত্রীর বিভিন্ন সমস্যার কারণে গর্ভবতী হয় না। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৫% থেকে ২০% পুরুষ এবং মহিলা বন্ধ্যাত্বের শিকার।
এটি প্রতিরোধ করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে যা একটু সে জীবনকে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভব। বন্ধ্যাত্ব সাধারণত আপনার এবং আপনার সঙ্গীর সাথে এটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি প্রতিরোধ করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে ।
সেজন্য আপনাকে সঠিক ঘুম, দুশ্চিন্তা কম করা, পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা এবং আরো বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে সম্ভব আপনার সঙ্গীকে গর্ভবতী করা।
এক নজরে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ ও কারণ নিচের ছকে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়
| ক্রমিক নং | মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ | মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ |
|---|---|---|
| ১ | ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা | পলিসিসটিক ওভারি সেন্ট্রাম (PCOS), হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা থাইরয়েডের সমস্যার কারণে নিয়মিত ডিম্বাড়ু তৈরি হতে পারে না। |
| ২ | জরায়ুর সমস্যা | আপনার জরায়ুতে টিউমার, ফাইব্রয়েড অথবা এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে শিশুর ভ্রুণ সঠিকভাবে জরায়ুতে স্থাপিত হতে পারে না। |
| ৩ | ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লক | ইনজেকশন কিংবা সার্জারির কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ হয়ে গেলে ডিম্বানু এবং শুক্রানুর মিলন সম্ভব হয় না। |
| ৪ | বয়স এবং জীবন যাপন | নারীদের বয়স ৩৫ বছর পার হলে ডিম্বানোর মান ও সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ ও মাদক জাতীয় দ্রব্য ফার্টিলিটিহার কমায়। |
পুরুষ বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ এবং পুরুষ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাঃ
আজকে আর্টিকেল থেকে আমরা জানবো বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay সম্পর্কে। অনেক মহিলারা বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।
তবে চলুন জেনে নেই বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay সম্পর্কে। ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী- মানসিক চাপ, শরীরে ওজন বৃদ্ধি পেলে, শুক্রাণুর পরিমাণ অনেক কমে যেতে পারে যার কারণে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
আপনি যদি বিভিন্ন ধরনের বদ অভ্যাস বাদ দেন, তবে এ সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে। এছাড়া আঘাত লাগার কারণে অথবা বিভিন্ন ধরনের রোগের ঔষধের মাধ্যমেও এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের শুরুতেই যদি বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করা যায় সে ক্ষেত্রে এটি খুব ভালো হয়। এর জন্য বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ও ওষুধ সেবন করা। যত দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা যাবে তত এর জটিলতা কমবে।
এছাড়া শুক্রানু শরীর তৈরি করার জন্য সর্বপ্রথম নিজের লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করতে হবে। তাহলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং যে সকল খারাপ অভ্যাস শরীরের জন্য বিপদজনক সেগুলোকে আপনাকে ত্যাগ করতে হবে।
আবার অতিরিক্ত গরমের কারণেও শুক্রাণুর পরিমাণ অনেকাংশে কমে যায় অথবা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন যারা তারা অনেকক্ষণ যাবত ল্যাপটপ নিয়ে বসে থেকে কাজ করেন সাধারণত এটি স্পার্ম কমে যাওয়ার বড় একটি কারন।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল পুরুষ অতিরিক্ত রাত জাগে তাদের প্রচুর পরিমাণে শুক্রাণু কমে যায়। তাছাড়া তারা মানসিক ডিপ্রেশনে ভোগে।
আপনি যদি বন্ধ্যাত্ব থেকে নিজেকে বাঁচাতে চান তবে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। এছাড়া পুষ্টিকর খাদ্য এবং পুষ্টিকর শাকসবজি খেতে হবে।
কাজের পাশাপাশি নিজের সহধর্মিনী কে সঠিকভাবে সময় দিতে হবে। তা না হলে যৌন সম্পর্কিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। শুক্রাণু তৈরিতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আপনি কাজ করছেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু হাঁটাচলা করুন।
এতে করে আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সারাদিন সতেজ থাকবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এছাড়া আপনি প্রসাব চেপে রাখবেন না, কারণ শুক্রানু ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার কারণে শুক্রাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যায়।
আরো পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন – Best Digital Marketing 2026
ছেলেদের বন্ধ্যাত্বের আসল কারণ হলো একটি সাইন্টিস্ট জানিয়েছেন যে শুক্রাণু সঠিকভাবে তৈরি হতে না পারা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর আকার এবং বৃদ্ধি সঠিক না হওয়ার কারণে বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া এক থেকে পাঁচশ হরমোনের বিভিন্ন সমস্যার কারণেই এই বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে আপনার।
পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ ও কারণ নিচের টেবিলে এক নজরে উল্লেখ করা হলো: বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়
| ক্রমিক নং | পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ | পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের কারণ |
|---|---|---|
| ১ | শুক্রাণুর স্বল্পতা বা ত্রুটি | যথেষ্ট পরিমাণে শুক্রাণু তৈরি না হওয়া, শুক্রানুর সংখ্যা কমে যাওয়া, শুক্রাণুর গতিশীলতা কম বা আকৃতি অস্বাভাবিক হওয়া। |
| ২ | ইনফেকশন ও হরমোন সমস্যা | যৌনাঙ্গে ইনফেকশন বা টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি থাকা। |
| ৩ | ভ্যারিকোসিল | পুরুষদের অন্ডকোষ থলিতে রক্তনালি ফুলে যাওয়া বা ভ্যারিকোসিলের কারণে শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট হয়। |
| ৪ | বদ অভ্যাস এবং পরিবেশ | পুরুষগণ অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান, মদ পান, দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে থাকা এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল এর সংস্পর্শে থাকা। |
মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের প্রতিকার এবং চিকিৎসা এক নজরে নিচের টেবিলে উল্লেখ করা হলো: বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়
| ক্রমিক নং | বন্ধ্যাত্বের প্রতিকার | বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা |
|---|---|---|
| ১ | জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করা। | সুষম খাবার খাওয়া, নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধুমপান, মাদক জাতীয় দ্রব্য বর্জন করা এবং মানসিক স্ট্রেস বা চাপ কমানো |
| ২ | মেডিসিন ও হরমোন থেরাপি দেওয়া। | হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডিম্বস্ফোটন বা শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়াতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। |
| ৩ | সার্জারি করানো। | ফ্যালোপিয়ান টিউবের ব্লক বা পুরুষের ভ্যারিকোসিল সারানোর জন্য সার্জারি বা অস্ত্রপাচারের প্রয়োজন হতে পারে। |
| ৪ | সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (ART) নিন। | আইইউআই (IUI) বা আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবি এর মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন বন্ধ্যাত্বের সমস্যার সফল চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। |
বাচ্চা হওয়ার জন্য কতটুকু বীর্য লাগে – পুরুষের বীর্যে কি কি ভিটামিন থাকে
অনেকেই প্রশ্ন করেন কতটুকু বীর্য মেয়েদের শরীরের মধ্যে প্রবেশ করলে বাচ্চা হবে। আসলে বীর্যের পরিমাণের ওপর বাচ্চা হওয়া নির্ভর করে না নির্ভর করে আপনার বীর্যের উর্বরতার উপর এবং বীর্যের উপস্থিতি সবল শুক্রাণুর ওপর।
এছাড়া আপনার স্ত্রীর যোনির অভ্যন্তরে ডিম্বাণুর সফল প্রবেশ ওয়ার ফলে বাচ্চা সৃষ্টি হয়। সুতরাং আপনার বীর্য যদি শুক্রানু উপস্থিত থাকে সে ক্ষেত্রে বাচ্চা হবে । এছাড়া পুরুষদের বীর্য অনেকগুলো উপাদান নিয়ে গঠিত হয়। যা শুনলে অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন যোনিতে প্রবেশ করে তখন বীর্য উপস্থিত এই সকল উপাদানকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে তখন পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত শুক্রাণুর মিলন না ঘটে।
প্রতিদিন বীর্য ফেললে কি হয় – হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায়
প্রতিদিন যদি হস্তমৈথুন বা বীর্যপাত করা হয় তাহলে যৌনসঙ্গমে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন আপনি । কোন পুরুষ আরেকটি সমস্যা হলে অকাল বীর্যপাতের ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। সঠিক সময়ে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর্যায়ে চলে যায়।
গোসলের সময় ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উচিত এবং দ্রুত গোসল করে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এছাড়া মেয়েদের দিকে কুনজরে তাকানো যাবে না তাদের ব্যাপারে কোন খারাপ কথা চিন্তা করা যাবে না এবং দৃষ্টি পবিত্র করে তাকাতে হবে।
নিজের মা বোনদের কথা চিন্তা করে নিজেকে যতটা সম্ভব কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে এবং নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করতে হবে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যাবে তাই বলে হতাশা গ্রস্থ হওয়া যাবে না। এই নিয়মগুলো মেনে চললে হস্তমৈথুনের সমস্যা হতে নিজেকে সুস্থ করে তোলা যাবে।
বাচ্চা না হলে কি করতে হবে
বাচ্চা না হলে কি করতে হবে – এমন প্রশ্ন অনেক স্বামী-স্ত্রী দম্পতি প্রশ্ন করে থাকেন। কিন্তু এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে কোন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ছাড়াই নিয়মিত মেলামেশার পরও বাচ্চা না হলে একজন ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট (বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ) বা অভিজ্ঞ গাইনিকোলজিস্ট ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, সন্তান না হওয়ার পেছনে ৪০% ক্ষেত্রে পুরুষ, ৪০% ক্ষেত্রে নারীর এবং বাকি ২০% ক্ষেত্রে উভয়ের জটিলতা বা অজানা কোন কারণকে দায়ী করা হয়ে থাকে। আশা করি বাচ্চা না হলে কি করতে হবে সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছেন।
Infertility Center in Bangladesh
বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু স্বনামধন্য ইনফার্টিলিটি সেন্টার (Infertility Center in Bangladesh) এবং ডেডিকেটেড ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে আপনি ইনফাল্টিলিটি সেন্টার গুলোতে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিলে আশা করি একটা ভালো সমাধান পেয়ে যাবেন।
নিচে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানেও এবং বিশ্বস্ত ফার্টিলিটি সেন্টার গুলোর অবস্থান এবং তথ্য দেওয়া হলো।
ঢাকার প্রধান বেসরকারি ইনফাল্টিলিটি সেন্টার সমূহ:
১। বাংলাদেশ হাসপাতাল লিমিটেড
ঠিকানা: প্লট নম্বর ১০, ব্লক – ই, মেইন রোড, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা ১২১২।
২। নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি
ঠিকানা: বনানী, ঢাকা।
৩। এভার কেয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার
ঠিকানা: লেভেল – 1, এভার কেয়ার হাসপাতাল, প্রগতি সরণী, ঢাকা।
৪। ল্যাবএইড ফারটিলিটি সেন্টার
ঠিকানা: ধানমন্ডি, ঢাকা।
৫। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) (সরকারি প্রতিষ্ঠান)
ঠিকানা: শাহবাগ, ঢাকা।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) – বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় এবং Infertility Center in Bangladesh
Q1. কি করলে তাড়াতাড়ি বাচ্চা হয়?
উত্তর: মহিলাদের মাসিকের চক্র হিসাব করে সবচেয়ে উর্বর দিনগুলো (মাসিকের আগের পাঁচ দিন এবং অভ্যুলেশনের দিন) সঠিকভাবে চিহ্নিত করুন।
উর্বর সময়ে প্রতি ২ দিন অন্তর বা নিয়মিত যৌন মিলন করলে গর্ভ ধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
Q2. কোন কোন সমস্যা থাকলে বাচ্চা হতে পারে না?
উত্তর: গর্ভধারণ না হওয়ার কিংবা বন্ধ্যাত্বের পেছনে নারী ও পুরুষ উভয়ের শারীরিক এবং হরমোন জনিত বিভিন্ন সমস্যা থাকলে বাচ্চা হতে পারে না।
Q3. মেয়েদের হরমোন বেশি হলে কি বাচ্চা হয় না?
উত্তর: মেয়েদের শরীরে নির্দিষ্ট কিছু হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরন (পুরুষালী হরমোন), প্রোল্যাকটিন হরমোন বেড়ে গেলে (অনিয়মিত মাসিক হয়) এবং থাইরয়েড হরমোন এর তারতম্য ঘটলে গর্ভধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে বা মেয়েদের বাচ্চা হয় না।
Q4. ছেলেদের কি কি সমস্যা থাকলে বাচ্চা হয় না?
উত্তর: পুরুষের প্রধানত শুক্রানুর স্বল্পতা, শুক্রাণুর গুণগত মান কম হওয়া এবং প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে বাচ্চা বা সন্তান হয় না।
Q5. কি করলে বাচ্চা পেটে আসে?
উত্তর: ওভুলেশন বা ডিম্বানু বের হওয়ার সঠিক সময় নিয়মিত সহবাস করলে দ্রুত বাচ্চা পেটে আসে বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
শেষ কথাঃ বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় এবং Infertility Center in Bangladesh
পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, আপনারা যারা বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তাদের জন্য উপরের পোস্টটি লেখা হয়েছে।
এছাড়া আপনি যদি বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টটির মাঝে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং কমেন্টের মাধ্যমে আমাকে জানাবেন।
আজকে এই পর্যন্তই। আরো নতুন নতুন পোস্ট পড়তে আমাদের AJKER GUIDE ওয়েবসাইটটি ফলো করুন। আমাদের সাথেই থাকুন এবং আজকের বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির উপায়, Bondhato Theke Muktir Upay লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক পরিচিতি:

মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)

