বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিকে আগ্রহী? আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজকে আমাদের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের জানাবো শিশুদের শ্বাসকষ্ট কেন হয় – শিশুর শ্বাসকষ্টের ঘরোয়া চিকিৎসা।
Table of Contents
শীতকাল আসলেই শিশুদের ঠান্ডা লাগার সমস্যা শুরু হয়ে যায়। আর এই ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু হয় নিউমোনিয়া এজমা সহ শ্বাসকষ্ট জৈন নানা অসুখ। শিশু শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে এছাড়া এই সমস্যা প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরী।
শীতকালে যেকোনো সেই শিশুর সর্দি কাশি জ্বর শ্বাসকষ্ট হতে পারে সেজন্য আপনাকে আপনার বাচ্চা নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাকের ড্রপ দিন যথেষ্ট গরম রাখার ব্যবস্থা করুন বুকের দুধও প্রচুর তরল খেতে দিন যেসব শিশু বেশি শ্বাসকষ্ট শরীর কালো বা নীল হয়ে যাচ্ছে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এসব শিশুকে অক্সিজেন দিলে এবং তিন শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাই দিয়ে নেবুলাইজ করলে উপকার পাওয়া যাবে।
শিশুদের শ্বাসকষ্ট কেন হয় – বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা
সাধারণত সর্দি কাশি ও জ্বর হলে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভোগে। আবার অনেক শিশুর শীতকাল এলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ফুসফুসে ভাইরাস ইনফেকশন হলে শ্বাসকষ্ট হয়। ফুসফুসের সারফেস লাইনিং নষ্ট করে দেওয়াই মিউকশাল ইমিউনিটি কমে যায় শিশুদের। ভাইরাস ইনফেকশন থেকে হতে পারে শিশুদের নিউমোনিয়া।

প্রত্যেক শিশুরই কমবেশি নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা থাকে। কারণ বাচ্চাদের ডিফারেন্স বকানিজম বড়দের তুলনায় দুর্বল হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার শিশুদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শ্বাসকষ্ট সংক্রমনে ভুগছে। শোকরান নিউমোনিয়াকে শ্বাসকষ্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করে।
আরো পড়ুন: শীতকালে শিশুদের যেসব রোগ বাড়ে ও চিকিৎসা
কারণ শ্বাসকষ্ট হতে পারে শিশুর জ্বর থেকেও। এক্ষেত্রে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরী। আবার নিউমোনিয়ার কারণেও শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়। এক্ষেত্রে শিশুর জ্বর থাকতে পারে প্রকাশে থাকতে পারে শিশুক ঘন ঘন শ্বাস নিতে পারে।
বুকের খাজা ভেতরে ঢুকে যেতে পারে এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে আপনি নিকটস্থ চিকিৎসকের স্বরপন্ন হন অথবা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
বাচ্চাদেরর শ্বাসকষ্ট হওয়ার লক্ষণ
শ্বাসকষ্টের অনেক কারণ বা লক্ষণ থাকতে পারে কিছু গুরুতর নাও হতে পারে আবার কিছু নিজে থেকেই ভালো হয়ে যেতে পারে। শিশুর ফুসফুসে বাধা বা সমস্যায় শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। চলুন নিম্নে জেনে নেওয়া যাক শিশুর শ্বাসকষ্ট এর লক্ষণ গুলো-
- ঘন ঘন শ্বাস নেবে এবং শ্বাস নেওয়ার হার বেড়ে যাবে।
- শ্বাস নেওয়ার সময় পেট ভিতরে ঢুকে গেলে।
- ঘনঘন শুকনো কাশি থাকলে।
- বেশ কয়েকদিন টানা জ্বর থাকতে পারে।
- অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ।
- বুকে ব্যথা থাকলে।
ঘুম ঘুম ভাব সঙ্গে যদি কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এবং নাকের মাথা ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হয়ে যায় তবে দেরি না করে আপনি তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
- নিউমোনিয়া।
- যক্ষা।
- ফুসফুসে তরল জমা হওয়া।
- শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা বা ভাইরাল সংক্রমণ – যেমন কোভিড ১৯ ইত্যাদি।
- ফুসফুস ক্যান্সার।
- পালমোনারি হাইপারটেনশন।
- Sarcoidosis
- রক্তপিণ্ড।
- এলার্জি।
- হাঁপানি।
বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা
বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে এবার আপনাদের কিছু উপায় বলে দেব। শীতে বৃষ্টি কম হওয়ায় ধুলোবালি গাড়ির ধোঁয়া আর আলোচনা সব মিলে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। আপনার শিশু এ সময় আক্রান্ত হতে পারে শ্বাসকষ্ট জনিত না না অসুখে চলুন নিম্নে জেনে নেওয়া যাক শিশুর কাজ শ্বাসকষ্টের ঘরোয়া চিকিৎসাগুলো –
- শিশুর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ার আগে থেকেই কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে পারলে ভালো।
- জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে এক্সক্লুসিভ বেস্ট ফিডিং করার অতি জরুরী এতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

- বাচ্চার ঘর যেন হয় আলো বাতাসে ভরপুর।
- বাচ্চাদের নিউটেশনাল ব্যালেন্স জরুরি।
- স্কুল থেকে এবং বিকালে খেলাধুলা করা বাচ্চারা বেশি বাসায় ফিরলে তাদের ঘামে ভেজায় জামা কাপড় পাল্টে দিয়ে হাত মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে।
- আপনার বাসায় কাজের সাহায্য করার জন্য যারা আসেন তাদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদেরকেও প্রপার হাইজিন মেন্টেন করতে হবে।
- বাইরে যাওয়ার সময় এবং ঘুমানোর সময় বাচ্চাদের শরীরে কাপড় যেন থাকে সেদিকে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
- আপনার বাচ্চার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় খাবার নিশ্চিত করতে হবে আপনাকে।
- আপনার বাচ্চা যাতে প্রতিদিন রোদে কিছু সময় হলেও থাকতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ সূর্য রষ্ণী থেকে আমাদের শরীরে যে ভিটামিন তৈরি হয় তাও আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- বাচ্চা যাতে সবগুলো ভ্যাকসিন সঠিক সময়ে পায় সেদিকে খুব গুরুত্ব দিতে হবে।
- শিশুর সামনে ধূমপান করা যাবে না। এছাড়া রান্নার চুলার ধোঁয়া, বাতাসের ধুলোবালি, ফুলের রেনু, কার্পেটের ধুলা থেকে শিশুকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।
আরো পড়ুন: শীতে শিশুর যত্ন – শিশুর সুস্থতার জন্য খেয়াল রাখুন ১৫ টি বিষয়
শীতে বাচ্চারা বেশি অসুস্থ হয় সেজন্য এই সময় যে কোন শিশুর কাশি জ্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। তাই আপনি আপনার বাচ্চাকে ডাক্তারের পরামর্শে প্রথমে নাকে ড্রপ দিন এবং যথেষ্ট গরম রাখার ব্যবস্থা করুন। বাচ্চাকে বুকের দুধ ও প্রচুর তরল খেতে দিন। যেসব শিশুর বেশি শ্বাসকষ্ট, শরীর কালো বা নীল হয়ে যাচ্ছে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) – বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা (Bacchader Saskosto)
Q1. বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে কি করব?
উত্তর: বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে সেটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বাড়িতে প্রাথমিক করণীয় –
- বাচ্চাকে কোলে নিয়ে কিছুটা উঁচুতে রাখুন, যেন শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
- বাচ্চার গায়ের পোশাক ঢিলেঢালা রাখুন।
- নাকে সর্দি থাকলে বাচ্চার নাক পরিষ্কার সুতি কাপড় বা নরমাল স্যালাইনের নাকের ড্রপ দিয়ে নক পরিষ্কার রাখুন।
- বাচ্চাকে বুকের দুধ অথবা কুসুম গরম খাবার বারবার খেতে দিন।
- ঘরের আলো বাতাস স্বাভাবিক রাখুন।
- বাচ্চার অবস্থা বেশি গুরুতর যেমন শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজর দেবে যাওয়া, বাচ্চা ছটপট করতে থাকা লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যান।
Q2. বাচ্চার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সময়কাল কত?
উত্তর: বাচ্চার বয়স অনুযায়ী প্রতি মিনিটে বাচ্চার স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের হার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে বাচ্চার বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের হার উল্লেখ করা হলো।
| ক্রমিক নং | বাচ্চার ধরন | বাচ্চার বয়স | প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার |
|---|---|---|---|
| ১ | নবজাতক (Infant) | (০-১) মাস | (৩০-৬০) বার |
| ২ | শিশু (Child) | (১-১২) মাস | (৩০-৫০) বার |
| ৩ | ছোট শিশু | (১-৩) বছর | (২২-৪০) বার |
| ৪ | প্রিস্কুল শিশু | (৪-৫) বছর | (২০-৩০) বার |
| ৫ | স্কুল বয়সী শিশু | (৬-১২) বছর | (১৮-২৫) বার |
Q3. বাচ্চার শ্বাসকষ্টের সীমা কত হলে ডাক্তার দেখানো উচিত?
উত্তর: শিশুদের বা বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টের সীমা অতিক্রম করলে তা বিপদ চিহ্ন হিসেবে ধরা হয় এবং সাথে সাথে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে অথবা হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। বাচ্চার শ্বাসকষ্টের সীমা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো –
| ক্রমিক নং | বাচ্চার বয়স সীমা | বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসের হার (মিনিটে) |
|---|---|---|
| ১ | ২ মাসের কম | ৬০ বার বা তার বেশি। |
| ২ | (২-১২) মাস | ৫০ বার বা তার বেশি। |
| ৩ | (১-৫) বছর | ৪০ বার বা তার বেশি। |
Q4. নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট বোঝার উপায় কি কি?
উত্তর: নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট বোঝার প্রধান উপায় গুলো হলো শিশুর বুকের খাঁচা ও পাঁজরের হাড় ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া, প্রতি মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি শ্বাস নেওয়া এবং নাকের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া।
আরো পড়ুন: শীতকালে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নিতে যে ১০টি কাজ করবেন
Q5. হাঁপানি বা অ্যাজমা কি ছোঁয়াচে রোগ?
উত্তর: না। হাঁপানি বা এজমা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে হাঁচি, কাশি, স্পর্শ বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমে কখনোই ছড়ায় না।
Q6. বাচ্চাদের হাঁপানি বা অ্যাজমা কেন হয়?
উত্তর: বাচ্চাদের হাঁপানি বা শৈশবকালীন অ্যাজমার কোন একক সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বংশগত ও পরিবেশগত বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণের কারণে এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার কারণে সাধারণত অ্যাজমা বা হাঁপানি হয়ে থাকে।
উপসংহার: বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা (Bacchader Saskosto)
পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, শীতে বাচ্চারা একটু বেশি অসুস্থ হয় সেজন্য রাতে বাচ্চাকে ঘুমানোর সময় দেখবেন যাতে বাচ্চার গায়ে গরম কাপড় পরানো আছে কি নেই সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আমাদের আজকের বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা (Bacchader Saskosto) আর্টিকেলটি যারা মনোযোগ সহকারে পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন শিশুদের শ্বাসকষ্ট কেন হয় – বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে।
এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থেকে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের আজকের বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা (Bacchader Saskosto) আর্টিকেলটি পরে যদি আপনি উপকৃত হন তবে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। এবং এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।
লেখক পরিচিতি:

মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)


