৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name জেনে রাখুন। আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক আপনি কি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম, জ, ব, র, ম, হ, ত, ন ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম জানতে ইচ্ছুক?
Table of Contents
তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় আছেন। কেননা আজকে আপনাদের জানাবো, ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম এবং বাংলা জ, ব, র, ম, হ, ত, ন ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম, নামের অর্থ ও প্রশ্নোত্তর।
৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম
ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনেক সৌভাগ্যবান সাহাবী দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে যেমন পুরুষ সাহাবী ছিলেন তেমন মহিলা সাহাবীও ছিলেন।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত পুরুষ ও মহিলা সাহাবীগণ তাঁদের নিজ নিজ চরিত্র, ঈমান ও আত্মত্যাগের মহিমায় গুণান্বিত ও অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল সাঃ কখনোই নিজের মনগড়া কথা বলতেন না।
অর্থাৎ যখন তিনি কোন কথা বলতেন তখন মহান আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশেই বলতেন। তাই নবী করিম (সাঃ) বিভিন্ন প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলা সাহাবীর নাম বলেছেন যারা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আরো পড়ুন: Best 1650+ মেয়েদের ইসলামিক নাম সুন্দর অর্থসহ (সব অক্ষরে)
মহান আল্লাহ তায়ালার একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহাবীগণ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আকুন্ঠ আনুগত্য, নিবেদিত প্রাণ, ধৈর্য, ইবাদত, দান-সদকা এবং নীতি-নৈতিকতায় এমন উচ্চ পর্যায় পৌঁছে যান, যার কারণে দুনিয়াতেই তাঁদের জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
বেশ কয়েকজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্য থেকে শীর্ষ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করব। আজকে আমরা এই রকম সৌভাগ্যবতী ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের আদর্শ, অনুপ্রেরণা এবং পথ নির্দেশনার উজ্জ্বল সাক্ষী স্বরূপ তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানবো।
নিচে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৮ জন মহিলা সাহাবীদের নাম উল্লেখ করা হলো।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম জানার পর তাদের সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনে নেব। বিভিন্ন হাদিস থেকে যতদূর সম্ভব জানা যায়, উপরোক্ত ৮ জন সৌভাগ্যবতী মহিলা সাহাবী তাঁদের জীবদ্দশাতেই জান্নাতের বা বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
এই ৮ (আট) জন সৌভাগ্যবতী জান্নাতি নারীদের মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম প্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সুসংবাদ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জানিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন আদেশ দ্বারা প্রমাণিত। তাহলে এখন চলুন ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১। হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)
পরিচিতি: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের মধ্যে প্রথমে আমরা হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ রা: সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)।
তিনি ছিলেন খুয়াইলিদ এর কন্যা এবং প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম ও সবচেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী। হযরত খাদিজা ছিলেন আল্লাহ তাঁর রাসূল সাঃ এর প্রতি ঈমান ও সমর্থন করা প্রথম মানুষ, যিনি নারী-পুরুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমানদার মানুষ।
অর্থাৎ তিনি নারী এবং পুরুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সেই সময় আরব দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আল্লাহ ও নবীজির প্রতি ঈমান এনে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ব্যাপকভাবে আর্থিক ও মানসিক সমর্থন যুগিয়েছিলেন।
এজন্য তাকে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম নারীদের একজন বলা হয়ে থাকে। তিনি জীবিত থাকতেই জিব্রাইল আঃ এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
হযরত আবু হুরায়রা রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন হযরত জিব্রাইল আঃ আল্লাহর রাসূল সাঃ এর নিকট এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাঃ! এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি খাবার পাত্র রয়েছে, যেটিতে তরকারি বা খাবার বা পানীয় রয়েছে।
তিনি আপনার নিকট এসে পৌঁছালে তাঁকে তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে বেহেশতে একটি বাঁশের ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোন কষ্ট কিংবা কোলাহল থাকবে না। (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)
এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত খাদিজা রা. কে সম্মানিত করেন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আর এ থেকেই আমরা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকায় রাসূল সা: পত্নী হযরত খাদিজা রা: এর নাম জানতে পেরেছি।
২। হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)
পরিচিতি: দুনিয়াতে জীবিত অবস্থা থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকায় বিশিষ্ট সাহাবী ও প্রিয় নবী সা: এর সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী হযরত আয়েশা রা: এর নাম জানতে পেরেছি।
হযরত আয়েশা ছিলেন ইসলামের প্রধান চারজন খলিফার মধ্যে প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) এর কন্যা এবং প্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বকনিষ্ঠ প্রিয়তমা স্ত্রী।
হযরত আয়েশা রা. এর পিতা আবু বকর (রা.) প্রথম পুরুষ মানুষ হিসেবে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ প্রতি ঈমান এনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেরাজ গমনের খবর সর্বপ্রথম বিশ্বাস করেছিলেন এজন্য তাঁকে ‘সিদ্দিক বা বিশ্বাসী’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্যে আরও একজন হলেন হযরত আয়েশা রা., যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিক সময় স্ত্রী হিসেবে কাটিয়েছেন। জান্নাতের সুসংবাদ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন।
হযরত জিবরাঈল আঃ একদিন একটি সবুজ রঙের রেশমি কাপড় পরে তাঁর (হযরত আয়েশা রা:) এর প্রতিচ্ছবি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়ে বলেন – ইনি (হযরত আয়েশা রা:) দুনিয়া এবং আখিরাতে আপনার স্ত্রী। (সহিহ বুখারী)
অর্থাৎ তিনি (হযরত আয়েশা রা:) তাঁর জীবদ্দশাতেই হযরত জিব্রাইল আ: এর মাধ্যমে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাভুক্ত হন।
৩। হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.)
পরিচিতি: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকার মধ্যে আরও একটি নাম হলো হযরত সুমাইয়া রা.। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ এবং প্রথম নারী শহীদ। তিনি একজন হাবসি কৃষ্ণাঙ্গ দাসী, বর্তমান ইথিওপিয়া এর অধিবাসী ছিলেন।
ইসলামে প্রথম যে ৭ জন প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ঘোষণা দেন তাদের মধ্যে হযরত সুমাইয়া রা. একজন। তিনি ইসলামের প্রথম ভাগেই স্বামী ইয়াসির এবং ছেলে আম্মার গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
এর ফলে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে আবু জেহেলের কুরাইশ বংশের লোকজন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, এই নির্মম অত্যাচারের সময়েই হযরত সুমাইয়া রা., তাঁর স্বামী ইয়াসির এবং ছেলে আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন অর্থাৎ শহীদ হন।
যতদূর জানা যায়, ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের চিরশত্রু আবু জেহেল সন্ধ্যায় হযরত সুমাইয়া রা. কে অকথ্য-অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার একপর্যায়ে বর্শা ছুড়ে তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত করলে তিনি শহীদ হন।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের মধ্যে আর একজন হলেন হযরত সুমাইয়া রা. তিনি উম্মে আম্মার নামেও পরিচিত। মক্কার আবু জাহেল ও তার কুরাইশ বংশের লোকেরা হযরত সুমাইয়া রা এর পরিবারের সকলকে লোহার বর্ম পরিয়ে মক্কার আল-বাতহা মরুভূমির প্রচন্ড রোদে দাঁড় করিয়ে রাখত।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, একদিন রাসূল সাঃ যাত্রা পথে সুমাইয়ার পরিবারকে শাস্তি দিতে দেখেন এবং তাদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওসমান ইবনে আফনান নিজেও সুমাইয়ার পরিবারের উপর অত্যাচারের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অত্যাচারিত অসহায়ত্ব অবস্থা দেখে বলেন – ‘ হে ইয়াসিরের (সুমাইয়ার স্বামী) পরিবারবর্গ ধৈর্য ধরো, তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত রয়েছে’।
তখন হযরত সুমাইয়া রা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতেন – ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আমি জান্নাতের সুগন্ধ এই তপ্ত মরুভূমির বুকেই শুয়ে পাচ্ছি’। (সূত্র: উইকিপিডিয়া; সীরাতে ইবনে হিশাম)
আরো পড়ুন: সুমাইয়া নামের অর্থ কি? Sumaiya Namer Ortho Ki 2026
৪। হযরত হাফসা বিনতে ওমর (রা.)
পরিচিতি: জীবদ্দশাতে যে ৮ জন সৌভাগ্যবতী মহিলা সাহাবী জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন হলেন হযরত হাফসা (রা.)। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রা এর সুযোগ্য কন্যা এবং আমাদের প্রিয় নবী ও রাসুল সাঃ এর অন্যতম সম্মানিত স্ত্রী।
তিনি ‘উম্মুল মু’মিনিন‘ বা ‘বিশ্বাসীদের মা‘ হিসেবে পরিচিত। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের ৫ বছর আগে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্ত, শিক্ষা এবং ধর্মভীরতায় অনন্য ছিলেন।
হযরত হাফসা (রা.) এর প্রথম স্বামী ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সাহসী সাহাবী খুনাইস (রা.) এবং তারা দুজনেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু ওহুদের যুদ্ধে হযরত হাফসা (রা.) এর স্বামী খুনাইস (রা.) গুরুতর আহত হন এবং পরে শহীদ হন।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে হযরত হাফসা (রা.) বিধবা হওয়াই পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেন।
হযরত হাফসা (রা.) খুবই বুদ্ধিমতী এবং আরবের অল্প কয়েকজন স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন নারীদের মধ্যে একজন। আবু বকরের খিলাফতের সময় সাহাবী জায়েদ ইবনে সাবিত কে আল কুরআন কে গ্রন্থাগার হিসেবে সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সংকলিত কোরআন শরীফটি হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়। তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমানের খেলাফত কালে হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষিত কোরআন শরীফ থেকে প্রামাণ্য ধরে আরো কপি তৈরি করা হয়।
কিন্তু কোন এক কারণে রাসূলুল্লাহ সাঃ একবার হযরত হাফসা (রা.) কে তালাক দিয়েছিলেন। তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল আঃ এসে রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলেন, ‘হযরত হাফসা (রা.) প্রচুর রোজা রাখেন এবং নামাজ আদায় করেন। তিনি আপনার জান্নাতের স্ত্রী এবং তাঁকে ফিরিয়ে নিন’। (মুস্তাদরাক হাকিম)
আর এভাবেই মহান আল্লাহ তা’আলা জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে হযরত হাফসা (রা.) কে ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও নিবেদিত প্রাণের জন্য তাঁর জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। এ থেকে আমরা হযরত হাফসা রা: এর নাম জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকায় জানতে পারি।
৫। হযরত ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)
পরিচিতি: আখেরি জামানার শেষ নবী ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজা (রা.) দম্পতির এর কনিষ্ঠ সর্বাপেক্ষা প্রিয় কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.) দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত আলী (রা.) এর সহধর্মিনী এবং ইমাম হাসান-হুসাইন (রা.) এর মাতা।
হযরত ফাতিমা (রা.) কে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকার প্রমাণ হিসেবে ‘সাইয়্যেদাতুন নিসা আল-জান্নাহ’ বা বেহেশতের নারীদের নেত্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
অন্য এক হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাঃ বলেছেন “মরিয়ম, ফাতিমা, খাদিজা এবং আসিয়া – এই ৪ জন নারী হচ্ছে যুগ অনুসারে জান্নাতের নারীদের নেত্রী”।
হযরত হুজাইফা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন – “এমন একজন ফেরেশতা যিনি কখনো পৃথিবীতে আসেননি, তিনি আমাকে সালাম দিয়ে জানিয়েছেন, ফাতিমা জান্নাতের নারীদের নেতা এবং তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান-হোসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা”।(সুনানে তিরমিজি)
হযরত ফাতিমা (রা.) এর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর উপর ঈমান এনে এবং চরম দুঃখ-দুর্দশা ও দারিদ্র্যতায় নিমজ্জিত থাকার পরেও ইসলামের প্রতি আকুন্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাভুক্ত হন।
৬। হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)
পরিচিতি: হযরত আসমা (রা.) ছিলেন ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়নকারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ তম ব্যক্তি।
তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর কন্যা। তিনি এমন একজন সৌভাগ্যবতী নারী ছিলেন যার পিতা, পিতামহ, বোন, পুত্র এবং স্বামী সকলেই রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিশিষ্ট সাহাবী ছিলেন।
আর তাঁর স্বামী রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জুবায়ের ইবনুল আউয়াম রা. ছিলেন ১০ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের একজন। তিনিই সর্বপ্রথম আব্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের নামে মুসলমান শিশুর জন্ম দেন।
ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আসমা (রা.) এর পিতা হযরত আবু বক্কর রা. হিজরতের সময় রাতের বেলায় থলিতে কিছু পাথেয় খাবার এবং মশকে পানি গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু থলির মুখ বাঁধার জন্য কোন দড়ি বা রশি খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এমন সময় হযরত আসমা (রা.) নিজেই তাঁর কোমরের নিতাক বা বন্ধনী খুলে দুই টুকরো করে কেটে এক টুকরো দ্বারা থলির মুখ বেঁধে দিলেন এবং অন্য টুকরো দিয়ে মশকের মুখ বেঁধে দিলেন।
তাঁর এ নিঃস্বার্থ সহযোগিতা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ‘জাতুন নিতাকাইন’ অর্থাৎ দু’টি কোমর বন্ধনীর অধিকারিনী বলে সম্বোধন করলেন। এরপর তিনি মহান আল্লাহর দরবারে হযরত আসমা রা. এর জন্য দোয়া করেছিলেন – ‘হে আল্লাহ! এর বিনিময়ে জান্নাতে তাঁকে দুটি নিতাক দান করুন’।
আর এভাবেই হযরত আসমা (রা.) ‘জাতুন নিতাকাইন‘ উপাধি লাভ করেছিলেন এবং জীবদ্দশাতেই মহিলা সাহাবী হিসেবে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন।
৭। হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)
পরিচিতি: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত 8 জন মহিলা সাহাবীদের একজন ছিলেন হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)। তিনি ছিলেন নারী সাহাবা উম্মে সুলাইমের বোন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালা।
হযরত উম্মে হারাম (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম মুসলিম নৌ যোদ্ধা নারী। সৌদি আরবের মদিনায় জন্মগ্রহণ করা এই নারী সাহাবীর কবর ইউরোপের সাইপ্রাসে অবস্থিত।
মুসলিম বাহিনীর প্রথম নৌ অভিযানে উম্মে হারাম (রা.) তার স্বামী উবাইদা ইবনে সামিত রা. এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু মুসলিম বাহিনী কোন যুদ্ধ ছাড়াই সাইপ্রাসে বিজয় লাভ করেন।
বিজয়ের পর মুসলিম বাহিনী বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমন সময় একদিন উম্মে হারাম (রা.) তার নিজস্ব ঘোড়া থেকে পড়ে যান এবং ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত পান। সেই আঘাতের ফলে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং রাসূল সাঃ এই মৃত্যুকে শহীদের সাথে তুলনা করেছেন। (সহিহ বুখারী: হাদিস – ২,৭৮৮ ও ৭,০০২)
উম্মে হারাম (রা.) এর মৃত্যুর পূর্বে কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাঁর খালা উম্মে হারাম (রা.) কে জীবিত থাকা অবস্থায় শাহাদাতের সুসংবাদ দেন। ফলে উম্মে হারাম (রা.) জীবিত থাকা অবস্থায় ‘নারী শহীদ‘ বা ‘শহিদা‘ উপাধি লাভ করেন এবং তিনি জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাভুক্ত হন।
কেউ কেউ তাঁকে এই নামে ডাকতেন। (সূত্র: ডাঃ আব্দুল মাবুদ; আসহাবে রাসূলের জীবন কথা: ৬/১৫১)
৮। হযরত উম্মে সুলাইম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.)
পরিচিতি: হযরত উম্মে সুলাইম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) বা হযরত রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন বিশিষ্ট মহিলা সাহাবী। তিনি বিখ্যাত সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এর আম্মা ছিলেন।
উম্মে সুলাইম (রা.) অত্যন্ত বিচক্ষণ, জ্ঞানী মহিলা ছিলেন এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের সেবায় নিজের জীবন, সন্তান ও পরিবার সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর প্রথম স্বামী মালিক বিন নজর এর ইসলাম গ্রহণে অসন্তুষ্ট হয়ে শ্যাম দেশে চলে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রথম স্বামীর ঔরসে বিখ্যাত ও বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস রা. এর জন্ম হয়।
আরো পড়ুন: ২০২৭ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ Eid ul Adha কবে?
উম্মে সুলাইম (রা.) এর প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর আবু তালহা নামে একজন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তখন আবু তালহা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। তাই উম্মে সুলাইম (রা.) তাঁকে বিয়ের মোহরানা হিসেবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বলেন।
পরবর্তীতে আবু তালহা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একজন বিশিষ্ট সাহাবী হন। তাঁর এই যুগপৎ সিদ্ধান্ত ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
উম্মে সুলাইম (রা.) ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকার মধ্যে একজন, যিনি জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং গুণী নারী সাহাবী ছিলেন।
তিনি নিজের জীবন, সন্তান, স্বামী সবকিছু দিয়েই ইসলামের খেদমত করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ করেছেন, ‘ স্বপ্নে আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ কারো নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম।
আমি ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? ফেরেশতারা বললেন, ইনি হলেন উম্মে সুলাইম (রা.) যিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এর আম্মা। (সহিহ মুসলিম: ২,৪৫৬; মুসনাদে আহমদ: ১১,৯৫৫)
এছাড়া আরো জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবী ও নারীর নাম
- উম্মে আয়মান (বারাকা বিন সালাবা) (রা.): তিনি রাসুল সাঃ এর শৈশবে সেবিকা ছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
- সাফিয়া বিনতে আব্দুল মোতালেব (রা.): তিনি রাসূল সাঃ এর আপন ফুফু ছিলেন এবং বিভিন্ন যুদ্ধে ঈমানের সাথে সাহসিকতা প্রদর্শন করেন।
- হযরত মরিয়ম (আঃ): একজন পবিত্র নারী এবং হযরত ঈসা আঃ এর আম্মা।
- হযরত আসিয়া (আঃ): তিনি ফেরাউনের স্ত্রী এবং ধৈর্যশীল নারী।

৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name এর তালিকা ও ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের অর্থ
| ক্রমিক নং | মেয়েদের ইসলামিক নাম | মেয়েদের ইংরেজি নাম | ইসলামিক নামের অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | খাদিজা রা: | Khadija R. | সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশু |
| ২ | আয়েশা রা: | Ayesha R. | সুখী জীবন যাপনকারী |
| ৩ | সুমাইয়া রা: | Sumya R. | উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, মহীয়সী |
| ৪ | ফাতিমা রা: | Fatima R. | দুধ ছাড়ানো শিশু, নিষ্পাপ, পবিত্র |
| ৫ | আসমা রা: | Asma R. | মহিমান্বিত, শ্রেষ্ঠ, সৌন্দর্য |
| ৬ | উম্মে হারাম রা: | Umme Haram R. | পবিত্র মায়ের মর্যাদা |
| ৭ | হাফসা রা: | Hafsa R. | তরুণ সিংহী, ছোট সিংহী |
| ৮ | উম্মে সুলাইম/(রুমাইসা) রা: | Umme Sulaim/(Rumaysa) R. | সুলাইম এর মা/(উজ্জ্বল নক্ষত্র) |
জ দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও ইংরেজি উচ্চারণ
আপনারা অনেকেই জ দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা জানতে চেয়ে থাকেন। আবার অনেক মহিলাদের মনে প্রশ্ন জাগে – জ দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম কি কি? তাই আপনাদের জন্য নিচে জ অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম উল্লেখ করা হলো।
- জাহরা বিনতে আবু উমায়ের (রা.) – Zahra Binte Abu Uayer
- জয়নাব বিনতে জাহশ (রা.) – Joynab Binte Jahosh
- জামিলা বিনতে সাবিত (রা.) – Jamila Binte Sabit
- জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস (রা.) – Zuwayria Binte Al Haris.
ব দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও ইংরেজি উচ্চারণ
আপনি কি ব দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও ইংরেজি উচ্চারণ খুঁজছেন? তাহলে নিচের লেখাটি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। কেননা আপনি এখানে ব দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা পাবেন। নীচে ব দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা উল্লেখ করা হলো।
- বুশরাহ বিনতে সাফওয়ান (রা.) – Bushrah Binte Safwan – অর্থ: সুসংবাদ
- বারীরাহ (রা.) – Barirah – অর্থ: পূণ্যবতী
- বাহিয়্যাহ বিনতে বুসর (রা.) – Bahiyah Binte Busor – অর্থ: সুন্দর ও আকর্ষণীয়
- বারাকাহ বিনতে ইয়াসার (রা.) – Barakah Binte Yasar – অর্থ: বরকত, প্রাচুর্য
- বারযাহ (রা.) – Barzah – অর্থ: হাদিস বর্ণনাকারী।
র দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা
আপনি যদি র দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় আছেন। আপনি আপনার নবজাতক কন্যা শিশুর জন্য বাংলা র অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের সাথে মিল রেখে নাম রাখতে চাইলে নিচের তালিকা থেকে যেকোনো একটি সুন্দর নাম পছন্দ করে নিন।
| ক্রমিক নং | মেয়েদের ইসলামিক নাম | মেয়েদের ইংরেজি নাম | ইসলামিক নামের অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | রাহিমা (রা.) | Rahima | ধৈর্যশীল |
| ২ | রায়তা বিনতে তালিব (রা.) | Rayta Binte Talib | গোলাপ ফুল |
| ৩ | রুবাবা (রা.) | Sumya | উচ্চ মর্যাদাশীল |
| ৪ | রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) | Rumaysa Bintr Milhan | ফুলের তোড়া, উজ্জ্বল নক্ষত্র |
| ৫ | রুকাইয়া (রা.) | Rukaya | মন্ত্র, ঝাড়ফুঁক |
| ৬ | রুফাইদা (রা.) | Rufaida | সহায্যকারী, দান |
| ৭ | রাবেয়া (রা.) | Rabeya | নিঃস্বার্থ |
| ৮ | রুবাইয়া (রা.) | Rubaya | একটি ফুল |
| ৯ | রিহানা (রা.) | Rihana | সুগন্ধি ফুল |
ম দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা
ম দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো। আপনি যদি ম অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের সাথে মিল রেখে আপনার কন্যা শিশুর নাম রাখতে চান তবে নিচের তালিকা থেকে দেখে নিতে পারেন।
- মুলাইকা বিনতে কাব (রা.) – Mulayka Binte K’ab
- মায়মুনাহ বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.) – Maimunah Binte Abu Sufian
- মারিয়া কিবতিয়া (রা.) – Mariya Kibtia
- মাইমুনা বিনতে হারিস (রা.) – Maimuna Binte Haris.
আরো পড়ুন: ম দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নামের তালিকা সুন্দর অর্থসহ
- উম্মে মাহজান (রা.) – Umme Mahjan
- উম্মে মুবাশশির (রা.) – Umme Mubashsir
- উম্মে মারজাম (রা.) – Umme Marjam
- উম্মে মাবাদ (রা.) – Umme Ma’bad
হ দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা
আপনি যদি হ দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা খুঁজে থাকেন তাহলে আপনার জন্য নিচে দেওয়া হল। আশা করি আপনি এখান থেকে আপনার কন্যার জন্য হ অক্ষর দিয়ে একটি সুন্দর অর্থবাচক নাম পছন্দ করে নিতে পারবেন।
| ক্রমিক নং | মেয়েদের ইসলামিক নাম | মেয়েদের ইংরেজি নাম | ইসলামিক নামের অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | হাবিবা বিনতে উবাইদিল্লাহ (রা.) | Habiba Binte Ubaidillah | প্রিয়তমা, প্রেমিকা |
| ২ | হিন্দ বিনতে আমর (রা.) | Hind Binte Amr | হরিণী |
| ৩ | হানিয়াহ বিনতে জাহশ (রা.) | Haniya Binte Jahos | আনন্দিত |
| ৪ | হালিমাহ বিনতে আবি জুবাইব (রা.) | Halima Binte Abi Jubaib | ধৈর্যশীল |
| ৫ | হাফসা বিনতে উমর (রা.) | Hafsa Binte Umar | সিংহী |
ত দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা
প্রিয় পাঠক আপনি যদি ত দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা খোঁজ করে থাকেন তাহলে নিচের তালিকা থেকে দেখে নিন। আপনি আপনার নবজাতক কন্যা শিশুর জন্য বাংলা ত অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের সাথে নাম মিল রেখে রাখতে পারেন।
আরো পড়ুন: Best 215+ ত দিয়ে মেয়েদের সুন্দর ইসলামিক নামের তালিকা অর্থসহ
| ক্রমিক নং | মেয়েদের ইসলামিক নাম | মেয়েদের ইংরেজি নাম | ইসলামিক নামের অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | তাহিরা | Tahira | পবিত্র, নিষ্পাপ |
| ২ | তাইয়্যেবা | Tayeba | পবিত্র, উত্তম |
| ৩ | তাজ | Taz/Taj | মুকুট |
| ৪ | তাকিয়া | Taqiya | ধার্মিক |
| ৫ | তুওয়াইলা | Tuwayla | ছোট, সংক্ষিপ্ত |
ন দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা
আপনাদের জন্য ন দিয়ে মহিলা সাহাবীদের ইংরেজি উচ্চারণ সহ নামের তালিকা দোয়া হল। আপনি যদি আপনার কন্যা শিশুর জন্য বাংলা ন অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নামের সাথে মিল রেখে রাখতে চান তাহলে নিচের দুটি নামের মধ্যে দেখুন একটি নাম রাখতে পারেন।
- নুসাইবা বিনতে আল হারিস (রা.) – Nusaiba Binte Ali Haris – অর্থ: সাহসী (আল হারিসের কন্যা নুসাইবা)
- নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.) – Nusaiba Binte Ka’ab – অর্থ: সাহসী বা মহান (কা’ব এর কন্যা নুসাইবা)।
FAQ (প্রশ্নোত্তর): ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম
উত্তর: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত নারী হলেন যেমন আসিয়া রা:, মরিয়ম রা: এবং সাহাবী নারী হলেন খাদিজা রা: এবং ফাতিমা রা: ইত্যাদি। সাহাবী নারীগণ মহানবী সাঃ এর দ্বীন ইসলাম প্রচারের সফর সঙ্গী ছিলেন। কিন্তু হযরত আসিয়া রা: এবং হযরত মরিয়ম রা: আমাদের মহানবী সা: এর দ্বীন ইসলাম প্রচারের সঙ্গে ছিলেন না অর্থাৎ তাঁরা নারী সাহাবী নন।
তাঁদের মধ্যে ২ জন খাদিজা রা: এবং ফাতিমা রা: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাভুক্ত। কিন্তু উপরের ০৪ (চার) জনই তাঁদের জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
সর্বশেষ কথা – ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমরা ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন। অনেকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের সাথে মরিয়ম রা: এবং আসিয়া: কে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন।
কিন্তু সাহাবী হিসেবে নয় বরং তাঁরা সম্মানিত নারী হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। একমাত্র মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংস্পর্শে ও সান্নিধ্যে যাঁরা ছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেবল তাঁরাই নারী সাহাবী হিসেবে পবিত্র জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
আশা করি, আজকের ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name লেখাটি আপনার ভালো লেগেছে। আমি অনেক ইসলামিক বই এবং ইন্টারনেট সার্চ করে নির্ভুলভাবে নামগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
তারপরও লেখার মধ্যে কোনরকম ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল। আজকের “আজকের ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name” লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ।
আজকের ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম | Jannater Susangbadprapto Mohila Sahabider Name এই রকম আরো ভালো ভালো লেখা পেতে আমাদের “AJKER GUIDE” ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)


