শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua
By
/
শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua সম্পর্কে জানতে আপনি কি বিশেষ ভাবে আগ্রহী? আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক আপনি কি শবে কদরের রাতের দোয়া, লাইলাতুল কদরের দোয়া ও জিকির, শবে কদরের দোয়া ও আমল, শবে কদরের দোয়া কখন পড়তে হয়, লাইলাতুল কদরের দোয়া আরবি, শবে কদরের দোয়া বাংলা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান?
Table of Contents
শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua সম্পর্কে জানতে আপনি কি বিশেষভাবে আগ্রহী? শবে কদরে বা লাইলাতুল কদরের যে দোয়া পড়তে হয় সে সম্পর্কে জানতে হলে আজকের “শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua” শিরোনামের লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইল।
কেননা আজকে আপনাদের জন্য শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।
শবে কদরে এই ১০টি দোয়া অবশ্যই পড়া উচিত
আজকে আপনাদের জানাবো ‘শবে কদরে এই ১০টি দোয়া’ যেটি শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাতে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম নর-নারীর ভক্তি সহকারে অবশ্যই পড়া উচিত। শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ রাত, যে মাসের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
এই রাতেই মুসলিমদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন নাযিল হয়েছিল এবং এটি একটি বান্দার ভাগ্য নির্ধারণের বিশেষ রাত হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশেষ এ রাতে ইবাদত, আল কুরআন তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য, ক্ষমা ও রহমত পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। তাহলে চলুন এই বিশেষ রজনী লাইলাতুল কদর বা শবে কদরে ১০টি বিশেষ দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১। শবে কদরের প্রধান দোয়া (হাদিস অনুযায়ী)
শবে কদরের রাত বা লাইলাতুল কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। বিশেষ এই রাতের ইবাদত-দোয়া কবুল হয়, গুনাহ সমূহ মাফ হয় এবং বান্দার তকদির বা ভাগ্য লেখা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের শেষ ১০ দিন এই বিশেষ শবে কদর বা লাইলাতুল কদর রাত তালাশ করার জন্য ইতিকাফ করতেন এবং সারারাত ইবাদত বন্দেগী ও দোয়া করতেন। আর তিনি শবে কদরের যে বিশেষ দোয়া পড়তেন তা হলো –
হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হে আল্লাহর রাসূল সা., আমি যদি জানতে পারি যে কোন রাতে শবে কদর/লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কোন দোয়া পড়বো? তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি বলবে – اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা আফু আননি)। তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫১৩
শবে কদর/লাইলাতুল কদরের রাত নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বিজয় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর নিহিত রয়েছে। সুতরাং রমজান মাসের শেষ ১০ দিন-রাত বেশি বেশি এই দোয়া পড়া উচিত। বিশেষ এই দোয়াটি হাঁটা-চলা কিংবা নামাজের পর যে কোন সময় পড়া উচিত।
২। শবে কদরের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
শবে কদরের রাতে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুমিনের উচিত দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা। যেন ইহকাল এবং পরকাল দুটোই স্বস্তিদায়ক হয়। তাই শবে কদরের রাতে নিচের দোয়াটি বারবার পড়া উচিত। দোয়াটি হলো –
হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন। (সূরা আল বাকারা: ২০১)
হযরত আনাস রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বেশি এই দোয়াটিই পড়তেন। এটি ছিল তাঁর সবচেয়ে বেশি দোয়া পড়া গুলোর মধ্যে একটি। (সহি বুখারী: ৪৫২২)
সুতরাং শবে কদর/লাইলাতুল কদরের রাতে আমরা বেশি বেশি এই দোয়াটি মহান আল্লাহর কাছে অতি ভক্তি সহকারে করে দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণ কামনা করব। মহান আল্লাহ তা’আলা যেন আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে ক্ষমা করে দেন।
৩। শবে কদরে হযরত আদম আ. এর ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া
শবে কদরের সারারাত ইবাদত বন্দেগী, কোরআন তেলাওয়াত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে দোয়া করা উচিত। এ রাতে আমরা আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আ. এর ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করব যেন মহান আল্লাহতালা হযরত আদম আ. কে যেমন ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, আমাদেরকেও যেন তিনি (আল্লাহ) আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন। দোয়াটি হল-
হে রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো। (সূরা আল আরাফ: ২৩)
৪। শবে কদরে ইস্তিগফারের দোয়া
শবে কদরের রাত হলো মহান আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা পাওয়ার সেরা সুযোগ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়াটি পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন, মহান আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন; যদিও তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৭)
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব এবং সর্বসত্তার ধারক; তার কাছে তওবা করছি।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং অধিক সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদতে দাঁড়ায়, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহীহ বুখারী: ১৯০১)
৫। শবে কদরে জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
শবে কদরে মহান আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করে থাকেন। আর মু’মিন ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর এ নেয়ামত সানন্দে গ্রহণ করা। জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়াটি হলো-
হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাত চাই; এবং আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে আবু দাউদ: ৭৯২)
পবিত্র রমজানের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তাই লাইলাতুল কদর রাতে এই দোয়াটি পড়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে বান্দাদের মুক্তি দেন’। সুনানে আত্ম তিরমিজি ৬৮২
মহান আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর/সকল কদরের রাতে বান্দাদের হেদায়েত দান করেন এবং রহমত দান করে থাকেন। তাই এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহ তা’আলার হেদায়েত এবং রহমত পাওয়ার আশায় দোয়া প্রার্থনা করে থাকেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহতালা আল কোরআনের সূরা ইমরানে উল্লেখ করেন একটি বিশেষ আয়াত/দোয়া। দোয়াটি হলো-
হে রব! আমাদের হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না। আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর দাতা। (সূরা আল ইমরান: ৮)
মহান আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও ঈমানের দৃঢ়তার দোয়া চাওয়া আমাদের মুসলিম হিসেবে অবশ্য কর্তব্য। এই দোয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। কারণ বান্দা তার রবের নিকট হেদায়েতের মধ্যে থাকা সবচেয়ে বড় নেয়ামত। লাইলাতুল কদরের রাতে এই বিশেষ দোয়া করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ঈমানের দৃঢ়তা পেতে প্রত্যেক মু’মিন নর-নারীর উচিত।
৭। লাইলাতুল কদরে শিরক থেকে মুক্তির দোয়া
শবে কদরের দোয়া হিসেবে এবার আমরা শবে কদরে শিরক থেকে মুক্তির দোয়া সম্পর্কে জেনে নেব। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে যে কোন ইবাদত এবং দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম পূর্ব শর্ত হল শিরক থেকে নিজেকে রক্ষা করা। কেননা আল্লাহ সকল অপরাধ ক্ষমা করলেও বান্দার শিরক গুনাহ ক্ষমা করেন না।
শিরক হলো যেকোনো বস্তু বা মন্ত্রকে মহান আল্লাহ তায়ালার শরিক করানো, যা ক্ষমার অযোগ্য। তাই শিরক থেকে বাঁচার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হয় আর সেই উপায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দোয়াটি হলো –
হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে আপনার সঙ্গে শিরক করা থেকে আপনার কাছেই আশ্রয় চাই এবং আমার যা অজ্ঞাত তা থেকেও আপনার কাছে ক্ষমা চাই।
মা’কাল ইবনু ইয়াসার রা. বলেন, রাসূল সা. আবু বকর রা. কে বলেছেন, ‘হে আবু বকর! নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। সেই সত্তার শপথ-যার হাতে আমার প্রাণ, আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না, যা বললে শিরকের গল্প ও বেশি সবাই দূর হয়ে যাবে?’ (সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ: ৫৫১)
৮। শবে কদর দুশ্চিন্তা এবং কষ্ট থেকে মুক্তির দোয়া
শবে কদরের দোয়া হিসেবে আমরা দুশ্চিন্তাও কষ্ট থেকে মুক্তির দোয়া সম্পর্কে জেনে নেব। মানুষ পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে অনেক রকম দুঃখ ও কষ্ট পেয়ে থাকে। সেসব দিকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের সর্বদা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া প্রার্থনা করা উচিত যেন তিনি আমাদের সকল দুঃখ কষ্ট দূর করে দেন।
আর যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতে বান্দার সকল নেক দোয়া কবুল করে থাকেন তাই শবে কদরে/লাইলাতুল কদর রাতে আমাদের সকল চাওয়া পাওয়ার দোয়ার সাথে দুশ্চিন্তা, সমস্যা ও কষ্ট দূর করার দোয়া করা উচিত। নিচে দোয়াটি উল্লেখ করা হলো।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সকল দুশ্চিন্তা এবং দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ বুখারী: ৬৩৬৯)
শবে কদরের দোয়া
৯। শবে কদরে পিতা-মাতার জন্য দোয়া
শবে কদরের দোয়া হিসেবে আমরা লাইলাতুল কদরে পিতা মাতার জন্য দোয়া সম্পর্কে জেনে নেব। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আল কুরআনে তাঁর বান্দাদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর দোয়া প্রার্থনা শিখিয়ে দিয়েছেন।
আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সময় এই কোরআনের আয়াত ও সূরা থেকে মহান রবের নিকট প্রার্থনা করতেন এবং (তিনি আল্লাহ) তা কবুল করতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে আমাদের পিতা-মাতার জন্য দোয়া করার আয়াত ও সূরা নাযিল করেছেন।
আমরা শবে কদরের রাতে আমাদের পিতা-মাতার ইহকাল ও পরকালে মুক্তির জন্য জন্য নিচের দোয়াটি পড়বো।
শবে কদরে পিতা-মাতার জন্য দোয়া উচ্চারণ
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।
শবে কদরের পিতা-মাতার জন্য দোয়ার অর্থ
হে আমার রব! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছেন। (সূরা আল ইসরা: ২৪)
সুতরাং আমরা লায়লা লাইলাতুল কদর রাতে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের জীবিত অথবা মৃত পিতা-মাতার জন্য হাত তোলে দোয়া করব। আর মহান আল্লাহ যেন আমাদের পিতা-মাতার জন্য করা প্রার্থনা কবুল করেন এবং তাদেরকে সকল গুনাহ মুক্তি দেন।
১০। শবে কদরে জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া
মহান আল্লাহতালা আমাদের এলেম বা জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল কোরআনের সূরা ত্বা-হা এ একটি আয়াত নাজিল করেছেন। আমরা শবে কদরের/লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করব। বিশেষ করে যারা ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছেন তারা শুধু শবে কদর নয় সর্বদা এই দোয়াটি পাঠ করতে পারবেন। সে হিসেবে আমরা লাইলাতুল কদরের রাতেও জ্ঞান বৃদ্ধির নিচের দোয়াটি পড়ব।
শবে কদরের রাতে জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া উচ্চারণ
রাব্বি জিদনি ইলমা।
শবে কদরের রাতে জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া অর্থ
হে আমার রব! আমার জ্ঞান (ইলম) বাড়িয়ে দিন। (সূরা ত্বা-হা: ১১৪)
শবে কদরের রাতে দোয়া করার উত্তম সময়
মহান আল্লাহ তায়ালা শবে কদর/লাইলাতুল কদরের পুরো রাতই দোয়া করলে তা কবুল করে থাকেন। তবে কিছু কিছু সময় আছে যেগুলো কোরআন-হাদিস দ্বারা স্বীকৃত, যে সময়গুলোতে মহান আল্লাহ তা’আলা দোয়া কবুল করে থাকেন। সেরকমই দোয়া কবুল হওয়ার কিছু সময় নিচে উল্লেখ করা হলো।
আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া করুন
মহান আল্লাহ তা’আলা মাগরিব ও এশার আযানের পর ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া করলে তা ফেরত দেন না অর্থাৎ কবুল করেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না” (সুনান আবু দাউদ: ৫২১)
সুতরাং আমরা মাগরিবের ও রাত এস আর আজানের পর নামাজ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী পর্যন্ত মহান আল্লাহর দরবারে সকল নেক দোয়া ও প্রার্থনা করব। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর/শবে কদরের মাগরিব ও এশার আযানের ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি বেশি দোয়া প্রার্থনা করব। যেন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা দূর করে ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণ করেন।
নামাজের সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করুন
মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার সেজদা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। নামাজের সিজদার মাধ্যমে মহান আল্লাহর অতি নৈকট্য লাভ করা যায়। এ সময় আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন এবং বান্দার প্রার্থনা, আবদার কবুল করে থাকেন।
তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া প্রার্থনা করা উচিত। এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,” বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটে থাকে যখন সে সেজদারত থাকে। তাই সিজদায় বেশি বেশি দোয়া প্রার্থনা করো”। (সহিহ মুসলিম: ৪৮২)
লাইলাতুল কদর/শবে কদর রাতে ফরজ ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজের সেজদা গুলোতে সবচেয়ে বেশি দোয়া প্রার্থনা করব যেন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর খুশি হয়ে সন্তুষ্ট হন। আর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র কাম্য।
রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করুন
মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার আরো একটি উৎকৃষ্ট সময় হলো রাতের শেষ অংশ। কেননা এ সময় মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর নিকটতম আসমানে আসেন এবং বলেন-
“কে আমাকে ডাকবে- আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে- আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা/মাফ চাইবে- আমি তাকে ক্ষমা/মাফ করে দেব”। (সহিহ বুখারী: ১১৪৫)
শবে কদর/লাইলাতুল কদর শেষ রাতের সময় তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সময় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া-প্রার্থনা করার অতি উত্তম সময়। এসময় আমরা নামাজের সেজদায় এবং নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে খাস দিলে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করব।
রমজানে ইফতারের সময় দোয়া করুন
মহান আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময় করা দোয়া ও প্রার্থনা কবুল করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তিনটি দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না: রোজাদারের ইফতারের সময় দোয়া, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া এবং নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া”। (সুনান আত-তিরমিজি: ৩৫৯৮)
সুতরাং রমজান মাসে ইফতারের সময় সামনে ইফতার রেখে দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি নেক দোয়া করুন, যেন মহান আল্লাহতালা সকল গুনাহ মাফ করে দেন। শবে কদর/লাইলাতুল কদর নিহিত রমজানের শেষ দশকে ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি দোয়া করুন।
বৃষ্টি হওয়ার সময় দোয়া করুন
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দুটি সময়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করলে তা প্রত্যাখ্যান হয় না: আজানের সময় দোয়া এবং বৃষ্টির সময় দোয়া”। (মুস্তাদরাক আল-হাকিম: ২৫৩৪)
তাই আকাশ থেকে বৃষ্টি হওয়ার সময় আমরা মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি নেক দোয়া ও প্রার্থনা করব যেন তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে রহমত দান করেন। আর লাইলাতুল কদর/শবে কদর রাতে বৃষ্টি হলে সেটি আরো বিশেষ মুহূর্ত। ইসলামিক স্কলারদের মতে, লাইলাতুল কদর/শবে কদর রাত অনুমান করার আরো একটি লক্ষণ হলো সেই রাতে হালকা বৃষ্টি বা মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
প্রত্যেক নামাজের পর দোয়া করুন
দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে দোয়া করা অতি উত্তম। কারণ মহান আল্লাহর সাথে বান্দার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নামাজের মধ্যেই ঘটে আর তারপর আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে নিশ্চয় তা ফেরত দেবেন না। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর/শবে কদর রাতে এশার ও তাহাজ্জুদ নামাজের পর বেশি বেশি দোয়া করুন।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) – শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua
Q1. শবে কদর অর্থ কি?
উত্তর: শবে কদর হলো ফারসি শব্দ যার অর্থ “মর্যাদার রাত” বা “সম্মানিত রাত”। অর্থাৎ শব অর্থ রাত এবং কদর অর্থ মর্যাদা বা সম্মান। শবে কদরকে আরবিতে লাইলাতুল কদর বলে, যার অর্থও হলো মর্যাদার রাত বা সম্মানিত রাত।
Q2. লাইলাতুল কদর/শবে কদরের রাত কবে?
উত্তর: ২০২৭ সালের লাইলাতুল কদর/শবে কদরের রাত রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের যেকোন বিজোড় রাত। তবে ২৭ রমজান রাতকেই অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ “লাইলাতুল কদর/শবে কদরের রাত” মনে করে থাকেন। সে হিসেবে ২০২৭ সালের লাইলাতুল কদর/শবে কদরের রাত হলো ৭ মার্চ, রবিবার।
উত্তর: শবে কদরের দোয়া মাগরিবের পর থেকে ভোর রাতের ফজর নামাজ পর্যন্ত পড়তে হয়। তবে তাহাজ্জুদের নামাজের সময়, সিজদায়, আজান ও ইকামতের মাঝে পড়া উত্তম। পুরো রমজান মাস পড়লেও সমস্যা থাকার কথা না।
Q5. শবে কদরে কি অন্যের জন্য দোয়া করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ যাবে।
সর্বশেষ কথা – শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আপনারা ভালোভাবে লেখাটি পড়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন।
রোজা মহান আল্লাহ তায়ালার দেওয়া তার বান্দার প্রতি এক বিশেষ নেয়ামত যার গুরুত্ব এবং ফজিলত অত্যন্ত বেশি। শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাতকে শক্তির রাত হিসেবেও মনে করা হয়।
এ মাসেই লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক। এই একটি রমজান মাসের রোজার জন্য সমগ্র মুসলিম জাতি সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন।
তাই ২০২৭ সালের রমজান মাস কত তারিখ থেকে শুরু হবে সে বিষয়েও বেশ উদ্বিগ্ন এবং এক্সাইটেড থাকেন। সুতরাং ২০২৭ সালের রোজা ৮ অথবা ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের লাইলাতুল কদর/শবে কদরের রাত হলো ৭ মার্চ, রবিবার। ইনশাআল্লাহ।
যেহেতু ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি উৎসব এবং ইবাদত চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালনের তৌফিক দান করুন এবং সকল গুনাহ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমীন।
এতক্ষণ শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর শবে কদরের দোয়া এই ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত | লাইলাতুল কদর Shab e Qadr Dua লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো যেন অন্যেরাও উপকৃত হতে পারেন। এরকম আরো ভালো ভালো লেখা পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।
লেখক পরিচিতি:
মোহাঃ গোলাম কবির বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। (বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)